লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কম্বোডিয়ায় ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ ১৭ দিন বন্দি দশা, ফিরে এসে যুবকের লোমহর্ষক বর্ণনা

কম্পিউটারে ডেটা এন্ট্রির আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়া গিয়ে চরম প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ঢাকার এক যুবক। মো. শফিকুল ইসলাম (৩০) নামের এই যুবককে সে দেশে পৌঁছানোর পর একটি ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ (প্রতারণাকেন্দ্র) ১৭ দিন বন্দি রেখে বৈদ্যুতিক শক ও মারধর করা হতো। শেষ পর্যন্ত ৩ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন। কম্বোডিয়ায় ২২ দিনের দুঃসহ অভিজ্ঞতার পর বর্তমানে তিনি দেশে অবস্থান করছেন।

ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। প্রায় আট বছর ধরে তিনি অগ্নিনির্বাপণসামগ্রীর ব্যবসা করে আসছিলেন। ফেসবুকে মো. মাসুদ মিয়া নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রস্তাব পান। কম্পিউটারে ডেটা এন্ট্রির কাজের কথা বলে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর মাসুদের সঙ্গে তাঁর সাড়ে চার লাখ টাকার চুক্তি হয়। চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছিল ২০০ টাকার স্ট্যাম্পে। এরপর শফিকুল ঢাকার প্রবাসীকল্যাণ ভবনে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তিন দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে ছাড়পত্র বা স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করেন।

প্রথমে গত বছরের ১৬ অক্টোবর তাঁর ফ্লাইট হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করে ২৬ অক্টোবর করা হয়। ঢাকা বিমানবন্দরে যাওয়ার পর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে আটকে দেয় এবং প্রবাসী ডেস্ক থেকে স্মার্টকার্ড যাচাই করে আসতে বলে। শফিকুল জানান, প্রবাসী ডেস্কের একজন কর্মী সবার কার্ড স্ক্যান করে যাচাই করছিলেন। তবে শফিকুলের পাসপোর্ট দেওয়ার পর নাম দেখেই কোনো যাচাই ছাড়াই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে যাওয়ার অনুমতি দেয়।

কম্বোডিয়ার নমপেন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেখানকার ইমিগ্রেশন পুলিশ শফিকুলকে আটকে দেয় এবং তাঁর পাসপোর্ট জব্দ করে। তখন তিনি বিমানবন্দরে বসেই কম্বোডিয়ায় থাকা মাসুদের সহযোগী মোস্তফা মুকুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। পুলিশ সদস্য শফিকুলের ফোনের মেসেজগুলো দেখার পর তাঁর এমপ্লয়মেন্ট ভিসা পরিবর্তন করে ভ্রমণ ভিসা দিয়ে বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে দেয়। বিমানবন্দরের বাইরে মুকুলের সহযোগী আরিফ অপেক্ষা করছিলেন। আরিফ তাঁর কাছ থেকে ৮০০ মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেন এবং একটি অটোরিকশায় করে তাঁকে ৪০ মিনিট দূরের একটি আবাসিক ভবনে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছাতে রাত হয়ে যায়। এরপর হঠাৎ রাত একটার দিকে শফিকুল ও আরেকজনকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। পরদিন অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর সকাল আটটার দিকে থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি প্রাচীরঘেরা কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের। সেখানে ছয়তলা তিনটি ভবন ছিল। তাঁদের জায়গা হয় একটি ভবনের তৃতীয় তলায় এবং কাজ করার জায়গা ছিল পঞ্চম তলায়।

শফিকুল জানান, পুরো চত্বরটি ছিল একটি কারাগারের মতো, যেখানে চারপাশে নিরাপত্তা প্রহরী মোতায়েন ছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের মুঠোফোন ও পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং চীনা ভাষায় লেখা একটি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার দুটি স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করতে দেওয়া হয়। শফিকুলের বর্ণনা অনুযায়ী, এই স্ক্যাম সেন্টারটির মালিক চীনা নাগরিক হলেও এটি পরিচালনা করত পাকিস্তানিরা। সেখানে ‘কলিং’ ও ‘চ্যাটিং’ নামে দুটি বিভাগ ছিল। কলিং বিভাগের কাজ ছিল চারটি ধাপে ভারতীয় নাগরিকদের টার্গেট করে প্রতারণা করা। প্রথম ধাপে প্রতিদিন ৫০০টি নম্বরে ফোন করে নাম ও ঠিকানা যাচাই করা হতো। দ্বিতীয় ধাপে আধার কার্ড যাচাই করা হতো। তৃতীয় ধাপে থানার মতো সাজানো কক্ষে পুলিশ সেজে এবং হাতকড়া পরা আসামি দেখিয়ে ভিডিও কলে হুমকি দেওয়া হতো। চতুর্থ ধাপে ব্যাংকের আদলে সেজে জরিমানার নামে পিন নম্বর হাতিয়ে নিয়ে ব্যাংক হিসাব হ্যাক করা হতো। অন্যদিকে, চ্যাটিং বিভাগের কর্মীরা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ডেটিং অ্যাপে মেয়েদের নামে ভুনা প্রোফাইল খুলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে নারী কণ্ঠে কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিত।

গত বছরের ২৮ অক্টোবর শফিকুল ও ইশতিয়াক রাব্বী নামের আরেকজন কলিং রুমের দ্বিতীয় ধাপের কাজে যোগ দেন। সেখানে অধিকাংশ কর্মীই ছিলেন পাকিস্তানি, তবে কিছু বাংলাদেশি ও ভারতীয়ও ছিলেন। দুই দিন পর কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে শফিকুল ও রাব্বীকে হাতকড়া পরিয়ে বন্দি করা হয়। ওই রাতেই ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে রাব্বীকে অন্য কোথাও বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর শফিকুলের ওপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। তাঁকে নিয়মিত মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো এবং পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না। তাঁকে কয়েকবার বিক্রির চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। অবশেষে ১৬ নভেম্বর তাঁকে একটি গাড়িতে করে সিয়েম রিয়েপের একটি নির্জন স্থানে ফেলে যাওয়া হয় এবং তাঁর পাসপোর্ট ও ফোন ফেরত দেওয়া হয়। গাড়ির চালকের সহায়তায় তিনি বাসের টিকিট কেটে নমপেনে পৌঁছান।

নমপেনে পৌঁছানোর পর শফিকুল জানতে পারেন যে, তাঁর ছোট ভাই কম্বোডিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। তাঁরাই ৩ হাজার ২০০ ডলার পরিশোধ করে তাঁকে স্ক্যাম সেন্টার থেকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করেন। নমপেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির এক প্রতিনিধির বাসায় দুই দিন থাকার পর বাংলাদেশ থেকে বিমান টিকিট পাঠানো হলে ১৮ নভেম্বর তিনি শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি দালাল মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মাসুদ দাবি করেন যে তিনি বিক্রির বিষয়টি জানতেন না এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে এরপর থেকে মাসুদ তাঁর অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন। শফিকুল বর্তমানে মাসুদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কোনো ক্ষতিপূরণ বা বিচার না পেয়ে শফিকুল এখন সরকারের সহায়তা কামনা করছেন। উল্লেখ্য, শফিকুলের পাসপোর্ট, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি ও আর্থিক লেনদেনের কিছু তথ্য দেখা গেলেও কম্বোডিয়ায় তাঁকে আটকে রাখা, নির্যাতন করা এবং বিক্রির চেষ্টার বর্ণনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণ করলেন সহশিল্পী মৌসুমী

কম্বোডিয়ায় ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ ১৭ দিন বন্দি দশা, ফিরে এসে যুবকের লোমহর্ষক বর্ণনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:১৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কম্পিউটারে ডেটা এন্ট্রির আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়া গিয়ে চরম প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ঢাকার এক যুবক। মো. শফিকুল ইসলাম (৩০) নামের এই যুবককে সে দেশে পৌঁছানোর পর একটি ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ (প্রতারণাকেন্দ্র) ১৭ দিন বন্দি রেখে বৈদ্যুতিক শক ও মারধর করা হতো। শেষ পর্যন্ত ৩ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন। কম্বোডিয়ায় ২২ দিনের দুঃসহ অভিজ্ঞতার পর বর্তমানে তিনি দেশে অবস্থান করছেন।

ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন। প্রায় আট বছর ধরে তিনি অগ্নিনির্বাপণসামগ্রীর ব্যবসা করে আসছিলেন। ফেসবুকে মো. মাসুদ মিয়া নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি কম্বোডিয়ায় চাকরির প্রস্তাব পান। কম্পিউটারে ডেটা এন্ট্রির কাজের কথা বলে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর মাসুদের সঙ্গে তাঁর সাড়ে চার লাখ টাকার চুক্তি হয়। চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছিল ২০০ টাকার স্ট্যাম্পে। এরপর শফিকুল ঢাকার প্রবাসীকল্যাণ ভবনে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তিন দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে ছাড়পত্র বা স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করেন।

প্রথমে গত বছরের ১৬ অক্টোবর তাঁর ফ্লাইট হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করে ২৬ অক্টোবর করা হয়। ঢাকা বিমানবন্দরে যাওয়ার পর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে আটকে দেয় এবং প্রবাসী ডেস্ক থেকে স্মার্টকার্ড যাচাই করে আসতে বলে। শফিকুল জানান, প্রবাসী ডেস্কের একজন কর্মী সবার কার্ড স্ক্যান করে যাচাই করছিলেন। তবে শফিকুলের পাসপোর্ট দেওয়ার পর নাম দেখেই কোনো যাচাই ছাড়াই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে যাওয়ার অনুমতি দেয়।

কম্বোডিয়ার নমপেন বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেখানকার ইমিগ্রেশন পুলিশ শফিকুলকে আটকে দেয় এবং তাঁর পাসপোর্ট জব্দ করে। তখন তিনি বিমানবন্দরে বসেই কম্বোডিয়ায় থাকা মাসুদের সহযোগী মোস্তফা মুকুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। পুলিশ সদস্য শফিকুলের ফোনের মেসেজগুলো দেখার পর তাঁর এমপ্লয়মেন্ট ভিসা পরিবর্তন করে ভ্রমণ ভিসা দিয়ে বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে দেয়। বিমানবন্দরের বাইরে মুকুলের সহযোগী আরিফ অপেক্ষা করছিলেন। আরিফ তাঁর কাছ থেকে ৮০০ মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেন এবং একটি অটোরিকশায় করে তাঁকে ৪০ মিনিট দূরের একটি আবাসিক ভবনে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছাতে রাত হয়ে যায়। এরপর হঠাৎ রাত একটার দিকে শফিকুল ও আরেকজনকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। পরদিন অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর সকাল আটটার দিকে থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি প্রাচীরঘেরা কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের। সেখানে ছয়তলা তিনটি ভবন ছিল। তাঁদের জায়গা হয় একটি ভবনের তৃতীয় তলায় এবং কাজ করার জায়গা ছিল পঞ্চম তলায়।

শফিকুল জানান, পুরো চত্বরটি ছিল একটি কারাগারের মতো, যেখানে চারপাশে নিরাপত্তা প্রহরী মোতায়েন ছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের মুঠোফোন ও পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয় এবং চীনা ভাষায় লেখা একটি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার দুটি স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করতে দেওয়া হয়। শফিকুলের বর্ণনা অনুযায়ী, এই স্ক্যাম সেন্টারটির মালিক চীনা নাগরিক হলেও এটি পরিচালনা করত পাকিস্তানিরা। সেখানে ‘কলিং’ ও ‘চ্যাটিং’ নামে দুটি বিভাগ ছিল। কলিং বিভাগের কাজ ছিল চারটি ধাপে ভারতীয় নাগরিকদের টার্গেট করে প্রতারণা করা। প্রথম ধাপে প্রতিদিন ৫০০টি নম্বরে ফোন করে নাম ও ঠিকানা যাচাই করা হতো। দ্বিতীয় ধাপে আধার কার্ড যাচাই করা হতো। তৃতীয় ধাপে থানার মতো সাজানো কক্ষে পুলিশ সেজে এবং হাতকড়া পরা আসামি দেখিয়ে ভিডিও কলে হুমকি দেওয়া হতো। চতুর্থ ধাপে ব্যাংকের আদলে সেজে জরিমানার নামে পিন নম্বর হাতিয়ে নিয়ে ব্যাংক হিসাব হ্যাক করা হতো। অন্যদিকে, চ্যাটিং বিভাগের কর্মীরা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ডেটিং অ্যাপে মেয়েদের নামে ভুনা প্রোফাইল খুলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে নারী কণ্ঠে কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিত।

গত বছরের ২৮ অক্টোবর শফিকুল ও ইশতিয়াক রাব্বী নামের আরেকজন কলিং রুমের দ্বিতীয় ধাপের কাজে যোগ দেন। সেখানে অধিকাংশ কর্মীই ছিলেন পাকিস্তানি, তবে কিছু বাংলাদেশি ও ভারতীয়ও ছিলেন। দুই দিন পর কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে শফিকুল ও রাব্বীকে হাতকড়া পরিয়ে বন্দি করা হয়। ওই রাতেই ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে রাব্বীকে অন্য কোথাও বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর শফিকুলের ওপর শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। তাঁকে নিয়মিত মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো এবং পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না। তাঁকে কয়েকবার বিক্রির চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। অবশেষে ১৬ নভেম্বর তাঁকে একটি গাড়িতে করে সিয়েম রিয়েপের একটি নির্জন স্থানে ফেলে যাওয়া হয় এবং তাঁর পাসপোর্ট ও ফোন ফেরত দেওয়া হয়। গাড়ির চালকের সহায়তায় তিনি বাসের টিকিট কেটে নমপেনে পৌঁছান।

নমপেনে পৌঁছানোর পর শফিকুল জানতে পারেন যে, তাঁর ছোট ভাই কম্বোডিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। তাঁরাই ৩ হাজার ২০০ ডলার পরিশোধ করে তাঁকে স্ক্যাম সেন্টার থেকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করেন। নমপেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির এক প্রতিনিধির বাসায় দুই দিন থাকার পর বাংলাদেশ থেকে বিমান টিকিট পাঠানো হলে ১৮ নভেম্বর তিনি শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি দালাল মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মাসুদ দাবি করেন যে তিনি বিক্রির বিষয়টি জানতেন না এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে এরপর থেকে মাসুদ তাঁর অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন। শফিকুল বর্তমানে মাসুদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কোনো ক্ষতিপূরণ বা বিচার না পেয়ে শফিকুল এখন সরকারের সহায়তা কামনা করছেন। উল্লেখ্য, শফিকুলের পাসপোর্ট, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি ও আর্থিক লেনদেনের কিছু তথ্য দেখা গেলেও কম্বোডিয়ায় তাঁকে আটকে রাখা, নির্যাতন করা এবং বিক্রির চেষ্টার বর্ণনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।