লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে প্রতি ১৩ জনে একজন নারীর অকাল মেনোপজ

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি ১৩ জনের মধ্যে একজন নারী ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সের আগেই মেনোপজ বা স্থায়ীভাবে মাসিক বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে, যা সম্প্রতি বিএমজে গ্লোবাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সাধারণত একজন নারীর ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে মেনোপজ হওয়া স্বাভাবিক। ৪৫ বছরের আগে মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়াকে আর্লি মেনোপজ এবং ৪০ বছরের আগে বন্ধ হওয়াকে প্রিম্যাচিউর মেনোপজ বলা হয়।

গবেষণায় ৪৪টি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের ৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৮ জন নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, এই দেশগুলোতে গড়ে প্রতি ১৪ জনে একজন নারীর অকাল মেনোপজ হয়। তবে বাংলাদেশে এই হার ৭.৫ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারতে এই হার ৮ শতাংশ, নেপালে ৭.৯ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৫.৯ শতাংশ। অকাল মেনোপজের ফলে নারীরা ইস্ট্রোজেন হরমোনের সুরক্ষামূলক প্রভাব হারান, যা হৃদরোগ, অস্টিওপোরোসিস, স্মৃতিভ্রংশ ও বিষণ্নতার মতো ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

গবেষণায় অকাল মেনোপজের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সামাজিক বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। শহরের নারীদের তুলনায় গ্রামের নারীদের মধ্যে প্রিম্যাচিউর মেনোপজের ঝুঁকি ১৭ শতাংশ বেশি। শিক্ষার হার এই ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উচ্চশিক্ষিত নারীদের তুলনায় অশিক্ষিত নারীদের ঝুঁকি ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। এছাড়া ১৮ বছরের পরে বিয়ে ও প্রথম সন্তান জন্মদানকারী নারীদের ক্ষেত্রে অকাল মেনোপজের ঝুঁকি কম দেখা গেছে।

গবেষণার প্রধান লেখক রাইসা বিনতে ইসলাম জানান, অকাল মেনোপজ কেবল জৈবিক বিষয় নয়, বরং এটি শিক্ষা, জীবনযাত্রার মান এবং প্রজনন ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। আইসিডিডিআর,বি-এর ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ ডিভিশনের সিনিয়র ডিরেক্টর ডা. আনিসুর রহমান চিকিৎসকদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে মেনোপজের বয়স সম্পর্কে নারীদের জিজ্ঞাসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি নারীর ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের একটি বড় নির্দেশক। গবেষকরা মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং মানসম্মত প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যদিও ধূমপান অকাল মেনোপজের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত কারণ, তবে ডিএইচএস জরিপে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় এই গবেষণায় তা পূর্ণাঙ্গভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

বাংলাদেশে প্রতি ১৩ জনে একজন নারীর অকাল মেনোপজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি ১৩ জনের মধ্যে একজন নারী ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সের আগেই মেনোপজ বা স্থায়ীভাবে মাসিক বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে, যা সম্প্রতি বিএমজে গ্লোবাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সাধারণত একজন নারীর ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে মেনোপজ হওয়া স্বাভাবিক। ৪৫ বছরের আগে মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়াকে আর্লি মেনোপজ এবং ৪০ বছরের আগে বন্ধ হওয়াকে প্রিম্যাচিউর মেনোপজ বলা হয়।

গবেষণায় ৪৪টি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের ৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৮ জন নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, এই দেশগুলোতে গড়ে প্রতি ১৪ জনে একজন নারীর অকাল মেনোপজ হয়। তবে বাংলাদেশে এই হার ৭.৫ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারতে এই হার ৮ শতাংশ, নেপালে ৭.৯ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৫.৯ শতাংশ। অকাল মেনোপজের ফলে নারীরা ইস্ট্রোজেন হরমোনের সুরক্ষামূলক প্রভাব হারান, যা হৃদরোগ, অস্টিওপোরোসিস, স্মৃতিভ্রংশ ও বিষণ্নতার মতো ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

গবেষণায় অকাল মেনোপজের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সামাজিক বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। শহরের নারীদের তুলনায় গ্রামের নারীদের মধ্যে প্রিম্যাচিউর মেনোপজের ঝুঁকি ১৭ শতাংশ বেশি। শিক্ষার হার এই ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উচ্চশিক্ষিত নারীদের তুলনায় অশিক্ষিত নারীদের ঝুঁকি ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। এছাড়া ১৮ বছরের পরে বিয়ে ও প্রথম সন্তান জন্মদানকারী নারীদের ক্ষেত্রে অকাল মেনোপজের ঝুঁকি কম দেখা গেছে।

গবেষণার প্রধান লেখক রাইসা বিনতে ইসলাম জানান, অকাল মেনোপজ কেবল জৈবিক বিষয় নয়, বরং এটি শিক্ষা, জীবনযাত্রার মান এবং প্রজনন ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। আইসিডিডিআর,বি-এর ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ ডিভিশনের সিনিয়র ডিরেক্টর ডা. আনিসুর রহমান চিকিৎসকদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে মেনোপজের বয়স সম্পর্কে নারীদের জিজ্ঞাসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি নারীর ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের একটি বড় নির্দেশক। গবেষকরা মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং মানসম্মত প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। যদিও ধূমপান অকাল মেনোপজের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত কারণ, তবে ডিএইচএস জরিপে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় এই গবেষণায় তা পূর্ণাঙ্গভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি।