লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজকীয় ক্ষমা পেতে পারেন নাজিব রাজাক, মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে চাঞ্চল্য

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের রাজকীয় ক্ষমার আবেদনকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিলিয়ন ডলারের বহুল আলোচিত '১এমডিবি' (১ মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বারহাদ) আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সাজাপ্রাপ্ত এই প্রভাবশালী নেতাকে রাজকীয় ক্ষমার আওতায় আনা হবে কি না, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন জোট থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠে চলছে জোর গুঞ্জন। সম্প্রতি দেশটির বর্তমান রাজা সুলতান ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে ক্ষমার বোর্ডের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে ৬৫ জন বন্দিকে ক্ষমা করা হলেও নাজিব রাজাকের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরবর্তী বৈঠক পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজা।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আইনি বিষয়ক বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'দি এজ' জানিয়েছে। রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক ও মালয়েশিয়ার প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবর গুরুত্বের সাথে প্রচার করেছে। রাষ্ট্রীয় তহবিল ১এমডিবি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে ২০২২ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন নাজিব রাজাক। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের এক জটিল আন্তর্জাতিক চক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে নাজিব নিজেকে রাজনৈতিক বলির পাঁঠা হিসেবে দাবি করে আসছেন।

এর আগে ২০২৪ সালে তৎকালীন রাজার নেতৃত্বাধীন ক্ষমার বোর্ড নাজিবের প্রাথমিক ১২ বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে অর্ধেক করে এবং জরিমানার পরিমাণ হ্রাস করেছিল। এরপর গত বছরের শেষ দিকে ক্ষমতা অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের অপর এক মামলায় তাকে নতুন করে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২.৮ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়, যার বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনি আপিল করেছেন।

নাজিবের এই ক্ষমার আবেদন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বহুদলীয় জোটে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলে থাকা সত্ত্বেও নাজিব তার দল 'ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন' (ইউএমএনও)-এ অত্যন্ত প্রভাবশালী। দলটি বর্তমানে আনোয়ার ইব্রাহিম সরকারের অন্যতম শরিক দল হিসেবে রয়েছে। সম্প্রতি আনোয়ার ইব্রাহিমের মূল জোট 'পাকাতান হারাপান' দুর্নীতিবাজদের পূর্ণ মেয়াদে সাজা ভোগের পক্ষে মতামত দিলে ইউএমএনও প্রকাশ্যে তার কড়া সমালোচনা করে, যা ক্ষমতাসীন জোটের অভ্যন্তরে চলমান টানাপোড়েনকে আরও উসকে দিয়েছে।

এদিকে ক্ষমতাসীন আনোয়ার ইব্রাহিমের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে থাকা মন্ত্রী এবং ইউএমএনও তথা বারিশান ন্যাশনাল (বিএন) এর প্রেসিডেন্ট জাহিদ হামিদিও রাজার ক্ষমার সুসংবাদের জন্য তাকিয়ে আছেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রাদেশিক নির্বাচনগুলোতে একতরফা জয়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া জাহিদ হামিদি আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেসে থাকা এক তুখোড় রাজনীতিবিদ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, এই পরিস্থিতিতে যদি নাজিব রাজাক রাজার নি:শর্ত ক্ষমা পেয়ে মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে ফিরতে পারেন, তবে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। আর এই ভাবনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ফিরছে মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজকীয় ক্ষমা পেতে পারেন নাজিব রাজাক, মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে চাঞ্চল্য

রাজকীয় ক্ষমা পেতে পারেন নাজিব রাজাক, মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে চাঞ্চল্য

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৩:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের রাজকীয় ক্ষমার আবেদনকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিলিয়ন ডলারের বহুল আলোচিত '১এমডিবি' (১ মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বারহাদ) আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সাজাপ্রাপ্ত এই প্রভাবশালী নেতাকে রাজকীয় ক্ষমার আওতায় আনা হবে কি না, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন জোট থেকে শুরু করে রাজনীতির মাঠে চলছে জোর গুঞ্জন। সম্প্রতি দেশটির বর্তমান রাজা সুলতান ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে ক্ষমার বোর্ডের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে ৬৫ জন বন্দিকে ক্ষমা করা হলেও নাজিব রাজাকের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরবর্তী বৈঠক পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজা।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আইনি বিষয়ক বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'দি এজ' জানিয়েছে। রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক ও মালয়েশিয়ার প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবর গুরুত্বের সাথে প্রচার করেছে। রাষ্ট্রীয় তহবিল ১এমডিবি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার দায়ে ২০২২ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন নাজিব রাজাক। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাতের এক জটিল আন্তর্জাতিক চক্রান্তের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে নাজিব নিজেকে রাজনৈতিক বলির পাঁঠা হিসেবে দাবি করে আসছেন।

এর আগে ২০২৪ সালে তৎকালীন রাজার নেতৃত্বাধীন ক্ষমার বোর্ড নাজিবের প্রাথমিক ১২ বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে অর্ধেক করে এবং জরিমানার পরিমাণ হ্রাস করেছিল। এরপর গত বছরের শেষ দিকে ক্ষমতা অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের অপর এক মামলায় তাকে নতুন করে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২.৮ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়, যার বিরুদ্ধে বর্তমানে তিনি আপিল করেছেন।

নাজিবের এই ক্ষমার আবেদন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বহুদলীয় জোটে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলে থাকা সত্ত্বেও নাজিব তার দল 'ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন' (ইউএমএনও)-এ অত্যন্ত প্রভাবশালী। দলটি বর্তমানে আনোয়ার ইব্রাহিম সরকারের অন্যতম শরিক দল হিসেবে রয়েছে। সম্প্রতি আনোয়ার ইব্রাহিমের মূল জোট 'পাকাতান হারাপান' দুর্নীতিবাজদের পূর্ণ মেয়াদে সাজা ভোগের পক্ষে মতামত দিলে ইউএমএনও প্রকাশ্যে তার কড়া সমালোচনা করে, যা ক্ষমতাসীন জোটের অভ্যন্তরে চলমান টানাপোড়েনকে আরও উসকে দিয়েছে।

এদিকে ক্ষমতাসীন আনোয়ার ইব্রাহিমের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে থাকা মন্ত্রী এবং ইউএমএনও তথা বারিশান ন্যাশনাল (বিএন) এর প্রেসিডেন্ট জাহিদ হামিদিও রাজার ক্ষমার সুসংবাদের জন্য তাকিয়ে আছেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রাদেশিক নির্বাচনগুলোতে একতরফা জয়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া জাহিদ হামিদি আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেসে থাকা এক তুখোড় রাজনীতিবিদ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, এই পরিস্থিতিতে যদি নাজিব রাজাক রাজার নি:শর্ত ক্ষমা পেয়ে মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে ফিরতে পারেন, তবে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। আর এই ভাবনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ফিরছে মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে।