লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে সাইবার মামলায় ৬৩ বিদেশি গ্রেপ্তার, কারো কাছে নেই পাসপোর্ট

চট্টগ্রামের খুলশী থানা এলাকার একটি বহুতল ভবন থেকে চীন, পাকিস্তান ও লাওসসহ বিভিন্ন দেশের ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খুলশী থানাধীন জালালাবাদ কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অংশ নেয় নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৬৮টি ল্যাপটপ ও ৬৫টি মোবাইলসহ মোট ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। তাদের পরিচয় এবং বাংলাদেশে অবস্থানের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। জব্দ করা ডিভাইসগুলোতে থাকা তথ্য যাচাই-বাছাই করতে ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল চট্টগ্রামে আসছে। তাদের সহায়তায় ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা ও তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে।

এদিকে, এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহমেদ জানান, চীন, লাওস ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অনলাইন প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চলায় প্রতারক চক্র বাংলাদেশকে তাদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাদের সহায়তায় দেশি ও বিদেশি আরও অনেকে জড়িত রয়েছে, যারা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে। গ্রেপ্তার হওয়া ৬৩ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া না গেলেও জব্দ করা ডিভাইসের তথ্য অনুযায়ী তারা বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট ভিজিট করেছেন। তাদের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রায় দেড় মাস আগে তারা ওই ভবনটি ভাড়া নিলেও তাদের কারো কাছে কোনো পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। সমস্ত পাসপোর্ট এক ব্যক্তির কাছে জমা রাখা আছে। সেই মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা গেলে এবং পাসপোর্টগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হলে তারা কখন এবং কীভাবে বাংলাদেশে এসেছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার শহরের একটি হোটেল থেকে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে পাঁচজন চীনা ও একজন তাইওয়ানিজসহ মোট ছয়জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সে সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন এবং ৪০টি ল্যাপটপসহ বিপুল পরিমাণ যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনকে ৮৫ হাজার কোটি টাকার সামরিক সহায়তা দেবে ইউরোপীয় কমিশন

চট্টগ্রামে সাইবার মামলায় ৬৩ বিদেশি গ্রেপ্তার, কারো কাছে নেই পাসপোর্ট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০২:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের খুলশী থানা এলাকার একটি বহুতল ভবন থেকে চীন, পাকিস্তান ও লাওসসহ বিভিন্ন দেশের ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খুলশী থানাধীন জালালাবাদ কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অংশ নেয় নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৬৮টি ল্যাপটপ ও ৬৫টি মোবাইলসহ মোট ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। তাদের পরিচয় এবং বাংলাদেশে অবস্থানের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। জব্দ করা ডিভাইসগুলোতে থাকা তথ্য যাচাই-বাছাই করতে ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল চট্টগ্রামে আসছে। তাদের সহায়তায় ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা ও তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে।

এদিকে, এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহমেদ জানান, চীন, লাওস ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অনলাইন প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চলায় প্রতারক চক্র বাংলাদেশকে তাদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাদের সহায়তায় দেশি ও বিদেশি আরও অনেকে জড়িত রয়েছে, যারা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে। গ্রেপ্তার হওয়া ৬৩ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া না গেলেও জব্দ করা ডিভাইসের তথ্য অনুযায়ী তারা বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট ভিজিট করেছেন। তাদের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রায় দেড় মাস আগে তারা ওই ভবনটি ভাড়া নিলেও তাদের কারো কাছে কোনো পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। সমস্ত পাসপোর্ট এক ব্যক্তির কাছে জমা রাখা আছে। সেই মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা গেলে এবং পাসপোর্টগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হলে তারা কখন এবং কীভাবে বাংলাদেশে এসেছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার শহরের একটি হোটেল থেকে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে পাঁচজন চীনা ও একজন তাইওয়ানিজসহ মোট ছয়জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সে সময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন এবং ৪০টি ল্যাপটপসহ বিপুল পরিমাণ যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছিল।