লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবির গভীর উদ্বেগ

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করছে, খসড়াটিতে এমন কিছু বিধান রাখা হয়েছে যা জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, বাক্স্বাধীনতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা অনুসরণ করে খসড়াটি নতুন করে সাজানোর দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই খসড়া আইনটিতে সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা এবং জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার—এই তিনটি জটিল বিষয়কে একীভূত করা হয়েছে, যার কোনোটিতেই যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে অস্পষ্ট ও উদ্দেশ্যমূলক অপব্যাখ্যার সুযোগ রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সাইবার জগতের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণমূলক বিষয়গুলো এই আইনের আওতাবহির্ভূত এবং বৈশ্বিক উত্তম চর্চার পরিপন্থী।

ইফতেখারুজ্জামানের শঙ্কা, খসড়া আইনটি অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের সাইবার স্পেস জবাবদিহিহীন ও নিপীড়নমূলক এক নজরদারির ভুবনে পরিণত হবে। তিনি বলেন, গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর বা রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর—এমন বিষয়গুলোকে অস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা বাক্‌স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে ব্যবহৃত হতে পারে। এছাড়া ‘যৌন হয়রানি’ ও ‘সেক্সটর্শন’-এর মতো অপরাধের সংজ্ঞা অসম্পূর্ণ ও অপেশাদারভাবে দেওয়া হয়েছে, যা ভুক্তভোগীর অধিকার হরণের কারণ হতে পারে।

খসড়া আইনের ৪৬(২) ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে ধারা-২৩-এর উল্লেখ করে অজামিনযোগ্য অপরাধের কথা বলা হয়েছে। দেশের অখণ্ডতা বা বৈদেশিক সম্পর্কের দোহাই দিয়ে এই ধারাগুলো ক্ষমতাসীনদের মর্জিমাফিক ভিন্নমত দমনে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এই কাউন্সিলে বেসরকারি বিশেষজ্ঞ হিসেবে মাত্র দুজনের থাকার কথা বলা হয়েছে, যারা আবার সরকার কর্তৃক মনোনীত। ফলে এই কাউন্সিল সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং জবাবদিহিহীনভাবে কাজ করবে। টিআইবি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বাধীন ও দলনিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাউন্সিল গঠনের এবং বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের পরিবর্তে কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কাউন্সিল সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘সরল বিশ্বাসে’ কৃত কর্মকাণ্ডের জন্য ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান—এই মৌলিক নীতির পরিপন্থী। ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া সাইবার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিয়ে টিআইবি দ্রুত খসড়াটি ঢেলে সাজানোর দাবি জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনকে ৮৫ হাজার কোটি টাকার সামরিক সহায়তা দেবে ইউরোপীয় কমিশন

সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবির গভীর উদ্বেগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করছে, খসড়াটিতে এমন কিছু বিধান রাখা হয়েছে যা জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, বাক্স্বাধীনতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামত এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা অনুসরণ করে খসড়াটি নতুন করে সাজানোর দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই খসড়া আইনটিতে সাইবার অপরাধ, সাইবার সুরক্ষা এবং জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার—এই তিনটি জটিল বিষয়কে একীভূত করা হয়েছে, যার কোনোটিতেই যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে অস্পষ্ট ও উদ্দেশ্যমূলক অপব্যাখ্যার সুযোগ রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সাইবার জগতের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণমূলক বিষয়গুলো এই আইনের আওতাবহির্ভূত এবং বৈশ্বিক উত্তম চর্চার পরিপন্থী।

ইফতেখারুজ্জামানের শঙ্কা, খসড়া আইনটি অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের সাইবার স্পেস জবাবদিহিহীন ও নিপীড়নমূলক এক নজরদারির ভুবনে পরিণত হবে। তিনি বলেন, গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর বা রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর—এমন বিষয়গুলোকে অস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা বাক্‌স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে ব্যবহৃত হতে পারে। এছাড়া ‘যৌন হয়রানি’ ও ‘সেক্সটর্শন’-এর মতো অপরাধের সংজ্ঞা অসম্পূর্ণ ও অপেশাদারভাবে দেওয়া হয়েছে, যা ভুক্তভোগীর অধিকার হরণের কারণ হতে পারে।

খসড়া আইনের ৪৬(২) ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে ধারা-২৩-এর উল্লেখ করে অজামিনযোগ্য অপরাধের কথা বলা হয়েছে। দেশের অখণ্ডতা বা বৈদেশিক সম্পর্কের দোহাই দিয়ে এই ধারাগুলো ক্ষমতাসীনদের মর্জিমাফিক ভিন্নমত দমনে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এই কাউন্সিলে বেসরকারি বিশেষজ্ঞ হিসেবে মাত্র দুজনের থাকার কথা বলা হয়েছে, যারা আবার সরকার কর্তৃক মনোনীত। ফলে এই কাউন্সিল সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং জবাবদিহিহীনভাবে কাজ করবে। টিআইবি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বাধীন ও দলনিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাউন্সিল গঠনের এবং বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের পরিবর্তে কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কাউন্সিল সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘সরল বিশ্বাসে’ কৃত কর্মকাণ্ডের জন্য ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান—এই মৌলিক নীতির পরিপন্থী। ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া সাইবার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিয়ে টিআইবি দ্রুত খসড়াটি ঢেলে সাজানোর দাবি জানিয়েছে।