লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেনেজুয়েলায় অবাধ নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে হাজারো মানুষ

নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলায় অবাধ নির্বাচন ও দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। প্রায় দুই বছর পর দেশজুড়ে বিরোধীদের একযোগে এমন বড় ধরনের গণবিক্ষোভ প্রত্যক্ষ করল দেশটি। রাজপথে নামা বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার জোর দাবি জানাচ্ছেন।

গত জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে নির্বাচনের দাবি তীব্র হয়ে ওঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ উভয়েই নির্বাচনের ব্যাপারে কথা বললেও, মাদুরোর উত্তরসূরি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের কোনো স্পষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রাজপথের এই কর্মসূচির আয়োজন করে বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর রাজনৈতিক আন্দোলন 'ভেনতে ভেনেজুয়েলা'। বিতর্কিত ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর প্রায় এক বছর আত্মগোপনে থাকার পর বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন মাচাদো। তাঁর দাবি, ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী কারাকাস ছাড়াও ভ্যালেন্সিয়া, মারাকাই, সান ক্রিস্তোবাল এবং মারাকাইবোসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে একযোগে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মারাকাই শহরের উত্তরাঞ্চলে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে শত শত মানুষের সাথে যোগ দেন ১৮ বছর বয়সী প্রসাধনবিদ্যার শিক্ষার্থী লিওসমারি হার্নান্দেজ। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ডলারের সংকট ও পড়াশোনা সম্পর্কিত নানা জটিলতার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তবুও দেশের ভবিষ্যৎ এবং মারিয়া কোরিনার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। লিওসমারি বলেন, "এ দৃশ্য দেখে আমার ভালো লাগছে, কারণ আমি জানি পরিবর্তন সম্ভব।" আগে কঠিন পরিস্থিতিতেও বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "এখন আমার ভয় আরো কম, কারণ আমি চাই আমার কণ্ঠস্বর শোনা হোক।"

এদিকে, গত ৩ জানুয়ারি থেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন দেলসি রদ্রিগেজ, যিনি দেশটির দীর্ঘদিন ক্ষমতাশীন দল ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টি অব ভেনেজুয়েলার (পিএসইউভি) জ্যেষ্ঠ নেতা। রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর যথেচ্ছ গ্রেপ্তার, কারাবন্দি ও নির্যাতনের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এই দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে।

মার্কিন অভিযানে মাদুরো কারাবন্দি হলেও ওয়াশিংটনের সমর্থনেই পিএসইউভি এখনো ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের নেতৃত্বের প্রতি তাদের সমর্থন বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে দেশটির তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং রদ্রিগেজ সরকারকে বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়নে চাপ দিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গর্তে আট মাস লুকিয়ে থাকার পর ড্রোনে উদ্ধার দুই পা হারানো ইউক্রেনীয় সেনা

ভেনেজুয়েলায় অবাধ নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে হাজারো মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলায় অবাধ নির্বাচন ও দ্রুত রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। প্রায় দুই বছর পর দেশজুড়ে বিরোধীদের একযোগে এমন বড় ধরনের গণবিক্ষোভ প্রত্যক্ষ করল দেশটি। রাজপথে নামা বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার জোর দাবি জানাচ্ছেন।

গত জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে নির্বাচনের দাবি তীব্র হয়ে ওঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ উভয়েই নির্বাচনের ব্যাপারে কথা বললেও, মাদুরোর উত্তরসূরি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের কোনো স্পষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রাজপথের এই কর্মসূচির আয়োজন করে বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর রাজনৈতিক আন্দোলন 'ভেনতে ভেনেজুয়েলা'। বিতর্কিত ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর প্রায় এক বছর আত্মগোপনে থাকার পর বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন মাচাদো। তাঁর দাবি, ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী কারাকাস ছাড়াও ভ্যালেন্সিয়া, মারাকাই, সান ক্রিস্তোবাল এবং মারাকাইবোসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে একযোগে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মারাকাই শহরের উত্তরাঞ্চলে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে শত শত মানুষের সাথে যোগ দেন ১৮ বছর বয়সী প্রসাধনবিদ্যার শিক্ষার্থী লিওসমারি হার্নান্দেজ। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ডলারের সংকট ও পড়াশোনা সম্পর্কিত নানা জটিলতার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তবুও দেশের ভবিষ্যৎ এবং মারিয়া কোরিনার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। লিওসমারি বলেন, "এ দৃশ্য দেখে আমার ভালো লাগছে, কারণ আমি জানি পরিবর্তন সম্ভব।" আগে কঠিন পরিস্থিতিতেও বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "এখন আমার ভয় আরো কম, কারণ আমি চাই আমার কণ্ঠস্বর শোনা হোক।"

এদিকে, গত ৩ জানুয়ারি থেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন দেলসি রদ্রিগেজ, যিনি দেশটির দীর্ঘদিন ক্ষমতাশীন দল ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টি অব ভেনেজুয়েলার (পিএসইউভি) জ্যেষ্ঠ নেতা। রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর যথেচ্ছ গ্রেপ্তার, কারাবন্দি ও নির্যাতনের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এই দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে।

মার্কিন অভিযানে মাদুরো কারাবন্দি হলেও ওয়াশিংটনের সমর্থনেই পিএসইউভি এখনো ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজের নেতৃত্বের প্রতি তাদের সমর্থন বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে দেশটির তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং রদ্রিগেজ সরকারকে বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়নে চাপ দিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।