লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত-বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন অটুট থাকবে: এম জে আকবর

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কে সাময়িক মেঘ বা ঝড় দেখা দিলেও দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন মুছে যাবে না। রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এম জে আকবর বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্থান-পতন থাকাটা স্বাভাবিক। তবে যেকোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে শুধু কী সম্ভব, তা নিয়ে ভাবলেই হবে না; বরং কেন কোনো কিছু অসম্ভব নয়—সেই প্রশ্নও করতে হবে। তার মতে, এই দৃষ্টিভঙ্গিই নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই তাদের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচয়ের মূল ভিত্তি হলো ভাষা। বাংলা ভাষার শক্তি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ই বাংলাদেশকে অন্যদের চেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছে।

সার্বভৌমত্বের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যেকোনো দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান না করা হলে বিশ্ব পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হতে পারে। বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ ও সংঘাত প্রসঙ্গে এম জে আকবর বলেন, কোনো যুদ্ধকে অবৈধ বলার আগে এর পেছনের উৎস ও পটভূমি বিশ্লেষণ করা জরুরি। তিনি বিংশ শতাব্দীকে তিনটি বিশ্বযুদ্ধের সময় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ঠান্ডা যুদ্ধকেও এক ধরনের বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে দেখার কথা বলেন।

তার মতে, ইউরোপে ঠান্ডা যুদ্ধ চললেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকায় এর প্রভাব ছিল উত্তপ্ত। এসব সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধ বলার কারণ হলো, বিশ্বের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে বিরোধ ছড়িয়ে পড়েছিল। একবিংশ শতাব্দীর সংঘাতের ধরন আগের চেয়ে ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনকার সংঘাতগুলো একক বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে ধরা যায় না, বরং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে সংঘাত শুরু হয় এবং থেমে যায়, তবে তা পুরোপুরি শেষ হয় না।

জনপ্রিয় সংবাদ

অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ, বাড়ল এলপিজির সিলিন্ডারের দামও

ভারত-বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন অটুট থাকবে: এম জে আকবর

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কে সাময়িক মেঘ বা ঝড় দেখা দিলেও দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন মুছে যাবে না। রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এম জে আকবর বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্থান-পতন থাকাটা স্বাভাবিক। তবে যেকোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে শুধু কী সম্ভব, তা নিয়ে ভাবলেই হবে না; বরং কেন কোনো কিছু অসম্ভব নয়—সেই প্রশ্নও করতে হবে। তার মতে, এই দৃষ্টিভঙ্গিই নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই তাদের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচয়ের মূল ভিত্তি হলো ভাষা। বাংলা ভাষার শক্তি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ই বাংলাদেশকে অন্যদের চেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছে।

সার্বভৌমত্বের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যেকোনো দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান না করা হলে বিশ্ব পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হতে পারে। বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ ও সংঘাত প্রসঙ্গে এম জে আকবর বলেন, কোনো যুদ্ধকে অবৈধ বলার আগে এর পেছনের উৎস ও পটভূমি বিশ্লেষণ করা জরুরি। তিনি বিংশ শতাব্দীকে তিনটি বিশ্বযুদ্ধের সময় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ঠান্ডা যুদ্ধকেও এক ধরনের বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে দেখার কথা বলেন।

তার মতে, ইউরোপে ঠান্ডা যুদ্ধ চললেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকায় এর প্রভাব ছিল উত্তপ্ত। এসব সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধ বলার কারণ হলো, বিশ্বের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে বিরোধ ছড়িয়ে পড়েছিল। একবিংশ শতাব্দীর সংঘাতের ধরন আগের চেয়ে ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনকার সংঘাতগুলো একক বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে ধরা যায় না, বরং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে সংঘাত শুরু হয় এবং থেমে যায়, তবে তা পুরোপুরি শেষ হয় না।