লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে খাঁচায় মাছ চাষে ভাগ্য বদলাচ্ছে শত শত পরিবারের

সিরাজগঞ্জের ফুলজোড়, বড়াল ও যমুনা নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ করে ভাগ্য বদলাচ্ছেন নদী তীরবর্তী এলাকার শত শত মানুষ। ভালো লাভ হওয়ায় দিন দিন এই পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, চৌহালি ও সদর উপজেলায় ১ হাজার ৫৮৮টি খাঁচায় ১০৫ জন চাষি মূলত মনোসেক্স তেলাপিয়া এবং কিছু ব্লেককার্প জাতের মাছ চাষ করছেন।

বিশেষ করে ফুলজোড় নদীর ভূইয়াগাঁতী থেকে নলকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গত কয়েক বছরে খাঁচায় মাছ চাষির সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। ৫ বছর আগেও যেখানে মাত্র ৩০ জন চাষি ছিলেন, সেখানে এখন ৯০ জন মৎস্যচাষি ১ হাজার ২০০টি খাঁচায় মাছ চাষ করছেন। এই কার্যক্রমের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে প্রায় চার শতাধিক পরিবার। এখান থেকে বছরে প্রায় দেড় হাজার টন মাছ উৎপাদিত হচ্ছে।

এই এলাকায় খাঁচায় মাছ চাষের শুরুটা হয়েছিল ২০১১ সালে। স্থানীয় দিনমজুর হোসেন আলী, শামছুল হক, আব্দুর রাজ্জাক, মিজানুর ও জয়নাল অবসর সময়ে চাঁদপুরে কাজ করতে গিয়ে এই চাষ পদ্ধতির ধারণা পান। এলাকায় ফিরে এসে তারা ড্রাম, নেট জাল ও বাঁশ দিয়ে ১৫ ফুট প্রস্থ ও ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের খাঁচা তৈরি করে চাষ শুরু করেন। প্রতিটি খাঁচা তৈরিতে খরচ পড়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা।

২৮টি খাঁচায় তেলাপিয়া চাষ করা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খাঁচায় প্রতি কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০টি পোনা ছাড়া হয়। ৫ মাসে একেকটি মাছের ওজন ১ কেজি করতে পৌনে দুই কেজি ভাসমান ফিড খাবার ও ওষুধ প্রয়োজন হয়, যাতে খরচ হয় ১৭৫ টাকা। বাজারে মনোসেক্স তেলাপিয়ার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এটি বেশ লাভজনক। আরেক চাষি লোকমান হোসেন জানান, তিনি ৬৫টি খাঁচায় চাষ করছেন এবং শীতকাল তেলাপিয়া চাষের জন্য উপযুক্ত সময়। তবে ভূইয়াগাঁতী শ্মশানের পূর্ব পাশে ৪৫টি খাঁচায় চাষ করা পুরস্কারপ্রাপ্ত চাষি আতাউর রহমান জানান, চৈত্র ও বৈশাখ মাস মাছ চাষের ভালো সময় হলেও উজান থেকে আসা কেমিক্যালের কারণে অনেক সময় মাছ মরে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

রায়গঞ্জ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ফুলজোড় নদীর খাঁচায় উৎপাদিত তেলাপিয়া দেশীয় মাছের চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখছে। চাষিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রকল্পের আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষ জানান, তারা নিয়মিত খাঁচা পরিদর্শন, পানির গুণগত মান পরীক্ষা ও রোগাক্রান্ত মাছের চিকিৎসার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। চাষিরা সরকারি আর্থিক সহযোগিতা পেলে এই চাষ পদ্ধতি আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

৫ বছর আগে যেখানে ৩০ জন চাষি ছিল আজ সেখানে ৯০ জন মৎস্যচাষির ১২০০ খাঁচায় মাছ চাষ করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভৈরবে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সিরাজগঞ্জে খাঁচায় মাছ চাষে ভাগ্য বদলাচ্ছে শত শত পরিবারের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩১:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের ফুলজোড়, বড়াল ও যমুনা নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ করে ভাগ্য বদলাচ্ছেন নদী তীরবর্তী এলাকার শত শত মানুষ। ভালো লাভ হওয়ায় দিন দিন এই পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, চৌহালি ও সদর উপজেলায় ১ হাজার ৫৮৮টি খাঁচায় ১০৫ জন চাষি মূলত মনোসেক্স তেলাপিয়া এবং কিছু ব্লেককার্প জাতের মাছ চাষ করছেন।

বিশেষ করে ফুলজোড় নদীর ভূইয়াগাঁতী থেকে নলকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গত কয়েক বছরে খাঁচায় মাছ চাষির সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। ৫ বছর আগেও যেখানে মাত্র ৩০ জন চাষি ছিলেন, সেখানে এখন ৯০ জন মৎস্যচাষি ১ হাজার ২০০টি খাঁচায় মাছ চাষ করছেন। এই কার্যক্রমের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে প্রায় চার শতাধিক পরিবার। এখান থেকে বছরে প্রায় দেড় হাজার টন মাছ উৎপাদিত হচ্ছে।

এই এলাকায় খাঁচায় মাছ চাষের শুরুটা হয়েছিল ২০১১ সালে। স্থানীয় দিনমজুর হোসেন আলী, শামছুল হক, আব্দুর রাজ্জাক, মিজানুর ও জয়নাল অবসর সময়ে চাঁদপুরে কাজ করতে গিয়ে এই চাষ পদ্ধতির ধারণা পান। এলাকায় ফিরে এসে তারা ড্রাম, নেট জাল ও বাঁশ দিয়ে ১৫ ফুট প্রস্থ ও ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের খাঁচা তৈরি করে চাষ শুরু করেন। প্রতিটি খাঁচা তৈরিতে খরচ পড়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা।

২৮টি খাঁচায় তেলাপিয়া চাষ করা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খাঁচায় প্রতি কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০টি পোনা ছাড়া হয়। ৫ মাসে একেকটি মাছের ওজন ১ কেজি করতে পৌনে দুই কেজি ভাসমান ফিড খাবার ও ওষুধ প্রয়োজন হয়, যাতে খরচ হয় ১৭৫ টাকা। বাজারে মনোসেক্স তেলাপিয়ার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এটি বেশ লাভজনক। আরেক চাষি লোকমান হোসেন জানান, তিনি ৬৫টি খাঁচায় চাষ করছেন এবং শীতকাল তেলাপিয়া চাষের জন্য উপযুক্ত সময়। তবে ভূইয়াগাঁতী শ্মশানের পূর্ব পাশে ৪৫টি খাঁচায় চাষ করা পুরস্কারপ্রাপ্ত চাষি আতাউর রহমান জানান, চৈত্র ও বৈশাখ মাস মাছ চাষের ভালো সময় হলেও উজান থেকে আসা কেমিক্যালের কারণে অনেক সময় মাছ মরে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

রায়গঞ্জ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ফুলজোড় নদীর খাঁচায় উৎপাদিত তেলাপিয়া দেশীয় মাছের চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখছে। চাষিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রকল্পের আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষ জানান, তারা নিয়মিত খাঁচা পরিদর্শন, পানির গুণগত মান পরীক্ষা ও রোগাক্রান্ত মাছের চিকিৎসার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। চাষিরা সরকারি আর্থিক সহযোগিতা পেলে এই চাষ পদ্ধতি আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

৫ বছর আগে যেখানে ৩০ জন চাষি ছিল আজ সেখানে ৯০ জন মৎস্যচাষির ১২০০ খাঁচায় মাছ চাষ করা হচ্ছে।