লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তির মহামারি: ধ্বংসের মুখে অগণিত জীবন

‘মেটালফ্রিক’ নামে পরিচিত চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি একসময় তাঁর পোষা পাখির সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন। পাখির গায়ে হাত বোলানো বা খাঁচা পরিষ্কার করার সেই দিনগুলো এখন অতীত। ঢাকার নিজের অগোছালো শোবার ঘরে শুয়ে তিনি জানান, ইয়াবার মারাত্মক আসক্তি তাঁর মনমানসিকতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। থাই ভাষায় ‘ইয়াবা’ শব্দের অর্থ ‘পাগল করা ওষুধ’। মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইনের এই মিশ্রণটি এখন বাংলাদেশে অগণিত জীবন ধ্বংস করছে। তিনি জানান, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের ওপর বড়ি রেখে নিচ থেকে তাপ দিয়ে ধোঁয়া টেনে নিতে হয়। প্রতিটি কমলা রঙের বড়ির প্রভাব চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। ইয়াবা সেবনের পর তিনি টানা তিন দিন জেগে থাকেন এবং এরপর চরম ক্লান্তিতে ১২ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমান।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশের সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের প্রায় ৫ শতাংশ মাদকে আসক্ত। নতুন সিন্থেটিক ও আধা সিনথেটিক মাদকের বিস্তার এই সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। চলতি মাসে বাংলাদেশের সংসদে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি বিল অনুমোদন করা হয়েছে। বাংলাদেশে ইয়াবা ‘ক-শ্রেণির’ নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে গণ্য হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ২০১৮ সালে কর্তৃপক্ষ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেছিল। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধের’ আদলে চালানো সেই অভিযানে কয়েক মাসের মধ্যে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, ২০১৮ সালে ৪৬৬ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল। সংস্থাটির মতে, এই অভিযান দেশের দরিদ্র এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভয় তৈরি করেছিল। এ ছাড়া কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার মো. আরিফুজ্জামান, যিনি ঢাকার নিরাময় পুনর্বাসন কেন্দ্রেও কাজ করেন, বলেন, ‘আমরা যদি মাদকের ব্যবহার কমাতে চাই, তাহলে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি করতে হবে।’ তিনি জানান, সারা দেশে মাত্র ৩৫০ জনের মতো মনোরোগ-বিশেষজ্ঞ আছেন। জাতীয় ইনস্টিটিউটে একজন বিশেষজ্ঞ হয়তো এক ঘণ্টায় ২০ জন রোগী দেখেন, কিন্তু এর কোনো বিকল্প নেই। মানসম্পন্ন মনোবিজ্ঞানীরও একই রকম অভাব রয়েছে। তিনি চান, সরকার যেন মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করে। ২০১৮-১৯ সালের সর্বশেষ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, যাদের সেবা প্রয়োজন তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই কোনো চিকিৎসা নেন না। আরিফুজ্জামান বলেন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তবে গত কয়েক বছরে সচেতনতা অভূতপূর্ব মাত্রায় বেড়েছে।

আরিফুজ্জামান আরও বলেন, ইয়াবায় আসক্তি এখন ‘খুবই সাধারণ’ বিষয়। অনেক ব্যবহারকারী ইয়াবার পাশাপাশি বুপ্রেনোরফিন ইনজেকশন, হেরোইন ও ওমোরফোন বড়ি গ্রহণ করেন। ইয়াবার ব্যবহার ‘উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে’। কিছু ব্যবহারকারী মাদক নেওয়ার পরও ‘কর্মক্ষম’ থাকেন, তবে অনেকের মস্তিষ্কের দুর্বলতার কারণে তাঁরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। বন্যা, অগ্নিকাণ্ড ও কোভিড-১৯ মহামারির মতো বাহ্যিক ঘটনাগুলো এই পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আসক্ত কিছু ব্যক্তি মাদকের খরচ জোগাতে নিজেরাই কারবারি হয়ে ওঠেন। আবার অনেকে বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা মানসিক ভারসাম্যহীনতার (সাইকোসিস) মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েন। মাদক ও অপরাধবিষয়ক জাতিসংঘের দপ্তরের (ইউএনওডিসি) তথ্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের শেষে ইয়াবা তরুণদের সংস্কৃতির অংশ হওয়ার আগে এশিয়ার কিছু অংশে ট্রাকচালকরা এটি সেবন করতেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ১২ লাখ ইয়াবা বড়ি জব্দ করা হয়েছিল।

ইউএনওডিসি বলছে, ২০২৪ সালে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রেকর্ড ২৩৬ টন মেথামফেটামিন জব্দ করা হয়েছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশে আসা ইয়াবার প্রধান উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে মিয়ানমারকে ধারণা করা হয়। মেটালফ্রিক বলেন, ‘সবারই কষ্টের গল্পগুলো প্রায় একই রকম।’ তিনি জানান, বাংলাদেশে আসক্তরা সাধারণত সিগারেট দিয়ে শুরু করে গাঁজা ও কফ সিরাপের দিকে যায়। প্রথমবার ইয়াবা সেবনের সময় তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ‘আড্ডা বা মাস্তি’ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এটি তাঁর মনকে চরম উত্তেজিত করে তোলে। তিনি বলেন, ‘এই জিনিসটা মানুষকে পশু বানিয়ে দেয়।’ সস্তা ইয়াবা মুখ ও দাঁতের বারোটা বাজিয়ে দেয় এবং ব্যবহারকারীর চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে তাঁরা পাগল হয়ে গেছেন। নিয়মিত সেবনে স্ট্রোক, দাঁত হারানো বা খিঁচুনি হতে পারে।

মেটালফ্রিক জানান, গত কয়েক বছরে আফিম বা হেরোইন পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে এবং ইয়াবা অন্য সব মাদককে হটিয়ে দিয়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় অল্প বয়সী ছেলেদের ছোট প্যাকেটে ইয়াবা বিক্রি করতে দেখা যায়, যা রিকশাচালকরা হাত বাড়িয়ে নিয়ে নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শেখ হাসিনার পতনের পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জয়লাভ করে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। মেটালফ্রিকের ব্যক্তিগত জীবনেও জটিলতা রয়েছে। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা বাবার পরিচয় নিয়ে বন্ধুদের বিতর্ক এবং নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া তাঁকে হতাশ করেছে। তিনি এখন ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে বাইরের জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তিনি বলেন, ইয়াবা মানুষকে ‘মিথ্যা আত্মবিশ্বাস’ দেয়, যার ফলে অনেকে অদ্ভুত সব ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। তাঁর মতে, ইয়াবা সেবনকারীরা ঘুমায় না বলে ‘দুই বছরও টিকতে পারে না’। তিনি একে ‘ধীরে ধীরে বিষপ্রয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রীকে ওড়নায় ঝুলিয়ে হত্যার ভিডিও শ্বশুর-শাশুড়িকে দেখালেন পাষণ্ড স্বামী

বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তির মহামারি: ধ্বংসের মুখে অগণিত জীবন

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

‘মেটালফ্রিক’ নামে পরিচিত চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি একসময় তাঁর পোষা পাখির সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন। পাখির গায়ে হাত বোলানো বা খাঁচা পরিষ্কার করার সেই দিনগুলো এখন অতীত। ঢাকার নিজের অগোছালো শোবার ঘরে শুয়ে তিনি জানান, ইয়াবার মারাত্মক আসক্তি তাঁর মনমানসিকতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। থাই ভাষায় ‘ইয়াবা’ শব্দের অর্থ ‘পাগল করা ওষুধ’। মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইনের এই মিশ্রণটি এখন বাংলাদেশে অগণিত জীবন ধ্বংস করছে। তিনি জানান, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের ওপর বড়ি রেখে নিচ থেকে তাপ দিয়ে ধোঁয়া টেনে নিতে হয়। প্রতিটি কমলা রঙের বড়ির প্রভাব চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। ইয়াবা সেবনের পর তিনি টানা তিন দিন জেগে থাকেন এবং এরপর চরম ক্লান্তিতে ১২ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমান।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশের সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের প্রায় ৫ শতাংশ মাদকে আসক্ত। নতুন সিন্থেটিক ও আধা সিনথেটিক মাদকের বিস্তার এই সমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। চলতি মাসে বাংলাদেশের সংসদে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি বিল অনুমোদন করা হয়েছে। বাংলাদেশে ইয়াবা ‘ক-শ্রেণির’ নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে গণ্য হয়। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ২০১৮ সালে কর্তৃপক্ষ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেছিল। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধের’ আদলে চালানো সেই অভিযানে কয়েক মাসের মধ্যে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, ২০১৮ সালে ৪৬৬ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল। সংস্থাটির মতে, এই অভিযান দেশের দরিদ্র এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভয় তৈরি করেছিল। এ ছাড়া কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার মো. আরিফুজ্জামান, যিনি ঢাকার নিরাময় পুনর্বাসন কেন্দ্রেও কাজ করেন, বলেন, ‘আমরা যদি মাদকের ব্যবহার কমাতে চাই, তাহলে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি করতে হবে।’ তিনি জানান, সারা দেশে মাত্র ৩৫০ জনের মতো মনোরোগ-বিশেষজ্ঞ আছেন। জাতীয় ইনস্টিটিউটে একজন বিশেষজ্ঞ হয়তো এক ঘণ্টায় ২০ জন রোগী দেখেন, কিন্তু এর কোনো বিকল্প নেই। মানসম্পন্ন মনোবিজ্ঞানীরও একই রকম অভাব রয়েছে। তিনি চান, সরকার যেন মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করে। ২০১৮-১৯ সালের সর্বশেষ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, যাদের সেবা প্রয়োজন তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই কোনো চিকিৎসা নেন না। আরিফুজ্জামান বলেন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তবে গত কয়েক বছরে সচেতনতা অভূতপূর্ব মাত্রায় বেড়েছে।

আরিফুজ্জামান আরও বলেন, ইয়াবায় আসক্তি এখন ‘খুবই সাধারণ’ বিষয়। অনেক ব্যবহারকারী ইয়াবার পাশাপাশি বুপ্রেনোরফিন ইনজেকশন, হেরোইন ও ওমোরফোন বড়ি গ্রহণ করেন। ইয়াবার ব্যবহার ‘উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে’। কিছু ব্যবহারকারী মাদক নেওয়ার পরও ‘কর্মক্ষম’ থাকেন, তবে অনেকের মস্তিষ্কের দুর্বলতার কারণে তাঁরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। বন্যা, অগ্নিকাণ্ড ও কোভিড-১৯ মহামারির মতো বাহ্যিক ঘটনাগুলো এই পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আসক্ত কিছু ব্যক্তি মাদকের খরচ জোগাতে নিজেরাই কারবারি হয়ে ওঠেন। আবার অনেকে বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা মানসিক ভারসাম্যহীনতার (সাইকোসিস) মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েন। মাদক ও অপরাধবিষয়ক জাতিসংঘের দপ্তরের (ইউএনওডিসি) তথ্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের শেষে ইয়াবা তরুণদের সংস্কৃতির অংশ হওয়ার আগে এশিয়ার কিছু অংশে ট্রাকচালকরা এটি সেবন করতেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ১২ লাখ ইয়াবা বড়ি জব্দ করা হয়েছিল।

ইউএনওডিসি বলছে, ২০২৪ সালে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রেকর্ড ২৩৬ টন মেথামফেটামিন জব্দ করা হয়েছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশে আসা ইয়াবার প্রধান উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে মিয়ানমারকে ধারণা করা হয়। মেটালফ্রিক বলেন, ‘সবারই কষ্টের গল্পগুলো প্রায় একই রকম।’ তিনি জানান, বাংলাদেশে আসক্তরা সাধারণত সিগারেট দিয়ে শুরু করে গাঁজা ও কফ সিরাপের দিকে যায়। প্রথমবার ইয়াবা সেবনের সময় তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ‘আড্ডা বা মাস্তি’ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এটি তাঁর মনকে চরম উত্তেজিত করে তোলে। তিনি বলেন, ‘এই জিনিসটা মানুষকে পশু বানিয়ে দেয়।’ সস্তা ইয়াবা মুখ ও দাঁতের বারোটা বাজিয়ে দেয় এবং ব্যবহারকারীর চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে তাঁরা পাগল হয়ে গেছেন। নিয়মিত সেবনে স্ট্রোক, দাঁত হারানো বা খিঁচুনি হতে পারে।

মেটালফ্রিক জানান, গত কয়েক বছরে আফিম বা হেরোইন পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে এবং ইয়াবা অন্য সব মাদককে হটিয়ে দিয়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় অল্প বয়সী ছেলেদের ছোট প্যাকেটে ইয়াবা বিক্রি করতে দেখা যায়, যা রিকশাচালকরা হাত বাড়িয়ে নিয়ে নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শেখ হাসিনার পতনের পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি জয়লাভ করে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। মেটালফ্রিকের ব্যক্তিগত জীবনেও জটিলতা রয়েছে। তাঁর মুক্তিযোদ্ধা বাবার পরিচয় নিয়ে বন্ধুদের বিতর্ক এবং নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া তাঁকে হতাশ করেছে। তিনি এখন ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে বাইরের জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তিনি বলেন, ইয়াবা মানুষকে ‘মিথ্যা আত্মবিশ্বাস’ দেয়, যার ফলে অনেকে অদ্ভুত সব ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। তাঁর মতে, ইয়াবা সেবনকারীরা ঘুমায় না বলে ‘দুই বছরও টিকতে পারে না’। তিনি একে ‘ধীরে ধীরে বিষপ্রয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করেন।