লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই সপ্তাহেও কাটেনি গ্যাস সংকট, বিপাকে শিল্প ও আবাসিক খাত

দেশজুড়ে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান গ্যাস সংকট এখনো কাটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল, স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকদের জন্য গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই সরবরাহের পরিমাণ থাকে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করেছে।

দেশের প্রধান গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরনের উৎপাদনও বর্তমানে নিম্নমুখী। গত মার্চ মাসের শুরুতে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৮১৫ থেকে ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও জুলাইয়ের শেষ দিকে তা কমে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। এছাড়া পুরোনো গ্যাসকূপগুলো থেকেও প্রত্যাশিত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও এটি কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। একইসাথে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে জাপান-কোরিয়া মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ছিল ১০ দশমিক ৬০ ডলার, যা বর্তমানে ২১ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। এতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম মনে করেন, এই সংকট দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ঘাটতিরই বহিঃপ্রকাশ। তার মতে, স্বল্পমেয়াদে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার ১০০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়া ভোলার গ্যাস রাজধানী অঞ্চলে সরবরাহের জন্য ক্রায়োজেনিক আইএসও ট্যাংক ব্যবহারের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, তাই শিল্প ও আবাসিক খাতে চলমান এই সংকট সহসাই কাটছে না।

দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরনের উৎপাদনও কমতির দিকে। চলতি বছরের মার্চের শুরুতে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৮১৫-৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও জুলাইয়ের শেষ দিকে তা নেমে এসেছে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইন কর্মকর্তা নিয়োগে অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব অভিযোগকারীর: অ্যাটর্নি জেনারেল

দুই সপ্তাহেও কাটেনি গ্যাস সংকট, বিপাকে শিল্প ও আবাসিক খাত

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৪৮:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

দেশজুড়ে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান গ্যাস সংকট এখনো কাটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল, স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক গ্রাহকদের জন্য গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই সরবরাহের পরিমাণ থাকে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করেছে।

দেশের প্রধান গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরনের উৎপাদনও বর্তমানে নিম্নমুখী। গত মার্চ মাসের শুরুতে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৮১৫ থেকে ৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও জুলাইয়ের শেষ দিকে তা কমে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। এছাড়া পুরোনো গ্যাসকূপগুলো থেকেও প্রত্যাশিত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও এটি কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। একইসাথে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে জাপান-কোরিয়া মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ছিল ১০ দশমিক ৬০ ডলার, যা বর্তমানে ২১ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। এতে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম মনে করেন, এই সংকট দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ঘাটতিরই বহিঃপ্রকাশ। তার মতে, স্বল্পমেয়াদে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার ১০০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়া ভোলার গ্যাস রাজধানী অঞ্চলে সরবরাহের জন্য ক্রায়োজেনিক আইএসও ট্যাংক ব্যবহারের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, তাই শিল্প ও আবাসিক খাতে চলমান এই সংকট সহসাই কাটছে না।

দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরনের উৎপাদনও কমতির দিকে। চলতি বছরের মার্চের শুরুতে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৮১৫-৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও জুলাইয়ের শেষ দিকে তা নেমে এসেছে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে।