লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে বিমানবন্দর হামলায় নিহত শাহেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে, স্বজনদের কান্না

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণ হারানো বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মরদেহ গ্রহণ করে শাহেদের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের স্বজনদের হাতে একটি আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করা হয়।

বিমানবন্দরে স্বামীর মরদেহ নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন শাহেদের ২৬ বছর বয়সী স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলী। সঙ্গে ছিল তাঁদের দুই সন্তান—১০ বছরের কাউসার ও ৫ বছরের জিহাদ। কষ্টের স্মৃতিচারণ করে কহিনুর জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর এক মাস তিন দিনের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন শাহেদ। ছুটির এই পুরো সময়ে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা বাইরে না গিয়ে সম্পূর্ণ সময় স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গেই কাটিয়েছিলেন। ছুটি শেষে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অজানা ভয়ে স্বামী কে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন কহিনুর। তবে শাহেদ তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘কেঁদো না। এক-দেড় ঘণ্টা পর বাসায় গিয়ে তোমাকে ফোন দেব।’ কিন্তু রিয়াদে নামার পর আর সেই ফোন আসা হয়নি।

কহিনুর জানান, মাত্র ১৩ বছর বয়সে পছন্দের সম্পর্কের মাধ্যমে শাহেদের সঙ্গে তাঁর সংসার শুরু হয়েছিল। এর আগে শাহেদ দুবার সৌদি আরবে গিয়েও কাজের সংস্থান করতে না পেরে দেশে ফিরে এসেছিলেন। তবে প্রায় দুই বছর আগে আবার দেশটিতে গিয়ে প্রথমে দাম্মামে থাকা শ্বশুরের আশ্রয়ে থাকেন এবং পরে চালকের চাকরি পান। গাড়ি চালানোর লাইসেন্স জমা দেওয়ার পর কাজের স্থান বদল হলে তিনি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্লাম্বার হিসেবে জেদ্দা প্রকল্পে কাজ শুরু করেন। তাঁর কাছে সৌদি আরবের বৈধ কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল। একটানা কাজ করার পর পরিবারের হাল ধরা ও নতুন স্বপ্নের সূচনা হয়েছিল, যা মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল।

সৌদি আরবে ভাইয়ের মৃত্যুর পর অর্জিত ছুটি কাটিয়ে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন শাহেদ। গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থানকালে হুতিদের হামলায় তিনি প্রাণ হারান। প্রবাসে তাঁর শ্বশুর এখনও দাম্মামে রয়েছেন। এত অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কহিনুর। সন্তানদের আর দায়িত্ব নেওয়ার কেউ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী যেন তাঁদের পাশে দাঁড়ান।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে গত ছয় মাসে নিহত ১১ জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে শাহেদ ছিলেন ১১তম। মন্ত্রণালয়ের তথ্যে আরও জানানো হয়, গত এক মাসে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোট তিন জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আজ শাহেদের মরদেহ দেশে পৌঁছালেও অন্য দুজনের মরদেহ দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের কয়েক দফা হামলায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

অন্যদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।.সৌদিতে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আছে বাংলাদেশিও

জনপ্রিয় সংবাদ

গর্তে আট মাস লুকিয়ে থাকার পর ড্রোনে উদ্ধার দুই পা হারানো ইউক্রেনীয় সেনা

সৌদিতে বিমানবন্দর হামলায় নিহত শাহেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে, স্বজনদের কান্না

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৭:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণ হারানো বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মরদেহ গ্রহণ করে শাহেদের পরিবারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের স্বজনদের হাতে একটি আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করা হয়।

বিমানবন্দরে স্বামীর মরদেহ নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন শাহেদের ২৬ বছর বয়সী স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলী। সঙ্গে ছিল তাঁদের দুই সন্তান—১০ বছরের কাউসার ও ৫ বছরের জিহাদ। কষ্টের স্মৃতিচারণ করে কহিনুর জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর এক মাস তিন দিনের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন শাহেদ। ছুটির এই পুরো সময়ে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা বাইরে না গিয়ে সম্পূর্ণ সময় স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গেই কাটিয়েছিলেন। ছুটি শেষে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে অজানা ভয়ে স্বামী কে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন কহিনুর। তবে শাহেদ তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘কেঁদো না। এক-দেড় ঘণ্টা পর বাসায় গিয়ে তোমাকে ফোন দেব।’ কিন্তু রিয়াদে নামার পর আর সেই ফোন আসা হয়নি।

কহিনুর জানান, মাত্র ১৩ বছর বয়সে পছন্দের সম্পর্কের মাধ্যমে শাহেদের সঙ্গে তাঁর সংসার শুরু হয়েছিল। এর আগে শাহেদ দুবার সৌদি আরবে গিয়েও কাজের সংস্থান করতে না পেরে দেশে ফিরে এসেছিলেন। তবে প্রায় দুই বছর আগে আবার দেশটিতে গিয়ে প্রথমে দাম্মামে থাকা শ্বশুরের আশ্রয়ে থাকেন এবং পরে চালকের চাকরি পান। গাড়ি চালানোর লাইসেন্স জমা দেওয়ার পর কাজের স্থান বদল হলে তিনি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্লাম্বার হিসেবে জেদ্দা প্রকল্পে কাজ শুরু করেন। তাঁর কাছে সৌদি আরবের বৈধ কাজের অনুমতিপত্র (ইকামা) ছিল। একটানা কাজ করার পর পরিবারের হাল ধরা ও নতুন স্বপ্নের সূচনা হয়েছিল, যা মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল।

সৌদি আরবে ভাইয়ের মৃত্যুর পর অর্জিত ছুটি কাটিয়ে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন শাহেদ। গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থানকালে হুতিদের হামলায় তিনি প্রাণ হারান। প্রবাসে তাঁর শ্বশুর এখনও দাম্মামে রয়েছেন। এত অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কহিনুর। সন্তানদের আর দায়িত্ব নেওয়ার কেউ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী যেন তাঁদের পাশে দাঁড়ান।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে গত ছয় মাসে নিহত ১১ জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে শাহেদ ছিলেন ১১তম। মন্ত্রণালয়ের তথ্যে আরও জানানো হয়, গত এক মাসে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোট তিন জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আজ শাহেদের মরদেহ দেশে পৌঁছালেও অন্য দুজনের মরদেহ দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের কয়েক দফা হামলায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

অন্যদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।.সৌদিতে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আছে বাংলাদেশিও