লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই আন্দোলনে হত্যা মামলার তদন্তে ধীরগতি, সাক্ষী ও প্রমাণের অভাব

জুলাই আন্দোলনের সময় নিহত শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ১৯শে জুলাই মোহাম্মদপুরের বসিলা ব্রিজের ঢালে গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় তার মা অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলাটি করেন। পিবিআই’র শ্যামলী অফিসের পুলিশ পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলের কোনো সিসিটিভি ফুটেজ বা ভিডিও না পাওয়ায় এবং সব আসামি অজ্ঞাত হওয়ায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেও ঘটনার কোনো সাক্ষী খুঁজে না পাওয়ায় প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হচ্ছে।

একইভাবে বসিলা ব্রিজের নিচে নিহত মো. মনসুরের ঘটনায় তার বড় ভাই আয়নাল হক র‌্যাবের হেলিকপ্টার টিমসহ পুলিশ ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আসামি করে মামলা করেন। দেড় বছর পার হলেও এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা দিতে পারেনি পিবিআই। বর্তমানে জুলাই আন্দোলনে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মোট ৮৮ শতাংশ মামলা এখনো তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, আন্দোলনের পর একই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। অনেক মামলায় প্রবাসী, জীবিত বা মৃত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে, যা প্রকৃত দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করেছে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজের অভাব, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই, এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। অনেক প্রত্যক্ষদর্শী পরিস্থিতির কারণে সাক্ষ্য দিতে ভয় পাচ্ছেন বা এলাকা ছেড়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ৮০১টি হত্যা মামলা এবং ১ হাজার ৬৪টি হত্যাচেষ্টাসহ অন্যান্য অভিযোগে মামলা হয়েছে, যেখানে আসামি সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩১ জন। গত দুই বছরে মাত্র ২৫৯টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা মোট মামলার ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ঢাকার আদালত ও থানায় দায়ের করা ৭৮৯টি মামলার মধ্যে ২১শে জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৩৭টির প্রতিবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে মহানগর আদালতে দু’টি মামলার চার্জ গঠন করা হয়েছে।

পিবিআই আদালতে এ পর্যন্ত ২০৮টি মামলার তদন্ত শেষ করেছে, যার মধ্যে ৭১টি এখনো তদন্তাধীন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও কিছু মামলার বিচার ও রায় প্রদান প্রক্রিয়া চলছে। ঢাকার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মো. ওমর ফারুক ফারুকী জানান, তদন্তে সমন্বয়হীনতা ও নির্দোষ ব্যক্তিদের আসামি করার অভিযোগ থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তারা সঠিক প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করার চেষ্টা করছেন। পিবিআই’র পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ যোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে এজাহারে উল্লিখিত স্থানে ভিকটিমের উপস্থিতি না থাকা বা লাশ উত্তোলনের মতো আইনি জটিলতার কারণে তদন্তে সময় বেশি লাগছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় দেশ গড়ার আহ্বান মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর

জুলাই আন্দোলনে হত্যা মামলার তদন্তে ধীরগতি, সাক্ষী ও প্রমাণের অভাব

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই আন্দোলনের সময় নিহত শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ১৯শে জুলাই মোহাম্মদপুরের বসিলা ব্রিজের ঢালে গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় তার মা অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলাটি করেন। পিবিআই’র শ্যামলী অফিসের পুলিশ পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলের কোনো সিসিটিভি ফুটেজ বা ভিডিও না পাওয়ায় এবং সব আসামি অজ্ঞাত হওয়ায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেও ঘটনার কোনো সাক্ষী খুঁজে না পাওয়ায় প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হচ্ছে।

একইভাবে বসিলা ব্রিজের নিচে নিহত মো. মনসুরের ঘটনায় তার বড় ভাই আয়নাল হক র‌্যাবের হেলিকপ্টার টিমসহ পুলিশ ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আসামি করে মামলা করেন। দেড় বছর পার হলেও এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা দিতে পারেনি পিবিআই। বর্তমানে জুলাই আন্দোলনে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মোট ৮৮ শতাংশ মামলা এখনো তদন্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, আন্দোলনের পর একই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। অনেক মামলায় প্রবাসী, জীবিত বা মৃত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে, যা প্রকৃত দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করেছে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজের অভাব, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই, এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। অনেক প্রত্যক্ষদর্শী পরিস্থিতির কারণে সাক্ষ্য দিতে ভয় পাচ্ছেন বা এলাকা ছেড়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ৮০১টি হত্যা মামলা এবং ১ হাজার ৬৪টি হত্যাচেষ্টাসহ অন্যান্য অভিযোগে মামলা হয়েছে, যেখানে আসামি সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩১ জন। গত দুই বছরে মাত্র ২৫৯টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা মোট মামলার ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ঢাকার আদালত ও থানায় দায়ের করা ৭৮৯টি মামলার মধ্যে ২১শে জুলাই পর্যন্ত মাত্র ৩৭টির প্রতিবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে মহানগর আদালতে দু’টি মামলার চার্জ গঠন করা হয়েছে।

পিবিআই আদালতে এ পর্যন্ত ২০৮টি মামলার তদন্ত শেষ করেছে, যার মধ্যে ৭১টি এখনো তদন্তাধীন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও কিছু মামলার বিচার ও রায় প্রদান প্রক্রিয়া চলছে। ঢাকার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মো. ওমর ফারুক ফারুকী জানান, তদন্তে সমন্বয়হীনতা ও নির্দোষ ব্যক্তিদের আসামি করার অভিযোগ থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তারা সঠিক প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করার চেষ্টা করছেন। পিবিআই’র পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ যোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে এজাহারে উল্লিখিত স্থানে ভিকটিমের উপস্থিতি না থাকা বা লাশ উত্তোলনের মতো আইনি জটিলতার কারণে তদন্তে সময় বেশি লাগছে।