লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার নতুন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নতুন করে শুরু করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন মূলত দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অকার্যকর সহযোগিতা কাঠামোকে নতুন আইনি ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর সম্প্রতি তিন দিনের ঢাকা সফর করেন। এই সফরের সময় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। সার্জিও গর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত এই এমওইউর বিস্তারিত বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি মূলত দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, গবেষণা তথ্য এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ বিনিময়ের একটি আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। সহযোগিতার পরিধি বিস্তৃত হলেও তা কঠোরভাবে শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, বিষয়টি কোনো নতুন উদ্যোগ নয়। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ১৯৯১ সালে নবায়ন করা হয়েছিল। এরপর আর নবায়ন না হওয়ায় চুক্তিটি দীর্ঘ সময় ধরে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এখন সেই কাঠামোকে পুনরায় কার্যকর করার লক্ষ্যেই নতুন এমওইউর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিধিবিধান অনুযায়ী, এ ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ সংক্রান্ত নিয়মগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এসব চুক্তি '১২৩ অ্যাগ্রিমেন্ট' হিসেবে পরিচিত, যা দেশটির অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ নম্বর ধারার অধীনে সম্পাদিত হয়। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ৫০টি দেশের সঙ্গে ২৬টি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর রেখেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশপুরে এক রাতেই ৪ কৃষকের সেচপাম্প চুরি

বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার নতুন প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০০:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নতুন করে শুরু করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন মূলত দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অকার্যকর সহযোগিতা কাঠামোকে নতুন আইনি ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর সম্প্রতি তিন দিনের ঢাকা সফর করেন। এই সফরের সময় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। সার্জিও গর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত এই এমওইউর বিস্তারিত বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি মূলত দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, গবেষণা তথ্য এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ বিনিময়ের একটি আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। সহযোগিতার পরিধি বিস্তৃত হলেও তা কঠোরভাবে শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, বিষয়টি কোনো নতুন উদ্যোগ নয়। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ১৯৯১ সালে নবায়ন করা হয়েছিল। এরপর আর নবায়ন না হওয়ায় চুক্তিটি দীর্ঘ সময় ধরে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এখন সেই কাঠামোকে পুনরায় কার্যকর করার লক্ষ্যেই নতুন এমওইউর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিধিবিধান অনুযায়ী, এ ধরনের সহযোগিতার ক্ষেত্রে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ সংক্রান্ত নিয়মগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এসব চুক্তি '১২৩ অ্যাগ্রিমেন্ট' হিসেবে পরিচিত, যা দেশটির অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ নম্বর ধারার অধীনে সম্পাদিত হয়। মার্কিন জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ৫০টি দেশের সঙ্গে ২৬টি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর রেখেছে।