লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমানের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত, ব্যাগেজ কন্ট্রোলার শাখাওয়াত এখনো বহাল

মদিনা থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের উমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি ও ট্যাগযুক্ত লাগেজ সময়মতো সরবরাহ না করার ঘটনায় গ্রাউন্ড সার্ভিসের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে (প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ পিএম)। তবে ঘটনার সময় ব্যাগেজ এরিয়ার কন্ট্রোলার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসাইন খান (পি-৩৬৬৬৭) এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কন্টেইনার অফলোডিং ও পরিচালনাগত গাফিলতির কারণে ব্যাগেজ বেল্টে সময়মতো জমজমের পানি পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে। এ বিষয়ে বিমানের গ্রাহকসেবা পরিচালক বদরুল হাসান লিটন বলেন, প্রাথমিকভাবে যাদের গাফিলতি ছিল বলে প্রতীয়মান হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি আরও অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে আরও কারও গাফিলতি বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে, যখন ফ্লাইটটি মদিনা থেকে ঢাকায় অবতরণ করে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেক যাত্রী তাদের ট্যাগযুক্ত লাগেজ ও জমজমের পানি না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ ঘটনায় ফ্লাইটে থাকা চার সংসদ সদস্য—মো. রাশেদুল ইসলাম রাসেল, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সালাহউদ্দিন এবং জাহাঙ্গীর হুসাইন—বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অবতরণের তিন ঘণ্টা পার হওয়ার পরও ৩৫ জন সংসদ সদস্যসহ অধিকাংশ যাত্রী তাদের লাগেজ বা জমজমের পানি পাননি।

তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সময় জুনিয়র গ্রাউন্ড সার্ভিস অফিসার মো. শাখাওয়াত হোসাইন খান, গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মনিরুজ্জামান প্রধান এবং গ্রাউন্ড সার্ভিস অফিসার সাদ্দাম হোসেন দায়িত্বে ছিলেন। এর মধ্যে মনিরুজ্জামান প্রধান ও সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শাখাওয়াতকে এখনো জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। জানা গেছে, ব্যাগেজ এরিয়া কন্ট্রোলার হিসেবে দায়িত্বপালনকারী শাখাওয়াত ঊর্ধ্বতনদের জানিয়েছিলেন যে সব কন্টেইনার অফলোড করা হয়েছে, কিন্তু পরে একটি কন্টেইনার নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বিমানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রায়ই যাত্রী হয়রানির ঘটনায় প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের পরিবর্তে হেলপার বা সাধারণ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ফলে সমস্যার মূল কারণ অমীমাংসিত থেকে যায়। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তির অন্যতম কারণ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব এবং ট্রলি ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের দায়িত্ব পালনের ঘাটতি।

এ ঘটনায় ফ্লাইটে থাকা চার সংসদ সদস্য বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তারা হলেন—মেহেরপুর-১ আসনের মো. রাশেদুল ইসলাম রাসেল, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেন, গাজীপুর-৪ আসনের সালাহউদ্দিন এবং খুলনা-২ আসনের জাহাঙ্গীর হুসাইন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত, ব্যাগেজ কন্ট্রোলার শাখাওয়াত এখনো বহাল

বিমানের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত, ব্যাগেজ কন্ট্রোলার শাখাওয়াত এখনো বহাল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:২৬:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

মদিনা থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের উমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি ও ট্যাগযুক্ত লাগেজ সময়মতো সরবরাহ না করার ঘটনায় গ্রাউন্ড সার্ভিসের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে (প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ পিএম)। তবে ঘটনার সময় ব্যাগেজ এরিয়ার কন্ট্রোলার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসাইন খান (পি-৩৬৬৬৭) এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কন্টেইনার অফলোডিং ও পরিচালনাগত গাফিলতির কারণে ব্যাগেজ বেল্টে সময়মতো জমজমের পানি পৌঁছাতে বিলম্ব হয়েছে। এ বিষয়ে বিমানের গ্রাহকসেবা পরিচালক বদরুল হাসান লিটন বলেন, প্রাথমিকভাবে যাদের গাফিলতি ছিল বলে প্রতীয়মান হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি আরও অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তে আরও কারও গাফিলতি বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে, যখন ফ্লাইটটি মদিনা থেকে ঢাকায় অবতরণ করে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেক যাত্রী তাদের ট্যাগযুক্ত লাগেজ ও জমজমের পানি না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ ঘটনায় ফ্লাইটে থাকা চার সংসদ সদস্য—মো. রাশেদুল ইসলাম রাসেল, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, সালাহউদ্দিন এবং জাহাঙ্গীর হুসাইন—বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অবতরণের তিন ঘণ্টা পার হওয়ার পরও ৩৫ জন সংসদ সদস্যসহ অধিকাংশ যাত্রী তাদের লাগেজ বা জমজমের পানি পাননি।

তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সময় জুনিয়র গ্রাউন্ড সার্ভিস অফিসার মো. শাখাওয়াত হোসাইন খান, গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মনিরুজ্জামান প্রধান এবং গ্রাউন্ড সার্ভিস অফিসার সাদ্দাম হোসেন দায়িত্বে ছিলেন। এর মধ্যে মনিরুজ্জামান প্রধান ও সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শাখাওয়াতকে এখনো জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি। জানা গেছে, ব্যাগেজ এরিয়া কন্ট্রোলার হিসেবে দায়িত্বপালনকারী শাখাওয়াত ঊর্ধ্বতনদের জানিয়েছিলেন যে সব কন্টেইনার অফলোড করা হয়েছে, কিন্তু পরে একটি কন্টেইনার নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বিমানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রায়ই যাত্রী হয়রানির ঘটনায় প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের পরিবর্তে হেলপার বা সাধারণ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ফলে সমস্যার মূল কারণ অমীমাংসিত থেকে যায়। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তির অন্যতম কারণ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব এবং ট্রলি ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের দায়িত্ব পালনের ঘাটতি।

এ ঘটনায় ফ্লাইটে থাকা চার সংসদ সদস্য বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তারা হলেন—মেহেরপুর-১ আসনের মো. রাশেদুল ইসলাম রাসেল, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেন, গাজীপুর-৪ আসনের সালাহউদ্দিন এবং খুলনা-২ আসনের জাহাঙ্গীর হুসাইন।