লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সরকার, সাংবাদিক ও মালিকরা একযোগে কাজ করছে

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে না। বরং একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল এবং অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাংবাদিক, মালিকপক্ষ ও সরকার যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত 'টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী জানান, সরকার এমন একটি মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায় যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য থাকবে। এর মাধ্যমে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পেশাগত মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন। তিনি গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, টেকসই গণতন্ত্রের জন্য যেমন স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য, তেমনি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা অন্য যেকোনো শিল্পের চেয়ে ভিন্ন। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের অঘোষিত চতুর্থ স্তম্ভ। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম শিল্পের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, মালিকপক্ষ যদি ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসঙ্গত মুনাফা না পায়, তবে শিল্পটি টেকসই হবে না। একইসঙ্গে শক্তিশালী বেসরকারি উৎপাদন অর্থনীতি ছাড়া বিজ্ঞাপন বাজারও সম্প্রসারিত হবে না।

জহির উদ্দিন স্বপন বর্তমান পরিবর্তিত মিডিয়া ইকোসিস্টেমের কথা উল্লেখ করে বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই ক্ষেত্রটিকে আরও জটিল করেছে। তাই ভবিষ্যৎমুখী নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা প্রয়োজন। সুশাসন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকলে গণমাধ্যম ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর।

মন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও গত জাতীয় নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা গণমাধ্যম খাতে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম এবং টিইসির সদস্য সচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিক।

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে তরুণীদের আটকে পর্নোগ্রাফি তৈরির অভিযোগে ৫ জন গ্রেপ্তার

গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সরকার, সাংবাদিক ও মালিকরা একযোগে কাজ করছে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০১:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে না। বরং একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল এবং অর্থনৈতিকভাবে টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাংবাদিক, মালিকপক্ষ ও সরকার যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত 'টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী জানান, সরকার এমন একটি মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায় যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক, বিজ্ঞাপনদাতা, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য থাকবে। এর মাধ্যমে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পেশাগত মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন। তিনি গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, টেকসই গণতন্ত্রের জন্য যেমন স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য, তেমনি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।

গণমাধ্যমকে রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা অন্য যেকোনো শিল্পের চেয়ে ভিন্ন। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের অঘোষিত চতুর্থ স্তম্ভ। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম শিল্পের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, মালিকপক্ষ যদি ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ ও যুক্তিসঙ্গত মুনাফা না পায়, তবে শিল্পটি টেকসই হবে না। একইসঙ্গে শক্তিশালী বেসরকারি উৎপাদন অর্থনীতি ছাড়া বিজ্ঞাপন বাজারও সম্প্রসারিত হবে না।

জহির উদ্দিন স্বপন বর্তমান পরিবর্তিত মিডিয়া ইকোসিস্টেমের কথা উল্লেখ করে বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই ক্ষেত্রটিকে আরও জটিল করেছে। তাই ভবিষ্যৎমুখী নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা প্রয়োজন। সুশাসন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা না থাকলে গণমাধ্যম ব্যবসায়িক স্বার্থ বা দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য ক্ষতিকর।

মন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও গত জাতীয় নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা গণমাধ্যম খাতে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম এবং টিইসির সদস্য সচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিক।