লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে রাষ্ট্রপতি

শারদীয় দুর্গা উৎসবের আমেজে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১৭ অক্টোবর) মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আপনাদের এই অধিকার রাষ্ট্র থেকে পাওয়া, সংবিধান থেকে পাওয়া। এই সংবিধান আমাদের যে অধিকার দিয়েছে সেটা রক্ষা করতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আপনাদের এখানে একটা স্লোগান আছে যে, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমরা সেই সঙ্গে যুক্ত করে বলতে চাই, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আপনাদের এই অধিকার রাষ্ট্র থেকে পাওয়া, সংবিধান থেকে পাওয়া। এই কথা আমাদের সবসময় জোরের সঙ্গে বলতে হবে যে, এই সংবিধান আমাকে যে অধিকার দিয়েছে, সেই অধিকার অবশ্যই আমি রক্ষা করব।"

বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, যুগান্তর ধরে এই ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পের প্রতিটি পরতে পরতে এই অভূতপূর্ব সম্মিলনের চিহ্ন বিদ্যমান। তিনি সম্প্রীতির বন্ধন বিনষ্ট করতে বিভাজন সৃষ্টিকারী অপশক্তির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "স্বাধীনতার আগে থেকেই এই দেশে আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি। ১৯৭১-এ একসঙ্গে যেমন আমরা কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলাম এবং একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নির্মাণের কথা বলেছিলাম, আমরা সেখানেই স্থির আছি এবং সেটাকে রক্ষা করবার জন্য আমরা যে-কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত পর্যন্ত রয়েছি।"

উগ্রবাদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ উগ্রবাদী নয়। আমরা কখনোই কোনো বিষয়ে চরম জায়গায় যেতে চাইনি, চাইও না। সেই ধারাকে আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের এই সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করবার অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে এই কথা দেশে বিদেশে বিভিন্নভাবে বড়ো করে প্রচার করা হয়। তবে বাংলাদেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ প্রমাণ করেছেন তারা নিজ নিজ ধর্ম সুন্দরভাবে পালন করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, "আমরা একটা ট্রানজিশন পার হচ্ছি। একটা ভয়াবহ অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি থেকে আমরা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে যাওয়ার কাজ শুরু করেছি। ধৈর্যের সঙ্গে এক কাজ আমাদের সবাইকে এগিয়ে নিতে হবে।" জাতীয় সমস্যাসমূহ সবার সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন হয়েছে এবং সবাই গ্রহণ করেছে। সংবিধান পরিবর্তনের জন্য যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, জুলাই সনদে স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে তা পালন করবার কাজ শুরু হয়েছে।

এ সময় তিনি যে-কোনো মূল্যে, শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরাপত্তার সঙ্গে পূজা সম্পন্ন করার আশা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সনাতন ধর্মালম্বীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণের বিষয়ে যথাযথ সহযোগিতার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। পূজা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা। এর আগে রাষ্ট্রপতি মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অবলোকন করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শারদীয় দুর্গা উৎসবের আমেজে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন করলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১৭ অক্টোবর) মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আপনাদের এই অধিকার রাষ্ট্র থেকে পাওয়া, সংবিধান থেকে পাওয়া। এই সংবিধান আমাদের যে অধিকার দিয়েছে সেটা রক্ষা করতে হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আপনাদের এখানে একটা স্লোগান আছে যে, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমরা সেই সঙ্গে যুক্ত করে বলতে চাই, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আপনাদের এই অধিকার রাষ্ট্র থেকে পাওয়া, সংবিধান থেকে পাওয়া। এই কথা আমাদের সবসময় জোরের সঙ্গে বলতে হবে যে, এই সংবিধান আমাকে যে অধিকার দিয়েছে, সেই অধিকার অবশ্যই আমি রক্ষা করব।"

বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, যুগান্তর ধরে এই ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পের প্রতিটি পরতে পরতে এই অভূতপূর্ব সম্মিলনের চিহ্ন বিদ্যমান। তিনি সম্প্রীতির বন্ধন বিনষ্ট করতে বিভাজন সৃষ্টিকারী অপশক্তির বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "স্বাধীনতার আগে থেকেই এই দেশে আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি। ১৯৭১-এ একসঙ্গে যেমন আমরা কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলাম এবং একটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নির্মাণের কথা বলেছিলাম, আমরা সেখানেই স্থির আছি এবং সেটাকে রক্ষা করবার জন্য আমরা যে-কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত পর্যন্ত রয়েছি।"

উগ্রবাদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ উগ্রবাদী নয়। আমরা কখনোই কোনো বিষয়ে চরম জায়গায় যেতে চাইনি, চাইও না। সেই ধারাকে আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের এই সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করবার অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে এই কথা দেশে বিদেশে বিভিন্নভাবে বড়ো করে প্রচার করা হয়। তবে বাংলাদেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ প্রমাণ করেছেন তারা নিজ নিজ ধর্ম সুন্দরভাবে পালন করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, "আমরা একটা ট্রানজিশন পার হচ্ছি। একটা ভয়াবহ অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি থেকে আমরা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে যাওয়ার কাজ শুরু করেছি। ধৈর্যের সঙ্গে এক কাজ আমাদের সবাইকে এগিয়ে নিতে হবে।" জাতীয় সমস্যাসমূহ সবার সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন হয়েছে এবং সবাই গ্রহণ করেছে। সংবিধান পরিবর্তনের জন্য যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, জুলাই সনদে স্বাক্ষরের মধ্যদিয়ে তা পালন করবার কাজ শুরু হয়েছে।

এ সময় তিনি যে-কোনো মূল্যে, শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরাপত্তার সঙ্গে পূজা সম্পন্ন করার আশা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সনাতন ধর্মালম্বীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণের বিষয়ে যথাযথ সহযোগিতার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। পূজা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা। এর আগে রাষ্ট্রপতি মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অবলোকন করেন।