লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কামারখন্দে থাইল্যান্ডের কানিয়া তরমুজ চাষে হাসিবুরের সাফল্য, লাখ টাকা লাভের আশা

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৫৫ (01-09-2026, 17:55)

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে থাইল্যান্ডের কানিয়া জাতের তরমুজ চাষ করে সফলতার নতুন পথ দেখাচ্ছেন কৃষক হাসিবুর রহমান। ভদ্রঘাট ইউনিয়নের মুগবেলাই উত্তরপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে হাসিবুর গত তিন বছর ধরে এই বিদেশি জাতের তরমুজ আবাদ করছেন। চলতি মৌসুমে মাত্র ২০ শতক জমিতে এই তরমুজ চাষ করে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

হাসিবুর জানান, চলতি মৌসুমে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যা মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়া এবং বাজারে উপযুক্ত দাম থাকলে এই জমি থেকে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব বলে তিনি আশা করছেন। এনডিপির মাধ্যমে এই তরমুজের বীজ সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। আকর্ষণীয় রূপ এবং সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে কানিয়া তরমুজের বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি তরমুজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অল্প জমিতে তুলনামূলক কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় গত তিন বছর ধরে তিনি এই তরমুজ চাষ করছেন।

তবে চাষাবাদে সরকারি কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এই কৃষক। হাসিবুর রহমানের দাবি, তিন বছর ধরে নিজের অভিজ্ঞতা ও কঠোর পরিশ্রম খাটিয়ে তিনি এই তরমুজ চাষ করে আসছেন। কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এখন পর্যন্ত কোনো পরামর্শ কিংবা সুযোগ-সুবিধা তিনি পাননি। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও সহযোগিতা করলে এই চাষকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো বলে তিনি মনে করেন।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরামর্শ দেওয়া হলে এই লাভজনক ফসল চাষে এলাকার বেকার যুবক ও ক্ষুদ্র চাষিরা আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবেন। স্বল্প জমিতে অধিক লাভের সম্ভাবনা থাকায় এটি এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ফসল হতে পারে।

এদিকে কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসাইন জানান, হাইব্রিড জাতের কানিয়া তরমুজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ভেতরের অংশটি হলুদ রঙের এবং এটি অত্যন্ত মিষ্টি। অসময়ে এই তরমুজ চাষ করায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকে এবং কৃষকরাও ভালো দাম পেয়ে থাকেন। তরুণদের কৃষির প্রতি আগ্রহী হয়ে এ ধরনের লাভজনক ফসল আবাদে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিজিটাল রূপান্তর শুধু প্রযুক্তি নয়, মূল লক্ষ্য উন্নত জনসেবা: আইসিটিমন্ত্রী

কামারখন্দে থাইল্যান্ডের কানিয়া তরমুজ চাষে হাসিবুরের সাফল্য, লাখ টাকা লাভের আশা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:১৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৫৫ (01-09-2026, 17:55)

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে থাইল্যান্ডের কানিয়া জাতের তরমুজ চাষ করে সফলতার নতুন পথ দেখাচ্ছেন কৃষক হাসিবুর রহমান। ভদ্রঘাট ইউনিয়নের মুগবেলাই উত্তরপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে হাসিবুর গত তিন বছর ধরে এই বিদেশি জাতের তরমুজ আবাদ করছেন। চলতি মৌসুমে মাত্র ২০ শতক জমিতে এই তরমুজ চাষ করে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

হাসিবুর জানান, চলতি মৌসুমে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যা মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হওয়া এবং বাজারে উপযুক্ত দাম থাকলে এই জমি থেকে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব বলে তিনি আশা করছেন। এনডিপির মাধ্যমে এই তরমুজের বীজ সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। আকর্ষণীয় রূপ এবং সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে কানিয়া তরমুজের বেশ ভালো চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি তরমুজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অল্প জমিতে তুলনামূলক কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় গত তিন বছর ধরে তিনি এই তরমুজ চাষ করছেন।

তবে চাষাবাদে সরকারি কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এই কৃষক। হাসিবুর রহমানের দাবি, তিন বছর ধরে নিজের অভিজ্ঞতা ও কঠোর পরিশ্রম খাটিয়ে তিনি এই তরমুজ চাষ করে আসছেন। কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এখন পর্যন্ত কোনো পরামর্শ কিংবা সুযোগ-সুবিধা তিনি পাননি। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও সহযোগিতা করলে এই চাষকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো বলে তিনি মনে করেন।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক পরামর্শ দেওয়া হলে এই লাভজনক ফসল চাষে এলাকার বেকার যুবক ও ক্ষুদ্র চাষিরা আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবেন। স্বল্প জমিতে অধিক লাভের সম্ভাবনা থাকায় এটি এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ফসল হতে পারে।

এদিকে কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসাইন জানান, হাইব্রিড জাতের কানিয়া তরমুজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ভেতরের অংশটি হলুদ রঙের এবং এটি অত্যন্ত মিষ্টি। অসময়ে এই তরমুজ চাষ করায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকে এবং কৃষকরাও ভালো দাম পেয়ে থাকেন। তরুণদের কৃষির প্রতি আগ্রহী হয়ে এ ধরনের লাভজনক ফসল আবাদে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছে।