লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে তিন খুন: ময়নাতদন্তে নৃশংসতার চিত্র, অভিযুক্ত বাবুল কারাগারে

সিলেট নগরের রায়নগরে দম্পতি ও গৃহকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নিহতদের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে গৃহকর্মী তাহমিনার শরীরে ১৭ থেকে ১৮টি ছুরিকাঘাতের দাগ রয়েছে।

ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সুরাইয়া বেগমের (৭২) ডান হাতের চারটি আঙুল কাটা ছিল এবং তার শরীরেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। তার স্বামী ৮২ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তারের গলা ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে এই তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহভাজন হিসেবে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা মৃত নূর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির জানান, নিহত দম্পতির ছেলে দেশে ফেরার পর শুক্রবার এই ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হতে পারে।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা ছোরা বৃহস্পতিবার সকালে রায়নগরের একটি খালি জায়গা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এটি উদ্ধার করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ছোরাটি ফরেনসিকে পাঠানো হবে এবং এর রক্তের সাথে ঘটনাস্থলের রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও জানান, বাসার বেসিন, হাত ধোয়ার স্থান, ছোরার ধাতব অংশ এবং একটি ব্যাগে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়েছেন বাবুল মিয়া। তিনি ওই বাসায় রঙের কাজ করার সুবাদে গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) সাথে পরিচিত হন। তাহমিনার কোনো আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় গৃহকর্মীকে বাঁচাতে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয়। সবশেষে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বাবুল। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের দরজার নিচের ছোট ছিটকানিটি ভাঙা ছিল এবং বারান্দার রেলিংয়ে হাত ও পায়ের ছাপ এবং নিচে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধান সংশোধন কমিটির চতুর্থ বৈঠকে সাংবাদিকদের মতামত গ্রহণ

সিলেটে তিন খুন: ময়নাতদন্তে নৃশংসতার চিত্র, অভিযুক্ত বাবুল কারাগারে

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:২৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

সিলেট নগরের রায়নগরে দম্পতি ও গৃহকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নিহতদের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার মধ্যে গৃহকর্মী তাহমিনার শরীরে ১৭ থেকে ১৮টি ছুরিকাঘাতের দাগ রয়েছে।

ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সুরাইয়া বেগমের (৭২) ডান হাতের চারটি আঙুল কাটা ছিল এবং তার শরীরেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। তার স্বামী ৮২ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তারের গলা ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে এই তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহভাজন হিসেবে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা মৃত নূর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির জানান, নিহত দম্পতির ছেলে দেশে ফেরার পর শুক্রবার এই ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হতে পারে।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা ছোরা বৃহস্পতিবার সকালে রায়নগরের একটি খালি জায়গা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এটি উদ্ধার করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ছোরাটি ফরেনসিকে পাঠানো হবে এবং এর রক্তের সাথে ঘটনাস্থলের রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও জানান, বাসার বেসিন, হাত ধোয়ার স্থান, ছোরার ধাতব অংশ এবং একটি ব্যাগে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দিয়েছেন বাবুল মিয়া। তিনি ওই বাসায় রঙের কাজ করার সুবাদে গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) সাথে পরিচিত হন। তাহমিনার কোনো আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় গৃহকর্মীকে বাঁচাতে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয়। সবশেষে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বাবুল। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের দরজার নিচের ছোট ছিটকানিটি ভাঙা ছিল এবং বারান্দার রেলিংয়ে হাত ও পায়ের ছাপ এবং নিচে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে।