লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রণে টুথপেস্ট ব্যবহার কি আসলেই নিরাপদ? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

হঠাৎ মুখে ব্রণ দেখা দিলে অনেকেই দ্রুত সমাধানের জন্য নানামুখী উপায় খোঁজেন। বিশেষ করে কোনো অনুষ্ঠান বা জরুরি কাজের আগে এই সমস্যা দেখা দিলে ইন্টারনেটে বা পরিচিতদের কাছ থেকে একটি পরামর্শ প্রায়ই শোনা যায়— 'ব্রণের ওপর সামান্য টুথপেস্ট লাগিয়ে রাখলে তা দ্রুত সেরে যাবে'। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা এই পদ্ধতিকে একটি মারাত্মক ভুল ধারণা এবং ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে মনে করেন।

টুথপেস্ট ব্যবহারের এই প্রবণতাটি বহু বছরের পুরোনো। সাময়িকভাবে এটি কাজ করছে বলে মনে হলেও আসলে তা ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। টুথপেস্টের পুরোনো ফর্মুলায় ট্রাইক্লোসান নামের একটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকত। এর পাশাপাশি বেকিং সোডা ও হাইড্রোজেন পারক্সাইডের মতো উপাদান থাকায় তা দ্রুত ব্রণকে শুকিয়ে ফেলে। এর ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্রণের লালচে ভাব ও ফোলাভাব কমে যায়, যা দেখে অনেকেই একে নিরাময় বলে ভুল করেন। মূলত সাময়িক এই পরিবর্তনকে সাফল্যের প্রমাণ ভেবে মানুষ এই ক্ষতিকর পদ্ধতিটি ব্যবহার করে আসছে।

ব্রণের চিকিৎসায় টুথপেস্টের কার্যকারিতা নিয়ে ২০১৪ সালে 'ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যানালাইসিস'-এ একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। ওই গবেষণায় পাঁচটি জনপ্রিয় টুথপেস্ট ব্র্যান্ডের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা হয় যে এগুলো ব্রণ সৃষ্টিকারী দুটি প্রধান ব্যাকটেরিয়া— 'প্রোপিওনিব্যাকটেরিয়াম অ্যাকনেস' (Propionibacterium acnes) এবং 'স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস' (Staphylococcus aureus) ধ্বংস করতে পারে কি না। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, সাদা টুথপেস্টের কিছু অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান হোয়াইটহেড শুকাতে সাহায্য করলেও এটি ব্রণের কোনো সার্বজনীন বা নিরাপদ সমাধান নয়। বিশেষ করে হোয়াইটেনিং টুথপেস্টের মতো ফর্মুলাগুলোতে থাকা তীব্র ব্লিচিং উপাদান ত্বকে তীব্র জ্বালাপোড়া, চুলকানি ও অস্বস্তি তৈরি করে। তাই মুখে টুথপেস্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ওই গবেষণায়।

চর্মরোগ চিকিৎসকদের মতে, টুথপেস্ট তৈরি করা হয়েছে দাঁতের শক্ত এনামেল পরিষ্কার করার জন্য, মুখের সংবেদনশীল ত্বকের যত্নের জন্য নয়। টুথপেস্টে হাইড্রোজেন পারক্সাইড, বেকিং সোডা, অ্যালকোহল ও মেনথলের মতো উপাদান থাকে, যা ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে তোলে।

ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হওয়া: টুথপেস্টের কড়া রাসায়নিক উপাদান ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা পুরোপুরি কেড়ে নেয়।জ্বালা ও লালচে ভাব: কড়া উপাদানের কারণে ত্বক পুড়ে যেতে পারে এবং তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হতে পারে।ব্রণ আরও বৃদ্ধি পাওয়া: ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়লে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শরীর থেকে আরও বেশি তেল বা সিবাম (Sebum) নিঃসৃত হয়, যা পরবর্তীতে আরও বেশি ব্রণের জন্ম দেয়।স্থায়ী কালো দাগ: টুথপেস্ট ব্যবহারের ফলে ব্রণের স্থানে স্থায়ী কালচে দাগ বা পোস্ট-ইনফ্লেমেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন (Post-inflammatory hyperpigmentation) তৈরি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও যুগ্ম সচিব ডা. সাবিনা ইয়াসমিনকে বাধ্যতামূলক অবসরে 

ব্রণে টুথপেস্ট ব্যবহার কি আসলেই নিরাপদ? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:২১:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

হঠাৎ মুখে ব্রণ দেখা দিলে অনেকেই দ্রুত সমাধানের জন্য নানামুখী উপায় খোঁজেন। বিশেষ করে কোনো অনুষ্ঠান বা জরুরি কাজের আগে এই সমস্যা দেখা দিলে ইন্টারনেটে বা পরিচিতদের কাছ থেকে একটি পরামর্শ প্রায়ই শোনা যায়— 'ব্রণের ওপর সামান্য টুথপেস্ট লাগিয়ে রাখলে তা দ্রুত সেরে যাবে'। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা এই পদ্ধতিকে একটি মারাত্মক ভুল ধারণা এবং ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে মনে করেন।

টুথপেস্ট ব্যবহারের এই প্রবণতাটি বহু বছরের পুরোনো। সাময়িকভাবে এটি কাজ করছে বলে মনে হলেও আসলে তা ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। টুথপেস্টের পুরোনো ফর্মুলায় ট্রাইক্লোসান নামের একটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকত। এর পাশাপাশি বেকিং সোডা ও হাইড্রোজেন পারক্সাইডের মতো উপাদান থাকায় তা দ্রুত ব্রণকে শুকিয়ে ফেলে। এর ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্রণের লালচে ভাব ও ফোলাভাব কমে যায়, যা দেখে অনেকেই একে নিরাময় বলে ভুল করেন। মূলত সাময়িক এই পরিবর্তনকে সাফল্যের প্রমাণ ভেবে মানুষ এই ক্ষতিকর পদ্ধতিটি ব্যবহার করে আসছে।

ব্রণের চিকিৎসায় টুথপেস্টের কার্যকারিতা নিয়ে ২০১৪ সালে 'ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যানালাইসিস'-এ একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। ওই গবেষণায় পাঁচটি জনপ্রিয় টুথপেস্ট ব্র্যান্ডের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা হয় যে এগুলো ব্রণ সৃষ্টিকারী দুটি প্রধান ব্যাকটেরিয়া— 'প্রোপিওনিব্যাকটেরিয়াম অ্যাকনেস' (Propionibacterium acnes) এবং 'স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস' (Staphylococcus aureus) ধ্বংস করতে পারে কি না। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, সাদা টুথপেস্টের কিছু অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান হোয়াইটহেড শুকাতে সাহায্য করলেও এটি ব্রণের কোনো সার্বজনীন বা নিরাপদ সমাধান নয়। বিশেষ করে হোয়াইটেনিং টুথপেস্টের মতো ফর্মুলাগুলোতে থাকা তীব্র ব্লিচিং উপাদান ত্বকে তীব্র জ্বালাপোড়া, চুলকানি ও অস্বস্তি তৈরি করে। তাই মুখে টুথপেস্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ওই গবেষণায়।

চর্মরোগ চিকিৎসকদের মতে, টুথপেস্ট তৈরি করা হয়েছে দাঁতের শক্ত এনামেল পরিষ্কার করার জন্য, মুখের সংবেদনশীল ত্বকের যত্নের জন্য নয়। টুথপেস্টে হাইড্রোজেন পারক্সাইড, বেকিং সোডা, অ্যালকোহল ও মেনথলের মতো উপাদান থাকে, যা ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে তোলে।

ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হওয়া: টুথপেস্টের কড়া রাসায়নিক উপাদান ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা পুরোপুরি কেড়ে নেয়।জ্বালা ও লালচে ভাব: কড়া উপাদানের কারণে ত্বক পুড়ে যেতে পারে এবং তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হতে পারে।ব্রণ আরও বৃদ্ধি পাওয়া: ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়লে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শরীর থেকে আরও বেশি তেল বা সিবাম (Sebum) নিঃসৃত হয়, যা পরবর্তীতে আরও বেশি ব্রণের জন্ম দেয়।স্থায়ী কালো দাগ: টুথপেস্ট ব্যবহারের ফলে ব্রণের স্থানে স্থায়ী কালচে দাগ বা পোস্ট-ইনফ্লেমেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন (Post-inflammatory hyperpigmentation) তৈরি হতে পারে।