লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তহবিল সংকটে ৮৩ লাখ শরণার্থীর জরুরি সহায়তা বন্ধের আশঙ্কা

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, তীব্র অর্থসংকটের মুখে পড়ে প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ জরুরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই আর্থিক সংকটের কারণে শরণার্থী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ (আইডিপি) এবং রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সহায়তার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউএনএইচসিআরের হাতে ৫২০ কোটি ডলার থাকলেও ২০২৫ সালে তা কমে ৩৯০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। অথচ চলতি বছর শরণার্থীদের সুরক্ষা ও সহায়তার জন্য সংস্থাটির মোট ৮৫০ কোটি ডলার প্রয়োজন। জুলাইয়ের শেষ নাগাদ তারা চাহিদার মাত্র ৩২ শতাংশ বা ২৭০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে পেরেছে।

ইউএনএইচসিআরের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক প্রধান ডমিনিক হাইড জানিয়েছেন, সুরক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকাল কমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে শুধু সেবার পরিধি সংকুচিত হবে না, বরং পুরো সেবাব্যবস্থাই অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। এতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলো প্রয়োজনীয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেন। তিনি আরও বলেন, নিবন্ধন বন্ধ হয়ে গেলে বা শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম না থাকলে বাস্তুচ্যুত হওয়ার আগে মানুষ যে সহিংসতা, শোষণ ও নির্যাতনের ঝুঁকি থেকে পালিয়ে এসেছিল, সেগুলোই তাদের জীবনে আবারও ফিরে আসে।

অর্থসংকটের প্রভাব ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। চাদে ৩ লাখ ১৯ হাজার শরণার্থী নিবন্ধনের বিলম্বের কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাচ্ছেন না এবং প্রায় ২ লাখ ৩৩ হাজার শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হওয়ার পথে রয়েছে। ইথিওপিয়ায় কিছু এলাকায় শিশু সুরক্ষার আওতা ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এছাড়া সুদানে যৌন সহিংসতার শিকার হাজার হাজার মানুষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুরা গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা সেবা হারানোর শঙ্কায় রয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ছিলেন, যা ২০২৪ সালের ১২ কোটি ৩২ লাখের তুলনায় কম হলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা এখনো অনেক বেশি। অর্থসংকটের কারণে সংস্থাটি তাদের জনবলের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, ঐতিহ্যগতভাবে বড় দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সহায়তা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে এবং অন্যান্য বড় দাতারাও ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে। এই ঘাটতি শুধু জরুরি সহায়তাই নয়, বরং ইরাকের ৩ লাখ ৫০ হাজার শরণার্থীর আর্থ-সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ এবং সিরিয়ার ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ জন বাস্তুচ্যুত ও দেশে ফিরে আসা মানুষের প্রাথমিক আর্থিক সহায়তাকেও বাধাগ্রস্ত করছে। স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে গেলেও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইফোনের লোভে কিশোর অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা ৭ দিন আগেই

তহবিল সংকটে ৮৩ লাখ শরণার্থীর জরুরি সহায়তা বন্ধের আশঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০১:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, তীব্র অর্থসংকটের মুখে পড়ে প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ জরুরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই আর্থিক সংকটের কারণে শরণার্থী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ (আইডিপি) এবং রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সহায়তার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউএনএইচসিআরের হাতে ৫২০ কোটি ডলার থাকলেও ২০২৫ সালে তা কমে ৩৯০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। অথচ চলতি বছর শরণার্থীদের সুরক্ষা ও সহায়তার জন্য সংস্থাটির মোট ৮৫০ কোটি ডলার প্রয়োজন। জুলাইয়ের শেষ নাগাদ তারা চাহিদার মাত্র ৩২ শতাংশ বা ২৭০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে পেরেছে।

ইউএনএইচসিআরের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক প্রধান ডমিনিক হাইড জানিয়েছেন, সুরক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকাল কমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে শুধু সেবার পরিধি সংকুচিত হবে না, বরং পুরো সেবাব্যবস্থাই অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। এতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলো প্রয়োজনীয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেন। তিনি আরও বলেন, নিবন্ধন বন্ধ হয়ে গেলে বা শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম না থাকলে বাস্তুচ্যুত হওয়ার আগে মানুষ যে সহিংসতা, শোষণ ও নির্যাতনের ঝুঁকি থেকে পালিয়ে এসেছিল, সেগুলোই তাদের জীবনে আবারও ফিরে আসে।

অর্থসংকটের প্রভাব ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। চাদে ৩ লাখ ১৯ হাজার শরণার্থী নিবন্ধনের বিলম্বের কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাচ্ছেন না এবং প্রায় ২ লাখ ৩৩ হাজার শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হওয়ার পথে রয়েছে। ইথিওপিয়ায় কিছু এলাকায় শিশু সুরক্ষার আওতা ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এছাড়া সুদানে যৌন সহিংসতার শিকার হাজার হাজার মানুষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুরা গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা সেবা হারানোর শঙ্কায় রয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ছিলেন, যা ২০২৪ সালের ১২ কোটি ৩২ লাখের তুলনায় কম হলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতা এখনো অনেক বেশি। অর্থসংকটের কারণে সংস্থাটি তাদের জনবলের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, ঐতিহ্যগতভাবে বড় দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সহায়তা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে এবং অন্যান্য বড় দাতারাও ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে। এই ঘাটতি শুধু জরুরি সহায়তাই নয়, বরং ইরাকের ৩ লাখ ৫০ হাজার শরণার্থীর আর্থ-সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ এবং সিরিয়ার ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ জন বাস্তুচ্যুত ও দেশে ফিরে আসা মানুষের প্রাথমিক আর্থিক সহায়তাকেও বাধাগ্রস্ত করছে। স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে গেলেও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে।