লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের কৌশলে বাংলাদেশ ফুটবলকে বদলানোর ছক থমাস ডুলির

বাংলাদেশ ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়ে লাল-সবুজের দলটিকে আমূল বদলে দেওয়ার এক মহাপরিকল্পনা সাজিয়েছেন নতুন কোচ থমাস ডুলি। জার্মান বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই ফুটবলার গত মে মাসে দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে পাওয়া শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স—এই তিন পরাশক্তির ফুটবল দর্শন ও কৌশলের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি স্বপ্নের রূপরেখা তৈরি করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের সময় ঢাকায় ঘুরে ঘুরে এ দেশের মানুষের ফুটবল উন্মাদনা সচক্ষে দেখেছেন ডুলি। বাংলাদেশ কোনোদিন বিশ্বকাপ না খেললেও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি কিংবা স্পেনের মতো দলের প্রতি কোটি মানুষের যে আবেগ, পতাকা ওড়ানো এবং জার্সি পরে উদযাপন করার দৃশ্য তাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। তার মতে, এমন ফুটবল আবেগ পৃথিবীর খুব কম দেশেই দেখতে পাওয়া যায়। এবার সেই আবেগ ও উন্মাদনাকে নিজের দেশের দলের দিকে টানতে চান এই নতুন কোচ।

দল গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে ডুলি তার নিজস্ব দর্শন স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, বলের পেছনে অনর্থক দৌড়ানোর চেয়ে বল নিজেদের দখলে রেখে খেলতে তিনি বেশি পছন্দ করেন। ডুলির ভাষায়, "আমরা যা গড়তে চলেছি তা হলো—আমি ফুটবলের পেছনে ছুটতে পছন্দ করি না। আমি ফুটবলটাই খেলতে পছন্দ করি। তাই আমরা এমন একটি দল গড়তে চাই, যারা বলের দখল রাখবে, এক বা দুই টাচে খেলবে, প্রতিপক্ষকে দৌড় করাবে—স্পেনের মতো।"

একই সঙ্গে দলে আর্জেন্টিনার মতো লড়াকু মানসিকতা দেখতে চান ডুলি। তিনি বলেন, "আমরা এমন একটি দল গড়তে চাই যেখানে সবাই একে অপরের জন্য, দলের প্রতীকের জন্য, সমর্থকদের জন্য লড়বে—ঠিক যেমন আর্জেন্টিনা মেসির জন্য, দেশের জন্য, একে অপরের জন্য লড়েছিল।" এছাড়া শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ফ্রান্সের মতো কাউন্টার অ্যাটাক বা পাল্টা আক্রমণকে হাতিয়ার করতে চান তিনি। ডুলির ভাষায়, "আমরা পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হতে চাই, দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে আক্রমণে যেতে চাই—ফ্রান্সের মতো। স্পেনের খেলার ধরন। আর্জেন্টিনার স্পিরিট। ফ্রান্সের পাল্টা আক্রমণ। এটাই আমাদের পথনির্দেশিকা।"

ডুলির এই নতুন পরিকল্পনা মাঠে কার্যকরের প্রথম সুযোগ আসছে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা উইন্ডোতে। এই উইন্ডোর ম্যাচগুলোই হবে তার মাস্টারপ্ল্যান প্রমাণের প্রথম বড় মঞ্চ। তবে এই নতুন অধ্যায়ে সমর্থকদের পাশে চান কোচ। তিনি মনে করেন, সমর্থকরাই হলেন দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়। বিশ্বকাপে এ দেশের মানুষ যেভাবে আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলকে সমর্থন করেছে, ঠিক সেভাবেই তারা যেন বাংলাদেশ দলের খেলার সময় গ্যালারি কাঁপিয়ে গর্জন তোলেন, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন নতুন এই ফুটবল কোচ।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুতুবদিয়ায় চা দিতে দেরি হওয়ায় দপ্তরিকে কাপ-পিরিচ ছুড়ে মারলেন শিক্ষক

স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের কৌশলে বাংলাদেশ ফুটবলকে বদলানোর ছক থমাস ডুলির

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়ে লাল-সবুজের দলটিকে আমূল বদলে দেওয়ার এক মহাপরিকল্পনা সাজিয়েছেন নতুন কোচ থমাস ডুলি। জার্মান বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই ফুটবলার গত মে মাসে দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে পাওয়া শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স—এই তিন পরাশক্তির ফুটবল দর্শন ও কৌশলের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি স্বপ্নের রূপরেখা তৈরি করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপের সময় ঢাকায় ঘুরে ঘুরে এ দেশের মানুষের ফুটবল উন্মাদনা সচক্ষে দেখেছেন ডুলি। বাংলাদেশ কোনোদিন বিশ্বকাপ না খেললেও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি কিংবা স্পেনের মতো দলের প্রতি কোটি মানুষের যে আবেগ, পতাকা ওড়ানো এবং জার্সি পরে উদযাপন করার দৃশ্য তাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। তার মতে, এমন ফুটবল আবেগ পৃথিবীর খুব কম দেশেই দেখতে পাওয়া যায়। এবার সেই আবেগ ও উন্মাদনাকে নিজের দেশের দলের দিকে টানতে চান এই নতুন কোচ।

দল গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে ডুলি তার নিজস্ব দর্শন স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, বলের পেছনে অনর্থক দৌড়ানোর চেয়ে বল নিজেদের দখলে রেখে খেলতে তিনি বেশি পছন্দ করেন। ডুলির ভাষায়, "আমরা যা গড়তে চলেছি তা হলো—আমি ফুটবলের পেছনে ছুটতে পছন্দ করি না। আমি ফুটবলটাই খেলতে পছন্দ করি। তাই আমরা এমন একটি দল গড়তে চাই, যারা বলের দখল রাখবে, এক বা দুই টাচে খেলবে, প্রতিপক্ষকে দৌড় করাবে—স্পেনের মতো।"

একই সঙ্গে দলে আর্জেন্টিনার মতো লড়াকু মানসিকতা দেখতে চান ডুলি। তিনি বলেন, "আমরা এমন একটি দল গড়তে চাই যেখানে সবাই একে অপরের জন্য, দলের প্রতীকের জন্য, সমর্থকদের জন্য লড়বে—ঠিক যেমন আর্জেন্টিনা মেসির জন্য, দেশের জন্য, একে অপরের জন্য লড়েছিল।" এছাড়া শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ফ্রান্সের মতো কাউন্টার অ্যাটাক বা পাল্টা আক্রমণকে হাতিয়ার করতে চান তিনি। ডুলির ভাষায়, "আমরা পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হতে চাই, দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে আক্রমণে যেতে চাই—ফ্রান্সের মতো। স্পেনের খেলার ধরন। আর্জেন্টিনার স্পিরিট। ফ্রান্সের পাল্টা আক্রমণ। এটাই আমাদের পথনির্দেশিকা।"

ডুলির এই নতুন পরিকল্পনা মাঠে কার্যকরের প্রথম সুযোগ আসছে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ফিফা উইন্ডোতে। এই উইন্ডোর ম্যাচগুলোই হবে তার মাস্টারপ্ল্যান প্রমাণের প্রথম বড় মঞ্চ। তবে এই নতুন অধ্যায়ে সমর্থকদের পাশে চান কোচ। তিনি মনে করেন, সমর্থকরাই হলেন দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়। বিশ্বকাপে এ দেশের মানুষ যেভাবে আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলকে সমর্থন করেছে, ঠিক সেভাবেই তারা যেন বাংলাদেশ দলের খেলার সময় গ্যালারি কাঁপিয়ে গর্জন তোলেন, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন নতুন এই ফুটবল কোচ।