লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এস আলম ও সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বরখাস্ত ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা

ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী। এই অভিযোগ জমা দেওয়ার পরপরই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি, বরং সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) অনুমতি ছাড়াই ওই কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে দুদকে অভিযোগটি জমা দিয়েছিলেন, যা এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণ। জহির হোসেন আরও জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন ইয়াসীন আলীকে বরখাস্তের বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন।

তবে ব্যাংকের নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৬ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের পর ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’, এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘গ্যালাক্সি সোয়েটার’ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দায়েরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২৭ জুলাই শাখার ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামক একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দুদকে অনুসন্ধানের অনুরোধ জানায়। চারটি অডিট ফার্মের মাধ্যমে ঘটনাটি তদন্ত করে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতি পাওয়ার পর এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন ব্যাংকটির পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে গঠিত পর্ষদের সদস্য ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশের লাঠি দিয়ে মাদকের আস্তানা ধ্বংসের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের

এস আলম ও সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বরখাস্ত ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:২১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম, তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী। এই অভিযোগ জমা দেওয়ার পরপরই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি, বরং সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) অনুমতি ছাড়াই ওই কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে দুদকে অভিযোগটি জমা দিয়েছিলেন, যা এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কারণ। জহির হোসেন আরও জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন ইয়াসীন আলীকে বরখাস্তের বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন।

তবে ব্যাংকের নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৬ জুলাইয়ের সিদ্ধান্তের পর ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলীকে ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’, এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘গ্যালাক্সি সোয়েটার’ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দায়েরের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২৭ জুলাই শাখার ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা দেওয়া হয়। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামক একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দুদকে অনুসন্ধানের অনুরোধ জানায়। চারটি অডিট ফার্মের মাধ্যমে ঘটনাটি তদন্ত করে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতি পাওয়ার পর এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন ব্যাংকটির পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে গঠিত পর্ষদের সদস্য ছিলেন।