লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলি বসতি বাণিজ্য বন্ধে যুক্তরাজ্যের ওপর চাপ উপেক্ষা করার আহ্বান

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ বাস্তবায়নে যুক্তরাজ্য সরকারকে চাপ উপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনপন্থি অধিকারকর্মী বেন জামাল।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ থেকে যুক্তরাজ্যকে সরিয়ে নিতে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ফিলিস্তিনপন্থি অধিকারকর্মী বেন জামাল। প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইনের সাবেক এই পরিচালকের মতে, এসব রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে যুক্তরাজ্যের উচিত বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা।

এক মতামতধর্মী নিবন্ধে বেন জামাল বলেন, ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু যুক্তরাজ্যের নীতিতে পরিবর্তন আনবে না, বরং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করতে পারে। ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাতের ইতিহাসে ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। ফলে লন্ডন যদি বসতি-ভিত্তিক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্কের বিষয়। ফিলিস্তিনিরা এসব অঞ্চলকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বহু দেশ ইসরাইলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করে। যদিও ইসরাইল অবশ্য এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়।

নিবন্ধে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, কোনো সরকার যদি ইসরাইলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মনে করে, তাহলে এসব বসতিতে উৎপাদিত পণ্য বা সেখানকার ব্যবসার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার নীতিও পুনর্বচনা করা উচিত। ইসরাইলি বসতিগুলোর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাণিজ্যের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বা বয়কটের মাধ্যমে বসতি সম্প্রসারণের অর্থনৈতিক সুবিধা কমানো সম্ভব।

তবে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ইসরাইলপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সংগঠনের চাপ রয়েছে বলে নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে। এসব চাপের কারণে যুক্তরাজ্য সরকার বসতি-বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পিছিয়ে যেতে পারে। তিনি সরকারকে সেই চাপ উপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করা ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় যুক্তরাজ্যের একটি বাস্তব রাজনৈতিক পদক্ষেপ হতে পারে। সরকার যদি এই অবস্থানে অটল থাকতে পারে, তাহলে এটি আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক বয়কট ও নিষেধাজ্ঞা উদ্যোগের প্রথম ধাপ হতে পারে। শুধু রাজনৈতিক বিবৃতি বা উদ্বেগ প্রকাশের পরিবর্তে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নীতিগত অবস্থান কার্যকর করা প্রয়োজন। বাণিজ্যনীতি একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার এবং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি অবস্থানও প্রকাশ করা যায়।

শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সরকার বসতি-বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। লন্ডন যদি চাপ উপেক্ষা করে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে, তাহলে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইউরোপীয় নীতিতে তা নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদির তেল পাইপলাইন মেরামত করতে ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে

ইসরাইলি বসতি বাণিজ্য বন্ধে যুক্তরাজ্যের ওপর চাপ উপেক্ষা করার আহ্বান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ থেকে যুক্তরাজ্যকে সরিয়ে নিতে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ফিলিস্তিনপন্থি অধিকারকর্মী বেন জামাল। প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইনের সাবেক এই পরিচালকের মতে, এসব রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে যুক্তরাজ্যের উচিত বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা।

এক মতামতধর্মী নিবন্ধে বেন জামাল বলেন, ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু যুক্তরাজ্যের নীতিতে পরিবর্তন আনবে না, বরং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোকেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করতে পারে। ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাতের ইতিহাসে ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। ফলে লন্ডন যদি বসতি-ভিত্তিক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্কের বিষয়। ফিলিস্তিনিরা এসব অঞ্চলকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বহু দেশ ইসরাইলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করে। যদিও ইসরাইল অবশ্য এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়।

নিবন্ধে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, কোনো সরকার যদি ইসরাইলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মনে করে, তাহলে এসব বসতিতে উৎপাদিত পণ্য বা সেখানকার ব্যবসার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার নীতিও পুনর্বচনা করা উচিত। ইসরাইলি বসতিগুলোর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাণিজ্যের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বা বয়কটের মাধ্যমে বসতি সম্প্রসারণের অর্থনৈতিক সুবিধা কমানো সম্ভব।

তবে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ইসরাইলপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সংগঠনের চাপ রয়েছে বলে নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে। এসব চাপের কারণে যুক্তরাজ্য সরকার বসতি-বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পিছিয়ে যেতে পারে। তিনি সরকারকে সেই চাপ উপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করা ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় যুক্তরাজ্যের একটি বাস্তব রাজনৈতিক পদক্ষেপ হতে পারে। সরকার যদি এই অবস্থানে অটল থাকতে পারে, তাহলে এটি আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক বয়কট ও নিষেধাজ্ঞা উদ্যোগের প্রথম ধাপ হতে পারে। শুধু রাজনৈতিক বিবৃতি বা উদ্বেগ প্রকাশের পরিবর্তে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নীতিগত অবস্থান কার্যকর করা প্রয়োজন। বাণিজ্যনীতি একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার এবং এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি অবস্থানও প্রকাশ করা যায়।

শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সরকার বসতি-বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। লন্ডন যদি চাপ উপেক্ষা করে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে, তাহলে ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইউরোপীয় নীতিতে তা নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।