লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত দেড় শতাধিক

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে আবারও রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে এমন উত্তাল পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। গত দুই দিনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সোমবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ন্যাশনাল মেডিকেল ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসেও ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনীতি বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত এসব ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছেন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত। পড়ালেখা বাদ দিয়ে যারা এসব সহিংসতায় জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে কোনো ধরনের সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না এবং উস্কানিদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

সংঘর্ষের পেছনে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি প্রদর্শন নিয়ে বিতর্ক মূল ভূমিকা পালন করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে বিলবোর্ডে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো আপত্তি জানায়। প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়া হলেও, একই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষ হয়, যাতে অন্তত ২০ জন আহত হন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী ও খালেদা জিয়ার ছবি নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়।

মঙ্গলবার সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাইয়ের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন সভায় প্ল্যাকার্ড বহনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও জকসু-শিবিরের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। অনুষ্ঠান শেষে জকসু ও ছাত্রশক্তির নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলায় সাংবাদিকসহ ৫০ জন আহত হন। দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এই হামলায় জকসুর ভিপি, জিএস, এজিএস এবং জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া, সেক্রেটারি ফেরদৌস শেখ ও জবি ছাত্র ফ্রন্টের ইভান তাহসিভসহ অন্তত ৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

একই দিনে দুপুর ১টার দিকে ঢাকা কলেজের ২ নম্বর গ্যালারিতে শিবিরের আলোচনা সভার ব্যানার টানানোর সময় ছাত্রদল অতর্কিত হামলা চালালে উভয় পক্ষের অন্তত ২৭ জন আহত হন। এতে শিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকসহ ২০ জন এবং ছাত্রদলের ৭ জন আহত হন। এছাড়া বিকাল ৪টার দিকে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দুই নেতা সানাউল্লাহ ও নিছার উদ্দিন রাব্বি শিবির কর্মীদের রড ও লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত জখম হন। তারা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে, বেরোবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণার পর ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান নিলেও শিবির কর্মীদের দেখা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই দুই সংগঠনের মধ্যে ট্যাগিং ও মুখোমুখি অবস্থান সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন ও শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিতর্ক

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত দেড় শতাধিক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে আবারও রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে এমন উত্তাল পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। গত দুই দিনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সোমবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ন্যাশনাল মেডিকেল ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসেও ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনীতি বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত এসব ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছেন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঘটনাগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত। পড়ালেখা বাদ দিয়ে যারা এসব সহিংসতায় জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে কোনো ধরনের সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না এবং উস্কানিদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

সংঘর্ষের পেছনে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি প্রদর্শন নিয়ে বিতর্ক মূল ভূমিকা পালন করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে বিলবোর্ডে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো আপত্তি জানায়। প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়া হলেও, একই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ব্যাপী সংঘর্ষ হয়, যাতে অন্তত ২০ জন আহত হন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী ও খালেদা জিয়ার ছবি নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়।

মঙ্গলবার সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাইয়ের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন সভায় প্ল্যাকার্ড বহনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও জকসু-শিবিরের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। অনুষ্ঠান শেষে জকসু ও ছাত্রশক্তির নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলায় সাংবাদিকসহ ৫০ জন আহত হন। দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এই হামলায় জকসুর ভিপি, জিএস, এজিএস এবং জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া, সেক্রেটারি ফেরদৌস শেখ ও জবি ছাত্র ফ্রন্টের ইভান তাহসিভসহ অন্তত ৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

একই দিনে দুপুর ১টার দিকে ঢাকা কলেজের ২ নম্বর গ্যালারিতে শিবিরের আলোচনা সভার ব্যানার টানানোর সময় ছাত্রদল অতর্কিত হামলা চালালে উভয় পক্ষের অন্তত ২৭ জন আহত হন। এতে শিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকসহ ২০ জন এবং ছাত্রদলের ৭ জন আহত হন। এছাড়া বিকাল ৪টার দিকে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দুই নেতা সানাউল্লাহ ও নিছার উদ্দিন রাব্বি শিবির কর্মীদের রড ও লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত জখম হন। তারা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে, বেরোবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণার পর ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান নিলেও শিবির কর্মীদের দেখা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই দুই সংগঠনের মধ্যে ট্যাগিং ও মুখোমুখি অবস্থান সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করেছে।