লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে টানা ১৩ রাত মার্কিন হামলা, কঠোর জবাবের হুশিয়ারি তেহরানের

ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে টানা ১৩তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই ধারাবাহিক অভিযানে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক শহর ও উপকূলীয় কৌশলগত এলাকা কেঁপে উঠেছে। মার্কিন এই হামলার জবাবে তেহরান কঠোর ও বিধ্বংসী প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইরানজুড়ে নতুন দফায় এই হামলা চালানো হয়। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে অসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তারা আরও দাবি করেছে যে, সর্বশেষ হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন সংরক্ষণাগার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং সামরিক নৌ সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

মার্কিন হামলার ফলে ইরানের মূল ভূখণ্ডের একাধিক শহরে বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এবং বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ জানায়, খোন্দাব শহরের বাইরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া খোররামাবাদ, কোনারাক এবং হরমুজ প্রণালির কাছে অত্যন্ত কৌশলগত বন্দরনগরী জাস্কেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলের আকাশে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

আঞ্চলিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানা গেছে, উপকূলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের ‘তাপ্পে আল্লাহ-ও-আকবর’ আবাসিক এলাকায় হামলায় অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন। হরমুজগান প্রদেশের উপ-গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেশক ও ওমিদিয়ে শহরের আশপাশের এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সংঘাতের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরও কেশম দ্বীপ এবং আহভাজ শহরে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কেশম দ্বীপের আকাশে একটি ড্রোন ভূপাতিত করার প্রাথমিক অসংবাদিত তথ্যও রয়েছে।

মার্কিন এই ধারাবাহিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ না হলে ইরানও পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাবে। ইরানের সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন না থামলে প্রতিটি হামলার বিপরীতে আরো বিধ্বংসী ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮: ১৫আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮: ১৭

জনপ্রিয় সংবাদ

শিবপুরে নদীতে ডুবে প্রাণ গেল উদ্ধারকারী তরুণ ও প্রবাসীর

ইরানে টানা ১৩ রাত মার্কিন হামলা, কঠোর জবাবের হুশিয়ারি তেহরানের

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে টানা ১৩তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই ধারাবাহিক অভিযানে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক শহর ও উপকূলীয় কৌশলগত এলাকা কেঁপে উঠেছে। মার্কিন এই হামলার জবাবে তেহরান কঠোর ও বিধ্বংসী প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইরানজুড়ে নতুন দফায় এই হামলা চালানো হয়। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে অসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। তারা আরও দাবি করেছে যে, সর্বশেষ হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন সংরক্ষণাগার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং সামরিক নৌ সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

মার্কিন হামলার ফলে ইরানের মূল ভূখণ্ডের একাধিক শহরে বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এবং বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ জানায়, খোন্দাব শহরের বাইরে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া খোররামাবাদ, কোনারাক এবং হরমুজ প্রণালির কাছে অত্যন্ত কৌশলগত বন্দরনগরী জাস্কেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলের আকাশে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

আঞ্চলিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানা গেছে, উপকূলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের ‘তাপ্পে আল্লাহ-ও-আকবর’ আবাসিক এলাকায় হামলায় অন্তত দু’জন আহত হয়েছেন। হরমুজগান প্রদেশের উপ-গভর্নর ওয়ালিউল্লাহ হায়াতি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেশক ও ওমিদিয়ে শহরের আশপাশের এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সংঘাতের দুই সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরও কেশম দ্বীপ এবং আহভাজ শহরে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কেশম দ্বীপের আকাশে একটি ড্রোন ভূপাতিত করার প্রাথমিক অসংবাদিত তথ্যও রয়েছে।

মার্কিন এই ধারাবাহিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ না হলে ইরানও পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাবে। ইরানের সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন না থামলে প্রতিটি হামলার বিপরীতে আরো বিধ্বংসী ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮: ১৫আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮: ১৭