লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে মানবিক সংকট

গুগল ম্যাপসের নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে গাজায় তিন বছরের যুদ্ধের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং ভূখণ্ডটির ২৩ লাখ মানুষের চলমান মানবিক সংকটের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের জুনে তোলা এসব ছবিতে দেখা গেছে, প্রায় ১২ মাস আগে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ও অবকাঠামো আরও ধ্বংস হয়েছে।

ছবিগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গাজার উপকূলের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে বিশাল তাঁবুর ক্যাম্প গড়ে উঠেছে, যার অনেকগুলোই সমুদ্র থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত। একসময় কর্মচঞ্চল গাজার প্রধান সমুদ্রবন্দরটি এখন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও জনশূন্য। সেখানে কোনো মাছ ধরার নৌকাও দেখা যায় না এবং বন্দরটির চারপাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী আবাসস্থল। গাজা সিটির যেসব খোলা জায়গা এখনো অবশিষ্ট আছে, সেগুলোও শ্যাক, তাঁবু ও অস্থায়ী কুঁড়েঘরে ঠাসা।

উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের মতো শহরগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ছবিতে স্পষ্ট। খান ইউনিসের ইস্তিকলাল মসজিদের মতো উপাসনালয় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার চিত্রও উঠে এসেছে। গাজা সিটির জাবালিয়া ও শুজাইয়ার মতো বড় এলাকাগুলোতে বারবার ইসরাইলি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, যার ফলে নতুন ছবিতে এসব এলাকাকে বসবাসের অনুপযোগী দেখা যাচ্ছে। গাজার দক্ষিণাঞ্চলেও বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসস্তূপ দেখা গেছে। মিশর সীমান্ত বরাবর ইসরাইলি বাহিনী একটি বিস্তৃত এলাকা পরিষ্কার করেছে বলেও ছবিতে ধারণা পাওয়া গেছে। এছাড়া রাফাহ শহর প্রায় পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং তেল আল-সুলতান এলাকাটিও মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ২১ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন। ভূখণ্ডটির প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজায় ধ্বংস হওয়া স্থাপনার সংখ্যা আরও ৯ শতাংশ বেড়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জ্যাকো সিলিয়ার্স গত মাসে দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় জমে থাকা ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ আনুমানিক ৬ কোটি ১০ লাখ টন।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে থাকার বিষয়টি গাজার সবচেয়ে জরুরি মানবিক সমস্যাগুলোর একটি হয়ে রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলে হামাসের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওই হামলায় হামাসের যোদ্ধারা প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করেছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিমানের দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত, ব্যাগেজ কন্ট্রোলার শাখাওয়াত এখনো বহাল

গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে মানবিক সংকট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

গুগল ম্যাপসের নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে গাজায় তিন বছরের যুদ্ধের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং ভূখণ্ডটির ২৩ লাখ মানুষের চলমান মানবিক সংকটের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের জুনে তোলা এসব ছবিতে দেখা গেছে, প্রায় ১২ মাস আগে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ও অবকাঠামো আরও ধ্বংস হয়েছে।

ছবিগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গাজার উপকূলের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে বিশাল তাঁবুর ক্যাম্প গড়ে উঠেছে, যার অনেকগুলোই সমুদ্র থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত। একসময় কর্মচঞ্চল গাজার প্রধান সমুদ্রবন্দরটি এখন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও জনশূন্য। সেখানে কোনো মাছ ধরার নৌকাও দেখা যায় না এবং বন্দরটির চারপাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী আবাসস্থল। গাজা সিটির যেসব খোলা জায়গা এখনো অবশিষ্ট আছে, সেগুলোও শ্যাক, তাঁবু ও অস্থায়ী কুঁড়েঘরে ঠাসা।

উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের মতো শহরগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ছবিতে স্পষ্ট। খান ইউনিসের ইস্তিকলাল মসজিদের মতো উপাসনালয় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার চিত্রও উঠে এসেছে। গাজা সিটির জাবালিয়া ও শুজাইয়ার মতো বড় এলাকাগুলোতে বারবার ইসরাইলি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, যার ফলে নতুন ছবিতে এসব এলাকাকে বসবাসের অনুপযোগী দেখা যাচ্ছে। গাজার দক্ষিণাঞ্চলেও বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসস্তূপ দেখা গেছে। মিশর সীমান্ত বরাবর ইসরাইলি বাহিনী একটি বিস্তৃত এলাকা পরিষ্কার করেছে বলেও ছবিতে ধারণা পাওয়া গেছে। এছাড়া রাফাহ শহর প্রায় পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং তেল আল-সুলতান এলাকাটিও মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ২১ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন। ভূখণ্ডটির প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজায় ধ্বংস হওয়া স্থাপনার সংখ্যা আরও ৯ শতাংশ বেড়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জ্যাকো সিলিয়ার্স গত মাসে দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় জমে থাকা ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ আনুমানিক ৬ কোটি ১০ লাখ টন।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে থাকার বিষয়টি গাজার সবচেয়ে জরুরি মানবিক সমস্যাগুলোর একটি হয়ে রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলে হামাসের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওই হামলায় হামাসের যোদ্ধারা প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করেছিল।