লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে ধর্ষণের পর নারী হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

পঞ্চগড়ে ধর্ষণের পর নারী হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: মোঃ শোহানুর রহমান শাহিন

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ধর্ষণের পর এক নারীকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৬) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসাইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ভোরে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলস্টেশনের অদূরে এক অজ্ঞাত নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, ওই নারীকে হত্যার পর মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। পরে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি পরিবার ওই নারীকে তাদের মেয়ে হিসেবে শনাক্ত করে দাফন সম্পন্ন করে।

ঘটনার প্রায় দুই মাস পর, ৮ মার্চ রাতে কিসমত এলাকায় ইজিবাইক চুরির সময় ইজিবাইকসহ রিফাত বিন সাজ্জাদকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ তার মোবাইল ফোনে নিহত নারীর একটি ভিডিও দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে ওই নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয় রিফাত।

পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ১৩ জানুয়ারি রাতে দিনাজপুর থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড়ে ফেরার পথে ওই নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাকে প্রলোভন দেখিয়ে কিসমত রেলস্টেশনে নামিয়ে নেয় রিফাত। এরপর শাপলা কিন্ডারগার্টেনের একটি পরিত্যক্ত ঘর ও একটি সুপারি বাগানে নিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

একপর্যায়ে ওই নারী তার মোবাইল ফোন ও টাকা দাবি করলে রিফাত তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে বাক্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে ওই নারী তাকে গালাগাল করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিফাত ওই নারীকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার স্তন ও যৌনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। হত্যার ঘটনা আড়াল করতে মরদেহ টেনে রেললাইনের ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে।

এ ঘটনায় আটোয়ারী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলার তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে আদালত রিফাত বিন সাজ্জাদকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।

রায়ের বিষয়ে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খলিলুর রহমান বলেন, মামলার তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। এ রায় ন্যায়বিচারের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

মজুরি আন্দোলনের জেরে ৬৮১ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

পঞ্চগড়ে ধর্ষণের পর নারী হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

পঞ্চগড়ে ধর্ষণের পর নারী হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: মোঃ শোহানুর রহমান শাহিন

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ধর্ষণের পর এক নারীকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৬) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসাইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ভোরে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলস্টেশনের অদূরে এক অজ্ঞাত নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, ওই নারীকে হত্যার পর মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। পরে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি পরিবার ওই নারীকে তাদের মেয়ে হিসেবে শনাক্ত করে দাফন সম্পন্ন করে।

ঘটনার প্রায় দুই মাস পর, ৮ মার্চ রাতে কিসমত এলাকায় ইজিবাইক চুরির সময় ইজিবাইকসহ রিফাত বিন সাজ্জাদকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ তার মোবাইল ফোনে নিহত নারীর একটি ভিডিও দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে ওই নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয় রিফাত।

পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ১৩ জানুয়ারি রাতে দিনাজপুর থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড়ে ফেরার পথে ওই নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাকে প্রলোভন দেখিয়ে কিসমত রেলস্টেশনে নামিয়ে নেয় রিফাত। এরপর শাপলা কিন্ডারগার্টেনের একটি পরিত্যক্ত ঘর ও একটি সুপারি বাগানে নিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

একপর্যায়ে ওই নারী তার মোবাইল ফোন ও টাকা দাবি করলে রিফাত তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে বাক্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে ওই নারী তাকে গালাগাল করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিফাত ওই নারীকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার স্তন ও যৌনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। হত্যার ঘটনা আড়াল করতে মরদেহ টেনে রেললাইনের ওপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে।

এ ঘটনায় আটোয়ারী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলার তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে আদালত রিফাত বিন সাজ্জাদকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।

রায়ের বিষয়ে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) খলিলুর রহমান বলেন, মামলার তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। এ রায় ন্যায়বিচারের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।