লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত তীব্র: হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরমে

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এই চলমান উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে ওঠায় ওই অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইনযুক্ত এলাকায় দুটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, একই সময়ে একটি ট্যাংকারে মার্কিন মেরিন সদস্যরা অভিযান চালিয়েছে। আইআরজিসি আরও দাবি করেছে যে, গত কয়েক ঘণ্টায় প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকারী চারটি জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সহায়তায় থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে বাহিনীটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, মার্কিন হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চল থেকে তেল, গ্যাস কিংবা রাসায়নিক সার রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।

গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে ইরানের হরমুজগান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, এই হামলায় তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলায় দুটি সেতু ও একটি টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা ও আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার মোহসেন রেজাই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও কয়েক দিন এই হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ইরান পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করতে বাধ্য হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি বাসায় ভাড়াটে রাখলে বরাদ্দ বাতিল করবে আবাসন পরিদপ্তর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত তীব্র: হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরমে

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এই চলমান উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নাজুক হয়ে ওঠায় ওই অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইনযুক্ত এলাকায় দুটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, একই সময়ে একটি ট্যাংকারে মার্কিন মেরিন সদস্যরা অভিযান চালিয়েছে। আইআরজিসি আরও দাবি করেছে যে, গত কয়েক ঘণ্টায় প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টাকারী চারটি জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সহায়তায় থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে বাহিনীটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, মার্কিন হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চল থেকে তেল, গ্যাস কিংবা রাসায়নিক সার রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।

গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে ইরানের হরমুজগান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, এই হামলায় তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলায় দুটি সেতু ও একটি টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা ও আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার মোহসেন রেজাই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও কয়েক দিন এই হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ইরান পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করতে বাধ্য হবে।