লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের ৮৫ শতাংশ গৃহস্থালি পানিতে মিলছে ক্ষতিকর মলের জীবাণু

বাংলাদেশে পানির প্রাপ্যতা সংকটের পাশাপাশি এটি এখন একটি ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস) ২০২৫’-এর প্রাথমিক তথ্য ও পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) মূল্যায়নে এমন উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৮৫ শতাংশ পরিবারের ব্যবহারযোগ্য পানিতে মলের জীবাণু ‘ই. কোলাই’ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়াযুক্ত পানি পান করলে ডায়রিয়া, জ্বর, রক্তশূন্যতা, বমি এবং কিডনি বিকল হওয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। মিকস-২০২৫-এর তথ্যমতে, যদিও ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মৌলিক পানির সুবিধা পায়, তবে মাত্র ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত পানি ব্যবহারের সুযোগ পায়। পানির উৎসে ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষেত্রে ই. কোলাই পাওয়া গেলেও, উৎস থেকে সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণের ত্রুটির কারণে বাসাবাড়িতে ব্যবহারের সময় তা বেড়ে ৮৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছায়। দরিদ্র পরিবারগুলোতে এই দূষণের হার আরও বেশি, প্রায় ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ।

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর পানি পরিস্থিতি চরম সংকটাপন্ন। ওয়ারপোর মূল্যায়নে এই তিন জেলার ৪ হাজার ৯১১টি মৌজার মধ্যে ১৫৩টি ইউনিয়নকে পানির সংকটের তীব্রতা অনুযায়ী অতি উচ্চ, উচ্চ ও মধ্যম পর্যায়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন, সেচকাজে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলাতেও শিল্পকারখানায় গভীর নলকূপের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে।

অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলো ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়েছে। ওয়ারপোর গবেষণায় দেখা গেছে, বুড়িগঙ্গার পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (ডিও) মাত্রা অনেক কম এবং জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (বিওডি) মাত্রাতিরিক্ত, যা জলজ প্রাণীর টিকে থাকার জন্য চরম প্রতিকূল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভূগর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহকৃত পানির বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী।

চট্টগ্রামের পটিয়ায়ও সংকট : পানির এই সংকট শুধু উত্তরাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন অতি উচ্চ, ৪টি উচ্চ এবং ৫টি মধ্যম মাত্রার পানি সংকটাপন্ন হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। শিল্পকারখানায় গভীর নলকূপের মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে সেখানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে গেছে। ২০১৯ সালে উচ্চ আদালতের এক নির্দেশনায়ও পটিয়ার শিল্পকারখানাগুলোর এই যথেচ্ছ পানি উত্তোলনের বিষয়টি সামনে আসে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতি হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত

দেশের ৮৫ শতাংশ গৃহস্থালি পানিতে মিলছে ক্ষতিকর মলের জীবাণু

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে পানির প্রাপ্যতা সংকটের পাশাপাশি এটি এখন একটি ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-এর ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস) ২০২৫’-এর প্রাথমিক তথ্য ও পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) মূল্যায়নে এমন উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৮৫ শতাংশ পরিবারের ব্যবহারযোগ্য পানিতে মলের জীবাণু ‘ই. কোলাই’ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়াযুক্ত পানি পান করলে ডায়রিয়া, জ্বর, রক্তশূন্যতা, বমি এবং কিডনি বিকল হওয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। মিকস-২০২৫-এর তথ্যমতে, যদিও ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মৌলিক পানির সুবিধা পায়, তবে মাত্র ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত পানি ব্যবহারের সুযোগ পায়। পানির উৎসে ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষেত্রে ই. কোলাই পাওয়া গেলেও, উৎস থেকে সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণের ত্রুটির কারণে বাসাবাড়িতে ব্যবহারের সময় তা বেড়ে ৮৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছায়। দরিদ্র পরিবারগুলোতে এই দূষণের হার আরও বেশি, প্রায় ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ।

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর পানি পরিস্থিতি চরম সংকটাপন্ন। ওয়ারপোর মূল্যায়নে এই তিন জেলার ৪ হাজার ৯১১টি মৌজার মধ্যে ১৫৩টি ইউনিয়নকে পানির সংকটের তীব্রতা অনুযায়ী অতি উচ্চ, উচ্চ ও মধ্যম পর্যায়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন, সেচকাজে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলাতেও শিল্পকারখানায় গভীর নলকূপের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে গেছে।

অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীগুলো ভয়াবহ দূষণের কবলে পড়েছে। ওয়ারপোর গবেষণায় দেখা গেছে, বুড়িগঙ্গার পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (ডিও) মাত্রা অনেক কম এবং জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (বিওডি) মাত্রাতিরিক্ত, যা জলজ প্রাণীর টিকে থাকার জন্য চরম প্রতিকূল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভূগর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহকৃত পানির বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী।

চট্টগ্রামের পটিয়ায়ও সংকট : পানির এই সংকট শুধু উত্তরাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন অতি উচ্চ, ৪টি উচ্চ এবং ৫টি মধ্যম মাত্রার পানি সংকটাপন্ন হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। শিল্পকারখানায় গভীর নলকূপের মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে সেখানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে গেছে। ২০১৯ সালে উচ্চ আদালতের এক নির্দেশনায়ও পটিয়ার শিল্পকারখানাগুলোর এই যথেচ্ছ পানি উত্তোলনের বিষয়টি সামনে আসে।