লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবজাতকের ঘুমের মধ্যে মোচড়ামুচড়ির কারণ ও করণীয়

নবজাতক শিশুরা ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মোচড়ামুচড়ি করলে বা মুখ লাল করে ফেললে অনেক নতুন বাবা-মা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যাকে 'বেনাইন স্ট্রেচিং' বলা হয়। মাতৃগর্ভে দীর্ঘ সময় গুঁটিশুঁটি হয়ে থাকার পর পৃথিবীতে এসে হাত-পা ছড়ানোর স্বাভাবিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই শিশুরা এমন আচরণ করে থাকে।

শিশুর এই ধরনের আচরণের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। নবজাতকের স্নায়ুতন্ত্র পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় এবং তাদের ঘুমের প্রায় ৫০ শতাংশ সময় 'অ্যাক্টিভ স্লিপ' বা চঞ্চল ঘুমের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হওয়ায় ঘুমের ঘোরে শরীর মোচড়ানো বা মুখ বাঁকানো খুবই সাধারণ বিষয়। এছাড়া দুধ পান করার সময় পেটে বাতাস ঢুকে গেলে শিশুর অস্বস্তি হয়, যা দূর করতে তারা মোচড় দিয়ে থাকে। আবার ৩ থেকে ৪ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের মধ্যে 'মোরো রিফ্লেক্স' বা হঠাৎ চমকে উঠে হাত-পা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়।

যদি শিশুর খাওয়া, ঘুম ও মলমূত্র ত্যাগ স্বাভাবিক থাকে এবং মোচড়ানোর পর সে শান্ত হয়ে যায়, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস বয়সের পর এই সমস্যা আপনা থেকেই দূর হয়ে যায়। তবে কিছু বিপদচিহ্নের ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে শিশুর বমি হওয়া, খিঁচুনি, শরীর নীল হয়ে যাওয়া, স্তন্যপানে চরম অনীহা, অনবরত কান্না, শরীর শক্ত হয়ে বেঁকে যাওয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্ট কিংবা বয়স অনুযায়ী ওজন না বাড়া।

শিশুর অস্বস্তি কমাতে বাবা-মাকে কিছু সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে নিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পিঠ চাপড়ে ঢেকুর তোলানো অত্যন্ত জরুরি। সঠিক পজিশনে দুধ খাওয়ালে পেটে বাতাস কম প্রবেশ করে। শিশুর ত্বক শুকনো রাখতে ভেজা ডায়াপার বা কাঁথা দ্রুত পরিবর্তন করা প্রয়োজন। সুতি কাঁথা দিয়ে হালকাভাবে জড়িয়ে রাখলে বা 'সোয়াডলিং' করলে শিশু নিরাপদ বোধ করে এবং ভালো ঘুমায়। এছাড়া শিশু জেগে থাকা অবস্থায় দিনে ২ থেকে ৩ বার 'টামি টাইম' বা পেটে ভর দিয়ে রাখা তার পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তেল মালিশ, গ্রাইপ ওয়াটার, মধু কিংবা চিনির পানি খাওয়ানো থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও যুগ্ম সচিব ডা. সাবিনা ইয়াসমিনকে বাধ্যতামূলক অবসরে 

নবজাতকের ঘুমের মধ্যে মোচড়ামুচড়ির কারণ ও করণীয়

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০০:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

নবজাতক শিশুরা ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মোচড়ামুচড়ি করলে বা মুখ লাল করে ফেললে অনেক নতুন বাবা-মা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যাকে 'বেনাইন স্ট্রেচিং' বলা হয়। মাতৃগর্ভে দীর্ঘ সময় গুঁটিশুঁটি হয়ে থাকার পর পৃথিবীতে এসে হাত-পা ছড়ানোর স্বাভাবিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই শিশুরা এমন আচরণ করে থাকে।

শিশুর এই ধরনের আচরণের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। নবজাতকের স্নায়ুতন্ত্র পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় এবং তাদের ঘুমের প্রায় ৫০ শতাংশ সময় 'অ্যাক্টিভ স্লিপ' বা চঞ্চল ঘুমের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হওয়ায় ঘুমের ঘোরে শরীর মোচড়ানো বা মুখ বাঁকানো খুবই সাধারণ বিষয়। এছাড়া দুধ পান করার সময় পেটে বাতাস ঢুকে গেলে শিশুর অস্বস্তি হয়, যা দূর করতে তারা মোচড় দিয়ে থাকে। আবার ৩ থেকে ৪ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের মধ্যে 'মোরো রিফ্লেক্স' বা হঠাৎ চমকে উঠে হাত-পা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়।

যদি শিশুর খাওয়া, ঘুম ও মলমূত্র ত্যাগ স্বাভাবিক থাকে এবং মোচড়ানোর পর সে শান্ত হয়ে যায়, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাস বয়সের পর এই সমস্যা আপনা থেকেই দূর হয়ে যায়। তবে কিছু বিপদচিহ্নের ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে শিশুর বমি হওয়া, খিঁচুনি, শরীর নীল হয়ে যাওয়া, স্তন্যপানে চরম অনীহা, অনবরত কান্না, শরীর শক্ত হয়ে বেঁকে যাওয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্ট কিংবা বয়স অনুযায়ী ওজন না বাড়া।

শিশুর অস্বস্তি কমাতে বাবা-মাকে কিছু সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে নিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পিঠ চাপড়ে ঢেকুর তোলানো অত্যন্ত জরুরি। সঠিক পজিশনে দুধ খাওয়ালে পেটে বাতাস কম প্রবেশ করে। শিশুর ত্বক শুকনো রাখতে ভেজা ডায়াপার বা কাঁথা দ্রুত পরিবর্তন করা প্রয়োজন। সুতি কাঁথা দিয়ে হালকাভাবে জড়িয়ে রাখলে বা 'সোয়াডলিং' করলে শিশু নিরাপদ বোধ করে এবং ভালো ঘুমায়। এছাড়া শিশু জেগে থাকা অবস্থায় দিনে ২ থেকে ৩ বার 'টামি টাইম' বা পেটে ভর দিয়ে রাখা তার পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তেল মালিশ, গ্রাইপ ওয়াটার, মধু কিংবা চিনির পানি খাওয়ানো থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।