লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নানা কর্মসূচিতে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস

আজ ৫ আগস্ট, যা জুলাই বিপ্লবীদের কাছে ‘৩৬ জুলাই’ নামে পরিচিত। দুই বছর আগের এই দিনে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটেছিল দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরশাসনের। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সেই ঐতিহাসিক বিজয়কে আজ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছে পুরো দেশ। রাষ্ট্রীয় ছুটি, শহীদ পরিবারের সংবর্ধনা, পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। কেউ একে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, কেউ চব্বিশের ‘বর্ষা বিপ্লব’, আবার কেউ ‘দুনিয়া কাঁপানো জুলাই বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করেন, যা রাশিয়ার ‘অক্টোবর বিপ্লবের’ স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়। এই স্মরণের আবহে মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন—জুলাইয়ের স্বপ্নের বাংলাদেশ কি শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ পাচ্ছে?

বিশিষ্টজনদের মতে, স্বাধীন বাংলাদেশে এমন অভূতপূর্ব আন্দোলন এবং তার পরিণতি অত্যন্ত বিরল। মুক্তির লক্ষ্যে শত শত মানুষের জীবন উৎসর্গ করার ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসেই খুব বেশি দেখা যায় না। আন্দোলনকারীদের এই অনমনীয় দৃঢ়তা শুধু প্রশাসনকে অচল করেনি, বরং দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলীয় সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাসনে পাঠিয়েছে, যা বিশ্ব বিবেক ও জাতিসংঘকে বিস্মিত করেছে। দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। তিনি এই বিজয়কে বীর ছাত্র-জনতার উল্লেখ করে বলেন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ বা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে দেশ ঋণী এবং এখন সেই ঋণ পরিশোধের সময় এসেছে।

এই বিপ্লবের চেতনা নিয়ে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চারদিকে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে, যা এই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থি। তিনি সবাইকে নিজ নিজ নৈতিক অবস্থান থেকে সাহসী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, সহস্র শহীদের আত্মত্যাগকে সার্থক করতে হলে দেশকে সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত জুলাইয়ের আন্দোলন অসমাপ্তই থাকবে।

দিবসটি উদযাপনে আজ দেশজুড়ে সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নানা আয়োজন রয়েছে। সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করবেন। বেলা ১১টায় বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। এছাড়া দেশের ৬৪টি জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং জেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনের মিনিপোলগুলোতে জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ ছবি ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতারসহ বেসরকারি গণমাধ্যমগুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আলোচনা সভা, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হচ্ছে এবং প্রধান সড়কগুলো জাতীয় পতাকা ও রঙিন ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি জাদুঘর ও বিনোদন পার্কগুলো আজ শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত থাকবে। দেশের হাসপাতাল, কারাগার ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে প্রীতিভোজের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আজ সকালে রাজধানীর পল্টনে সমাবেশ করবে এবং দেশজুড়ে মিছিল-সমাবেশের আয়োজন করেছে। সিপিবি নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগে ৫ আগস্ট বিকেল ৪টায় তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী ৭ আগস্ট বিকেল ৫টায় মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে সিপিবির উদ্যোগে আরেকটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন ও শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিতর্ক

নানা কর্মসূচিতে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:২২:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

আজ ৫ আগস্ট, যা জুলাই বিপ্লবীদের কাছে ‘৩৬ জুলাই’ নামে পরিচিত। দুই বছর আগের এই দিনে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটেছিল দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরশাসনের। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সেই ঐতিহাসিক বিজয়কে আজ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছে পুরো দেশ। রাষ্ট্রীয় ছুটি, শহীদ পরিবারের সংবর্ধনা, পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। কেউ একে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, কেউ চব্বিশের ‘বর্ষা বিপ্লব’, আবার কেউ ‘দুনিয়া কাঁপানো জুলাই বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করেন, যা রাশিয়ার ‘অক্টোবর বিপ্লবের’ স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়। এই স্মরণের আবহে মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন—জুলাইয়ের স্বপ্নের বাংলাদেশ কি শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ পাচ্ছে?

বিশিষ্টজনদের মতে, স্বাধীন বাংলাদেশে এমন অভূতপূর্ব আন্দোলন এবং তার পরিণতি অত্যন্ত বিরল। মুক্তির লক্ষ্যে শত শত মানুষের জীবন উৎসর্গ করার ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসেই খুব বেশি দেখা যায় না। আন্দোলনকারীদের এই অনমনীয় দৃঢ়তা শুধু প্রশাসনকে অচল করেনি, বরং দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলীয় সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাসনে পাঠিয়েছে, যা বিশ্ব বিবেক ও জাতিসংঘকে বিস্মিত করেছে। দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। তিনি এই বিজয়কে বীর ছাত্র-জনতার উল্লেখ করে বলেন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ বা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে দেশ ঋণী এবং এখন সেই ঋণ পরিশোধের সময় এসেছে।

এই বিপ্লবের চেতনা নিয়ে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চারদিকে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে, যা এই বিপ্লবের চেতনার পরিপন্থি। তিনি সবাইকে নিজ নিজ নৈতিক অবস্থান থেকে সাহসী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, সহস্র শহীদের আত্মত্যাগকে সার্থক করতে হলে দেশকে সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত জুলাইয়ের আন্দোলন অসমাপ্তই থাকবে।

দিবসটি উদযাপনে আজ দেশজুড়ে সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নানা আয়োজন রয়েছে। সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করবেন। বেলা ১১টায় বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। এছাড়া দেশের ৬৪টি জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং জেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশনের মিনিপোলগুলোতে জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ ছবি ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতারসহ বেসরকারি গণমাধ্যমগুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আলোচনা সভা, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হচ্ছে এবং প্রধান সড়কগুলো জাতীয় পতাকা ও রঙিন ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি জাদুঘর ও বিনোদন পার্কগুলো আজ শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত থাকবে। দেশের হাসপাতাল, কারাগার ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে প্রীতিভোজের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আজ সকালে রাজধানীর পল্টনে সমাবেশ করবে এবং দেশজুড়ে মিছিল-সমাবেশের আয়োজন করেছে। সিপিবি নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগে ৫ আগস্ট বিকেল ৪টায় তোপখানা রোডের শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী ৭ আগস্ট বিকেল ৫টায় মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে সিপিবির উদ্যোগে আরেকটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।