লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৪০ কোটি আয় করেও কেন বছরের বড় ফ্লপ যশের ‘টক্সিক’?

২০২৬ সালের অন্যতম বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ছিল কন্নড় তারকা যশ অভিনীত ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’। প্যান-ইন্ডিয়া মুক্তি, বিশাল বাজেট আর তারকা বহুল কাস্টিং নিয়ে গীতু মোহনদাস পরিচালিত এই সিনেমাটিকে ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। তবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে ছবিটি। দারুণ এক উদ্বোধনের পর বক্স অফিসে এমন ধস নেমেছে যে, ‘টক্সিক’ এখন বছরের অন্যতম বড় আর্থিক বিপর্যয় হিসেবে আলোচনা তৈরি করেছে। মুক্তির দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ৩৪০ কোটি রুপিতেই আটকে রয়েছে।

ট্রেড বিশ্লেষক রমেশ বালা ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছেন, ‘টক্সিক’ ছবিটির লোকসান ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি রুপির ঘরে পৌঁছাতে পারে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, সিনেমাটি তার বাজেটের প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থই তুলে আনতে পারেনি। বক্স অফিসে এই বিপুল লোকসানের কারণে ছবিটিকে এখন রামচরণ অভিনীত ‘গেম চেঞ্জার’ এবং প্রভাসের ‘আদিপুরুষ’-এর মতো বড় বাজেটের ব্যর্থ সিনেমার তালিকায় ফেলা হচ্ছে। এই তিনটি ছবিই বড় তারকা ও বিপুল বাণিজ্যিক আশা নিয়ে নির্মিত হয়েছিল, তবে বিনিয়োগের তুলনায় আয়ের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ‘টক্সিক’।

অথচ ছবিটির শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর অভাবনীয় সাফল্যের চার বছর পর বড় পর্দায় যশের প্রত্যাবর্তন, নয়নতারা ও কিয়ারার মতো তারকাদের উপস্থিতি এবং পরিচালক গীতু মোহনদাসের নির্মাণ—সব মিলিয়ে মুক্তির আগেই তৈরি হয়েছিল তুমুল ক্রেজ। মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৪০ কোটি রুপি আয় করে ছবিটি, যার মধ্যে ভারতের বাজার থেকেই এসেছিল প্রায় ১০১ কোটি রুপি। তবে দ্বিতীয় দিন থেকেই দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করে। দ্বিতীয় দিনে ভারতের আয় কমে দাঁড়ায় প্রায় ৩৭ কোটি রুপিতে। প্রথম সোমবার তা নেমে আসে ১০ কোটির নিচে। ১৬তম দিনে ভারতে ছবিটির দৈনিক আয় ছিল মাত্র ৪০ লাখ রুপির কাছাকাছি এবং বিশ্বব্যাপী দৈনিক সংগ্রহও এক কোটির নিচে নেমে যায়।

মুক্তির ১৫ দিন শেষে ‘টক্সিক’-এর বিশ্বব্যাপী মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৩৯ কোটি ৩২ লাখ রুপি। ১৬তম দিনে ভারতে আরও ৩৯ লাখ রুপি যোগ হওয়ায় দেশটিতে ছবিটির মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪৮ কোটি ২৪ লাখ রুপি। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী ৩৫০ কোটি রুপির মাইলফলক স্পর্শ করাও এখন কঠিন মনে হচ্ছে। রমেশ বালার মতে, ছবিটির বিশ্বব্যাপী শেয়ার মাত্র প্রায় ১৫০ কোটি রুপি, যা এর বিশাল ক্যানভাসের তুলনায় অত্যন্ত হতাশাজনক। শুধু কর্ণাটক নয়, ভারত ও বিদেশের কোনো বাজারেই ছবিটি ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট স্পর্শ করতে পারেনি।

‘টক্সিক’-এর প্রকৃত বাজেট নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী এর নির্মাণ ব্যয় ছিল প্রায় ৪৫০ কোটি রুপি। প্রচার, মুক্তি ও সুদসহ অন্যান্য খরচ মেলালে মোট বিনিয়োগ ৫০০ কোটি রুপি বা তারও বেশি ছাড়িয়ে যায়। এই বিপুল অঙ্কের বিপরীতে ৩৪০ কোটি রুপির বিশ্বব্যাপী আয় কোনোভাবেই লোকসান ঠেকাতে পারছে না। সাধারণত বক্স অফিসের আয়ের একটি বড় অংশ প্রেক্ষাগৃহের মালিক ও পরিবেশকদের কাছে চলে যায়। তবে স্যাটেলাইট, ডিজিটাল ও সংগীত স্বত্ব বিক্রি থেকে কিছু অর্থ উঠে আসে। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন হিসাব বলছে, ‘টক্সিক’-এর লোকসান ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি রুপি পর্যন্ত হতে পারে, যা সত্যি হলে এটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়।

বড় বাজেটের অন্য ব্যর্থ ছবিগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, রামচরণের ‘গেম চেঞ্জার’-এর বাজেট ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি রুপি এবং ছবিটির লোকসান দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২০০ কোটি রুপিতে। অন্যদিকে প্রভাসের ‘আদিপুরুষ’-এর বাজেট ছিল ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি রুপি। ‘রামায়ণ’ অবলম্বনে নির্মিত সেই সিনেমাটি প্রভাসের তারকাখ্যাতি সত্ত্বেও প্রেক্ষাগৃহ থেকে পর্যাপ্ত অর্থ তুলতে পারেনি। তবে ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এর ওপেনিং ‘গেম চেঞ্জার’ ও ‘আদিপুরুষ’-এর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। কিন্তু প্রথম দিনের পর দর্শকের সাড়ায় যে দ্রুত পতন ঘটেছে, সেটিই ছবিটিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

সাধারণত কোনো ছবি শুরুতে ধীরগতিতে চললেও ইতিবাচক প্রচারের মাধ্যমে পরে ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু ‘টক্সিক’ করেছে ঠিক বিপরীত। প্রথম দিনের বিশাল আয়ের পর দ্বিতীয় দিন থেকেই দর্শক আগ্রহে বড় ধস নামে। এর ওপর বাজারে যুক্ত হয় ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ এবং ‘হনুমান অংশ’-এর মতো সিনেমা, যা নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করে। এই ছবিগুলো দর্শক টানতে শুরু করলে ‘টক্সিক’ দ্রুত তার শো ও স্ক্রিন হারাতে থাকে, ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর পথও বন্ধ হয়ে যায়।

বক্স অফিসের পাশাপাশি ছবিটির আর্থিক পরিকল্পনা বড় ধাক্কা খেয়েছে ওটিটি বা ডিজিটাল স্বত্ব বিক্রির সিদ্ধান্তে। মুক্তির আগে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এর ওটিটি স্বত্ব বিক্রি করেনি। পরিকল্পনা ছিল, সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে বড় হিট হলে ওটিটি থেকে আরও চড়া দাম আদায় করা যাবে। কিন্তু বক্স অফিসের ভরাডুবি সেই পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিয়েছে। রমেশ বালার মতে, ওটিটি স্বত্ব আগে বিক্রি না করাই ছিল সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত। আগে বিক্রি করা গেলে অন্তত ১০০ কোটি রুপির মতো ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। মুক্তির আগে যে ওটিটি স্বত্বের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২০০ কোটি রুপি ধরা হচ্ছিল, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৩০ কোটি রুপিতে। স্যাটেলাইট স্বত্ব নিয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।

প্রেক্ষাগৃহে ‘টক্সিক’-এর এই পারফরম্যান্স যশের ক্যারিয়ারের জন্যও একটি বড় ধাক্কা। ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর পর তাঁর প্যান-ইন্ডিয়া ইমেজ ধরে রাখার যে পরিকল্পনা ছিল, তা বক্স অফিসের দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স ধরে রাখতে না পারায় এবং ভুল অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কারণে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ডিজিটাল, স্যাটেলাইট ও সংগীত স্বত্ব থেকে চূড়ান্ত আয় এবং প্রকৃত নির্মাণ ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে লোকসানের চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারিত হলেও, প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির পারফরম্যান্স যে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজকীয় ক্ষমা পেতে পারেন নাজিব রাজাক, মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে চাঞ্চল্য

৩৪০ কোটি আয় করেও কেন বছরের বড় ফ্লপ যশের ‘টক্সিক’?

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৬ সালের অন্যতম বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ছিল কন্নড় তারকা যশ অভিনীত ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’। প্যান-ইন্ডিয়া মুক্তি, বিশাল বাজেট আর তারকা বহুল কাস্টিং নিয়ে গীতু মোহনদাস পরিচালিত এই সিনেমাটিকে ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। তবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে ছবিটি। দারুণ এক উদ্বোধনের পর বক্স অফিসে এমন ধস নেমেছে যে, ‘টক্সিক’ এখন বছরের অন্যতম বড় আর্থিক বিপর্যয় হিসেবে আলোচনা তৈরি করেছে। মুক্তির দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ৩৪০ কোটি রুপিতেই আটকে রয়েছে।

ট্রেড বিশ্লেষক রমেশ বালা ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছেন, ‘টক্সিক’ ছবিটির লোকসান ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি রুপির ঘরে পৌঁছাতে পারে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, সিনেমাটি তার বাজেটের প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থই তুলে আনতে পারেনি। বক্স অফিসে এই বিপুল লোকসানের কারণে ছবিটিকে এখন রামচরণ অভিনীত ‘গেম চেঞ্জার’ এবং প্রভাসের ‘আদিপুরুষ’-এর মতো বড় বাজেটের ব্যর্থ সিনেমার তালিকায় ফেলা হচ্ছে। এই তিনটি ছবিই বড় তারকা ও বিপুল বাণিজ্যিক আশা নিয়ে নির্মিত হয়েছিল, তবে বিনিয়োগের তুলনায় আয়ের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ‘টক্সিক’।

অথচ ছবিটির শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর অভাবনীয় সাফল্যের চার বছর পর বড় পর্দায় যশের প্রত্যাবর্তন, নয়নতারা ও কিয়ারার মতো তারকাদের উপস্থিতি এবং পরিচালক গীতু মোহনদাসের নির্মাণ—সব মিলিয়ে মুক্তির আগেই তৈরি হয়েছিল তুমুল ক্রেজ। মুক্তির প্রথম দিনেই বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৪০ কোটি রুপি আয় করে ছবিটি, যার মধ্যে ভারতের বাজার থেকেই এসেছিল প্রায় ১০১ কোটি রুপি। তবে দ্বিতীয় দিন থেকেই দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করে। দ্বিতীয় দিনে ভারতের আয় কমে দাঁড়ায় প্রায় ৩৭ কোটি রুপিতে। প্রথম সোমবার তা নেমে আসে ১০ কোটির নিচে। ১৬তম দিনে ভারতে ছবিটির দৈনিক আয় ছিল মাত্র ৪০ লাখ রুপির কাছাকাছি এবং বিশ্বব্যাপী দৈনিক সংগ্রহও এক কোটির নিচে নেমে যায়।

মুক্তির ১৫ দিন শেষে ‘টক্সিক’-এর বিশ্বব্যাপী মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৩৯ কোটি ৩২ লাখ রুপি। ১৬তম দিনে ভারতে আরও ৩৯ লাখ রুপি যোগ হওয়ায় দেশটিতে ছবিটির মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪৮ কোটি ২৪ লাখ রুপি। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী ৩৫০ কোটি রুপির মাইলফলক স্পর্শ করাও এখন কঠিন মনে হচ্ছে। রমেশ বালার মতে, ছবিটির বিশ্বব্যাপী শেয়ার মাত্র প্রায় ১৫০ কোটি রুপি, যা এর বিশাল ক্যানভাসের তুলনায় অত্যন্ত হতাশাজনক। শুধু কর্ণাটক নয়, ভারত ও বিদেশের কোনো বাজারেই ছবিটি ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট স্পর্শ করতে পারেনি।

‘টক্সিক’-এর প্রকৃত বাজেট নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী এর নির্মাণ ব্যয় ছিল প্রায় ৪৫০ কোটি রুপি। প্রচার, মুক্তি ও সুদসহ অন্যান্য খরচ মেলালে মোট বিনিয়োগ ৫০০ কোটি রুপি বা তারও বেশি ছাড়িয়ে যায়। এই বিপুল অঙ্কের বিপরীতে ৩৪০ কোটি রুপির বিশ্বব্যাপী আয় কোনোভাবেই লোকসান ঠেকাতে পারছে না। সাধারণত বক্স অফিসের আয়ের একটি বড় অংশ প্রেক্ষাগৃহের মালিক ও পরিবেশকদের কাছে চলে যায়। তবে স্যাটেলাইট, ডিজিটাল ও সংগীত স্বত্ব বিক্রি থেকে কিছু অর্থ উঠে আসে। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন হিসাব বলছে, ‘টক্সিক’-এর লোকসান ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি রুপি পর্যন্ত হতে পারে, যা সত্যি হলে এটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়।

বড় বাজেটের অন্য ব্যর্থ ছবিগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, রামচরণের ‘গেম চেঞ্জার’-এর বাজেট ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি রুপি এবং ছবিটির লোকসান দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২০০ কোটি রুপিতে। অন্যদিকে প্রভাসের ‘আদিপুরুষ’-এর বাজেট ছিল ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি রুপি। ‘রামায়ণ’ অবলম্বনে নির্মিত সেই সিনেমাটি প্রভাসের তারকাখ্যাতি সত্ত্বেও প্রেক্ষাগৃহ থেকে পর্যাপ্ত অর্থ তুলতে পারেনি। তবে ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এর ওপেনিং ‘গেম চেঞ্জার’ ও ‘আদিপুরুষ’-এর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। কিন্তু প্রথম দিনের পর দর্শকের সাড়ায় যে দ্রুত পতন ঘটেছে, সেটিই ছবিটিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

সাধারণত কোনো ছবি শুরুতে ধীরগতিতে চললেও ইতিবাচক প্রচারের মাধ্যমে পরে ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু ‘টক্সিক’ করেছে ঠিক বিপরীত। প্রথম দিনের বিশাল আয়ের পর দ্বিতীয় দিন থেকেই দর্শক আগ্রহে বড় ধস নামে। এর ওপর বাজারে যুক্ত হয় ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ এবং ‘হনুমান অংশ’-এর মতো সিনেমা, যা নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করে। এই ছবিগুলো দর্শক টানতে শুরু করলে ‘টক্সিক’ দ্রুত তার শো ও স্ক্রিন হারাতে থাকে, ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর পথও বন্ধ হয়ে যায়।

বক্স অফিসের পাশাপাশি ছবিটির আর্থিক পরিকল্পনা বড় ধাক্কা খেয়েছে ওটিটি বা ডিজিটাল স্বত্ব বিক্রির সিদ্ধান্তে। মুক্তির আগে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এর ওটিটি স্বত্ব বিক্রি করেনি। পরিকল্পনা ছিল, সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে বড় হিট হলে ওটিটি থেকে আরও চড়া দাম আদায় করা যাবে। কিন্তু বক্স অফিসের ভরাডুবি সেই পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিয়েছে। রমেশ বালার মতে, ওটিটি স্বত্ব আগে বিক্রি না করাই ছিল সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত। আগে বিক্রি করা গেলে অন্তত ১০০ কোটি রুপির মতো ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। মুক্তির আগে যে ওটিটি স্বত্বের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২০০ কোটি রুপি ধরা হচ্ছিল, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৩০ কোটি রুপিতে। স্যাটেলাইট স্বত্ব নিয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।

প্রেক্ষাগৃহে ‘টক্সিক’-এর এই পারফরম্যান্স যশের ক্যারিয়ারের জন্যও একটি বড় ধাক্কা। ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর পর তাঁর প্যান-ইন্ডিয়া ইমেজ ধরে রাখার যে পরিকল্পনা ছিল, তা বক্স অফিসের দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স ধরে রাখতে না পারায় এবং ভুল অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কারণে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। ডিজিটাল, স্যাটেলাইট ও সংগীত স্বত্ব থেকে চূড়ান্ত আয় এবং প্রকৃত নির্মাণ ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে লোকসানের চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারিত হলেও, প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির পারফরম্যান্স যে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে এনেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।