লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন বাভি, সরানো হয়েছে ২০ লাখ মানুষ

চীনে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’। এটি এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দ্বিতীয় টাইফুন। এই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে ঝড়ের গতিপথে থাকা এলাকাগুলো থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার (১১ জুলাই) চীনের উপকূলীয় শহর তাইঝৌতে প্রথম আঘাত হানে টাইফুন বাভি। এরপর মধ্যরাতের দিকে ওয়েনঝৌ শহরের ওপর দিয়ে এটি দ্বিতীয়বার মূল ভূখণ্ডে আছড়ে পড়ে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঝড়টি এর সবচেয়ে চওড়া অংশে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার (৬২০ মাইল) বিস্তৃত, যা আয়তনে প্রায় পুরো ফ্রান্সের সমান।

চীনে আঘাত হানার আগে টাইফুনটি ফিলিপাইনে ব্যাপক ভূমিধস সৃষ্টি করে, যাতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এরপর জাপানের দূরবর্তী বেশ কিছু দ্বীপপুঞ্জে তাণ্ডব চালিয়ে এটি তাইওয়ানের উত্তর প্রান্ত ঘেঁষে অগ্রসর হয়। জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে আঘাতের সময় এর বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার। সেখানে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়েছেন।

বর্তমানে ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে ‘তীব্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে’ পরিণত হলেও এর বিপদ এখনও কাটেনি। এর মেঘমালায় বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকায় চীনের পূর্ব ঝেজিয়াং এবং উত্তর-পূর্ব ফুজিয়ান প্রদেশে ‘ব্যতিক্রমী রকমের ভারী বৃষ্টিপাত’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। চীনের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের বড় বিপর্যয় এড়াতে এবং ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি’ মোকাবেলা করতে রেকর্ডসংখ্যক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে ১৭ লাখেরও বেশি মানুষকে এবং পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকে আরো হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝেজিয়াংয়ে স্কুল, অফিস-আদালত এবং সব আউটডোর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪০০টি ফ্লাইট এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে। প্রায় ১ কোটি মানুষের বাসস্থান ওয়েনঝৌ শহরটি এই ঝড়ের পথেরই কাছাকাছি অবস্থিত। বেইজিংয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ঝুঁকি এড়াতে’ তারা ১ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে আঘাত হানা টাইফুন ‘মায়সাক’-এর তাণ্ডবে দক্ষিণ চীনের একাংশ এখনও লণ্ডভণ্ড। মায়সাকের আঘাতে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন এবং বিপুল পরিমাণ গবাদি পশু মারা যাওয়ায় কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমনকি এর প্রভাবে দেশটির মধ্য হুবেই প্রদেশে দুটি বিরল টর্নেডোও সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ক্ষতের রেশ কাটতে না কাটতেই টাইফুন বাভির এই জোড়া আঘাত চীনের উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের প্রভাব রুখতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কোটি ডলারের কর্মসূচি

চীনে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন বাভি, সরানো হয়েছে ২০ লাখ মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

চীনে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’। এটি এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দ্বিতীয় টাইফুন। এই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে ঝড়ের গতিপথে থাকা এলাকাগুলো থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার (১১ জুলাই) চীনের উপকূলীয় শহর তাইঝৌতে প্রথম আঘাত হানে টাইফুন বাভি। এরপর মধ্যরাতের দিকে ওয়েনঝৌ শহরের ওপর দিয়ে এটি দ্বিতীয়বার মূল ভূখণ্ডে আছড়ে পড়ে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঝড়টি এর সবচেয়ে চওড়া অংশে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার (৬২০ মাইল) বিস্তৃত, যা আয়তনে প্রায় পুরো ফ্রান্সের সমান।

চীনে আঘাত হানার আগে টাইফুনটি ফিলিপাইনে ব্যাপক ভূমিধস সৃষ্টি করে, যাতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এরপর জাপানের দূরবর্তী বেশ কিছু দ্বীপপুঞ্জে তাণ্ডব চালিয়ে এটি তাইওয়ানের উত্তর প্রান্ত ঘেঁষে অগ্রসর হয়। জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে আঘাতের সময় এর বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার। সেখানে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়েছেন।

বর্তমানে ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে ‘তীব্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে’ পরিণত হলেও এর বিপদ এখনও কাটেনি। এর মেঘমালায় বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প থাকায় চীনের পূর্ব ঝেজিয়াং এবং উত্তর-পূর্ব ফুজিয়ান প্রদেশে ‘ব্যতিক্রমী রকমের ভারী বৃষ্টিপাত’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। চীনের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের বড় বিপর্যয় এড়াতে এবং ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি’ মোকাবেলা করতে রেকর্ডসংখ্যক মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে ১৭ লাখেরও বেশি মানুষকে এবং পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকে আরো হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝেজিয়াংয়ে স্কুল, অফিস-আদালত এবং সব আউটডোর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪০০টি ফ্লাইট এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে। প্রায় ১ কোটি মানুষের বাসস্থান ওয়েনঝৌ শহরটি এই ঝড়ের পথেরই কাছাকাছি অবস্থিত। বেইজিংয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ঝুঁকি এড়াতে’ তারা ১ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে আঘাত হানা টাইফুন ‘মায়সাক’-এর তাণ্ডবে দক্ষিণ চীনের একাংশ এখনও লণ্ডভণ্ড। মায়সাকের আঘাতে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন এবং বিপুল পরিমাণ গবাদি পশু মারা যাওয়ায় কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমনকি এর প্রভাবে দেশটির মধ্য হুবেই প্রদেশে দুটি বিরল টর্নেডোও সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ক্ষতের রেশ কাটতে না কাটতেই টাইফুন বাভির এই জোড়া আঘাত চীনের উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।