লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সভ্যতা বিকাশে মুসলিম বিজ্ঞানীদের কালজয়ী অবদান ও ইতিহাস

জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নিত্যনতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে পৃথিবী প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে। এই আধুনিকায়নের পেছনে মুসলিম জ্ঞান-সাধকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁরা নিজেদের মেধা ও মননশীলতা দিয়ে বিশ্বদরবারে এক উচ্চ আসন অলংকৃত করেছেন।

আবু মুসা জাবের ইবনে হাইয়ানকে 'রসায়নের জনক' বলা হয়। ৭২১ সালে জন্মগ্রহণকারী এই বিজ্ঞানী রসায়ন, আলকেমি, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি কুফায় একটি বিজ্ঞানাগার প্রতিষ্ঠা করেন এবং ইস্পাত তৈরি, লোহার মরীচিকা রোধ, কাপড় রং করার প্রণালি ও চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। তাঁর লেখা 'বুক অব স্টোনস'-এ রোবট তৈরির প্রণালির উল্লেখ রয়েছে। তিনি প্রায় দুই হাজার বই লিখেছেন, যার মধ্যে রসায়নে ২৬৭টি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে ৫০০টি উল্লেখযোগ্য। আনুমানিক ৮১৫ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

বীজগণিতের জনক আবু জাফর মুহাম্মদ বিন মুসা আল-খাওয়ারিজমি ৭৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খলিফা মামুনের 'বাইতুল হিকমাহ'-এর প্রধান গ্রন্থাগারিক ছিলেন। তাঁর অমর গ্রন্থ 'আল জাবর ওয়াল মোকাবিলা' থেকে বীজগণিতের ইংরেজি নাম 'আল-জেবরা' এসেছে। তিনিই প্রথম পাটিগণিতে শূন্যের ব্যবহার শুরু করেন। ৮৫০ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-কিন্দি ৮০১ সালে ইরাকের কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে 'ক্রিপ্টোগ্রাফি ও পেরিপ্যাটেটিক দর্শনের জনক' বলা হয়। তিনি গ্রিক দর্শনকে মুসলিম বিশ্বে পরিচিত করেন এবং কম্পাঙ্ক বিশ্লেষণপদ্ধতি আবিষ্কার করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ওষুধের কার্যকারিতা পরিমাপক যন্ত্র উদ্ভাবনেও তাঁর অবদান রয়েছে। ৮৭৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

আলোকবিজ্ঞানের জনক ইবনুল হাইসাম ৯৬৫ সালে বসরায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সাত খণ্ডের বই 'আল মানাজির' আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম ভিত্তি। তাঁর সম্মানে চাঁদের একটি জ্বালামুখের নাম 'আল হ্যাজেন' রাখা হয়েছে। ১০৪০ সালে কায়রোতে তাঁর মৃত্যু হয়।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনা ৯৮০ সালে উজবেকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে কোরআন মুখস্থ করা এই বিজ্ঞানী ১৮ বছর বয়সে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসকের মর্যাদা পান। তাঁর ১৪ খণ্ডের 'আল কানুন ফিত তিব্ব' চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাইবেল হিসেবে পরিচিত। ১০৩৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

আবু রায়হান আল-বেরুনি ৯৭৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে 'ইন্ডোলজির প্রতিষ্ঠাতা' ও আধুনিক জিওডেসির জনক বলা হয়। তিনি ১৪৬টি বই লিখেছেন, যার মধ্যে ৯৫টি জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিত বিষয়ক। ১০৫০ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

ইমাম গাজালি ১০৫৮ সালে তুস নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মুসলিম দর্শন ও শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনেন। তাঁর লেখা 'এহইয়াউ উলুমিদ্দিন' বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ১১১১ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

ওমর খৈয়াম ১০৪৮ সালে নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইসলামি বর্ষপঞ্জি সংস্কার ও ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধানে ভূমিকা রাখেন। ১১৩১ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ভ্রমণকাহিনি 'রিহলা' মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ১৩৬৮ বা ১৩৭৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

ইবনে খালদুন ১৩৩২ সালে তিউনিসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে আধুনিক সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতির জনকদের অন্যতম বলা হয়। তাঁর বিখ্যাত বই 'কিতাবুল ইবার' বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে প্রাসঙ্গিক। ১৪০৬ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভৈরবে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সভ্যতা বিকাশে মুসলিম বিজ্ঞানীদের কালজয়ী অবদান ও ইতিহাস

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নিত্যনতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে পৃথিবী প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে। এই আধুনিকায়নের পেছনে মুসলিম জ্ঞান-সাধকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁরা নিজেদের মেধা ও মননশীলতা দিয়ে বিশ্বদরবারে এক উচ্চ আসন অলংকৃত করেছেন।

আবু মুসা জাবের ইবনে হাইয়ানকে 'রসায়নের জনক' বলা হয়। ৭২১ সালে জন্মগ্রহণকারী এই বিজ্ঞানী রসায়ন, আলকেমি, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি কুফায় একটি বিজ্ঞানাগার প্রতিষ্ঠা করেন এবং ইস্পাত তৈরি, লোহার মরীচিকা রোধ, কাপড় রং করার প্রণালি ও চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। তাঁর লেখা 'বুক অব স্টোনস'-এ রোবট তৈরির প্রণালির উল্লেখ রয়েছে। তিনি প্রায় দুই হাজার বই লিখেছেন, যার মধ্যে রসায়নে ২৬৭টি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে ৫০০টি উল্লেখযোগ্য। আনুমানিক ৮১৫ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

বীজগণিতের জনক আবু জাফর মুহাম্মদ বিন মুসা আল-খাওয়ারিজমি ৭৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খলিফা মামুনের 'বাইতুল হিকমাহ'-এর প্রধান গ্রন্থাগারিক ছিলেন। তাঁর অমর গ্রন্থ 'আল জাবর ওয়াল মোকাবিলা' থেকে বীজগণিতের ইংরেজি নাম 'আল-জেবরা' এসেছে। তিনিই প্রথম পাটিগণিতে শূন্যের ব্যবহার শুরু করেন। ৮৫০ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-কিন্দি ৮০১ সালে ইরাকের কুফায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে 'ক্রিপ্টোগ্রাফি ও পেরিপ্যাটেটিক দর্শনের জনক' বলা হয়। তিনি গ্রিক দর্শনকে মুসলিম বিশ্বে পরিচিত করেন এবং কম্পাঙ্ক বিশ্লেষণপদ্ধতি আবিষ্কার করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ওষুধের কার্যকারিতা পরিমাপক যন্ত্র উদ্ভাবনেও তাঁর অবদান রয়েছে। ৮৭৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

আলোকবিজ্ঞানের জনক ইবনুল হাইসাম ৯৬৫ সালে বসরায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সাত খণ্ডের বই 'আল মানাজির' আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম ভিত্তি। তাঁর সম্মানে চাঁদের একটি জ্বালামুখের নাম 'আল হ্যাজেন' রাখা হয়েছে। ১০৪০ সালে কায়রোতে তাঁর মৃত্যু হয়।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনা ৯৮০ সালে উজবেকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে কোরআন মুখস্থ করা এই বিজ্ঞানী ১৮ বছর বয়সে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসকের মর্যাদা পান। তাঁর ১৪ খণ্ডের 'আল কানুন ফিত তিব্ব' চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাইবেল হিসেবে পরিচিত। ১০৩৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

আবু রায়হান আল-বেরুনি ৯৭৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে 'ইন্ডোলজির প্রতিষ্ঠাতা' ও আধুনিক জিওডেসির জনক বলা হয়। তিনি ১৪৬টি বই লিখেছেন, যার মধ্যে ৯৫টি জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিত বিষয়ক। ১০৫০ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

ইমাম গাজালি ১০৫৮ সালে তুস নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মুসলিম দর্শন ও শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনেন। তাঁর লেখা 'এহইয়াউ উলুমিদ্দিন' বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ১১১১ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

ওমর খৈয়াম ১০৪৮ সালে নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইসলামি বর্ষপঞ্জি সংস্কার ও ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধানে ভূমিকা রাখেন। ১১৩১ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ভ্রমণকাহিনি 'রিহলা' মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ১৩৬৮ বা ১৩৭৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

ইবনে খালদুন ১৩৩২ সালে তিউনিসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে আধুনিক সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতির জনকদের অন্যতম বলা হয়। তাঁর বিখ্যাত বই 'কিতাবুল ইবার' বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে প্রাসঙ্গিক। ১৪০৬ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।