লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেস্টটিউব বেবি: চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাফল্য ও প্রচলিত ভুল ধারণা

১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই ইংল্যান্ডে প্রথম টেস্টটিউব বেবি লুইস ব্রাউনের জন্মের মাধ্যমে বিশ্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। চিকিৎসক প্যাট্রিক স্টেপটো ও রবার্টস এডওয়ার্ডসের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই লুইস ব্রাউন, যার জন্ম চিকিৎসাশাস্ত্রে এক যুগান্তকারী ঘটনা। এই অবদানের জন্য পরবর্তীতে উভয় চিকিৎসক নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। দীর্ঘ ৪৮ বছর পার হয়ে গেলেও আইভিএফ (IVF) বা টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো অনেক জল্পনা-কল্পনা ও বিভ্রান্তি রয়ে গেছে। অথচ একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, লুইস ব্রাউন পরবর্তীতে কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসা ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্ম দিয়েছেন।

আইভিএফ পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে ল্যাবরেটরিতে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নিষিক্ত করে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। এরপর ভ্রূণটিকে ইনকিউবেটরে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও পুষ্টিসমৃদ্ধ পরিবেশে রাখা হয়। ভ্রূণটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছালে তা মাতৃগর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয়। মূলত নারীর শরীরের অভ্যন্তরে যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি ঘটে, সেটি এখানে ল্যাবরেটরিতে সম্পন্ন হয়। এরপর বাচ্চার বেড়ে ওঠা ও জন্মপ্রক্রিয়া একটি সাধারণ শিশুর মতোই স্বাভাবিক থাকে।

টেস্টটিউব বেবি নিয়ে সমাজে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে, যেমন—এই শিশুরা দেখতে আলাদা, এদের বুদ্ধিমত্তা ভিন্ন, এরা টেস্টটিউবের ভেতর বড় হয়, অন্যের শুক্রাণু বা ডিম্বাণু ব্যবহার করা হয় কিংবা ইসলাম ধর্মে এটি অনুমোদিত নয়। বিশেষজ্ঞ ডা. শাহীনা বেগম শান্তা, যিনি বিআরবি হাসপাতালের ইনফার্টিলিটি ও আইভিএফ বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, এসব তথ্যের ভুল সংশোধন করেছেন। তিনি জানান, এই পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া শিশুরা প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া শিশুর মতোই স্বাভাবিক। এছাড়া নিজের শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করলে ইসলাম ধর্মে এই চিকিৎসায় কোনো বাধা নেই।

বর্তমানে সারা বিশ্বেই আইভিএফ চিকিৎসা অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ও আধুনিক রূপ পেয়েছে। বাংলাদেশেও বেশ কিছু ইনফার্টিলিটি সেন্টার স্বচ্ছতার সাথে এই সেবা প্রদান করছে, যেখানে সফলতার হার ৪০ থেকে ৬০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত। বাংলাদেশে ২০০১ সালে প্রথম আইভিএফ বেবি হীরা-মণি-মুক্তা এবং ২০০৮ সালে প্রথম হিমায়িত ভ্রূণ বেবি অপসরা জন্ম নেয়। নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য এটি একটি আশার আলো, তবে বিশ্বব্যাপী এই চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ার বিষয়টিও মনে রাখা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে শপিংমলে বিস্ফোরণ ও ধস, বহু হতাহতের শঙ্কা

টেস্টটিউব বেবি: চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাফল্য ও প্রচলিত ভুল ধারণা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই ইংল্যান্ডে প্রথম টেস্টটিউব বেবি লুইস ব্রাউনের জন্মের মাধ্যমে বিশ্ব চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়। চিকিৎসক প্যাট্রিক স্টেপটো ও রবার্টস এডওয়ার্ডসের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই লুইস ব্রাউন, যার জন্ম চিকিৎসাশাস্ত্রে এক যুগান্তকারী ঘটনা। এই অবদানের জন্য পরবর্তীতে উভয় চিকিৎসক নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। দীর্ঘ ৪৮ বছর পার হয়ে গেলেও আইভিএফ (IVF) বা টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো অনেক জল্পনা-কল্পনা ও বিভ্রান্তি রয়ে গেছে। অথচ একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, লুইস ব্রাউন পরবর্তীতে কোনো বিশেষায়িত চিকিৎসা ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্ম দিয়েছেন।

আইভিএফ পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে ল্যাবরেটরিতে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নিষিক্ত করে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। এরপর ভ্রূণটিকে ইনকিউবেটরে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও পুষ্টিসমৃদ্ধ পরিবেশে রাখা হয়। ভ্রূণটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছালে তা মাতৃগর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয়। মূলত নারীর শরীরের অভ্যন্তরে যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি ঘটে, সেটি এখানে ল্যাবরেটরিতে সম্পন্ন হয়। এরপর বাচ্চার বেড়ে ওঠা ও জন্মপ্রক্রিয়া একটি সাধারণ শিশুর মতোই স্বাভাবিক থাকে।

টেস্টটিউব বেবি নিয়ে সমাজে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে, যেমন—এই শিশুরা দেখতে আলাদা, এদের বুদ্ধিমত্তা ভিন্ন, এরা টেস্টটিউবের ভেতর বড় হয়, অন্যের শুক্রাণু বা ডিম্বাণু ব্যবহার করা হয় কিংবা ইসলাম ধর্মে এটি অনুমোদিত নয়। বিশেষজ্ঞ ডা. শাহীনা বেগম শান্তা, যিনি বিআরবি হাসপাতালের ইনফার্টিলিটি ও আইভিএফ বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, এসব তথ্যের ভুল সংশোধন করেছেন। তিনি জানান, এই পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া শিশুরা প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া শিশুর মতোই স্বাভাবিক। এছাড়া নিজের শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করলে ইসলাম ধর্মে এই চিকিৎসায় কোনো বাধা নেই।

বর্তমানে সারা বিশ্বেই আইভিএফ চিকিৎসা অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ও আধুনিক রূপ পেয়েছে। বাংলাদেশেও বেশ কিছু ইনফার্টিলিটি সেন্টার স্বচ্ছতার সাথে এই সেবা প্রদান করছে, যেখানে সফলতার হার ৪০ থেকে ৬০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত। বাংলাদেশে ২০০১ সালে প্রথম আইভিএফ বেবি হীরা-মণি-মুক্তা এবং ২০০৮ সালে প্রথম হিমায়িত ভ্রূণ বেবি অপসরা জন্ম নেয়। নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য এটি একটি আশার আলো, তবে বিশ্বব্যাপী এই চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ার বিষয়টিও মনে রাখা প্রয়োজন।