লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে বিদেশি সাংবাদিকদের ওপর নতুন ও কঠোর বিধিনিষেধ

পাকিস্তানে কর্মরত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাজের পরিধি ও চলাচলের ওপর নতুন ও অত্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির সরকার। এখন থেকে রাজধানী ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির বাইরে যেকোনো ধরনের সংবাদ সংগ্রহ বা কনটেন্ট তৈরির জন্য সাংবাদিকদের বাধ্যতামূলকভাবে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে হবে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন নির্দেশিকায় এই নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল—সব ধরনের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে। শুধু সাধারণ সংবাদ প্রতিবেদনই নয়, সরকারি কাজ, প্রামাণ্যচিত্র, চলচ্চিত্র বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রেও এই এনওসি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে কেবল ছুটি কাটানোর উদ্দেশ্যে যদি কোনো সাংবাদিক অ্যাবোটাবাদ ও মুরিতে যেতে চান, তবে আবেদনের পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে এনওসি দেওয়া হতে পারে।

নতুন এই নীতিমালার আওতায় কেবল বিদেশি সাংবাদিকদেরই আনা হয়নি, বরং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সহায়তা দেওয়া স্থানীয় প্রডাকশন হাউজ, ফ্রিল্যান্সার, ফিক্সার এবং অন্যান্য সেবাদাতাদেরও বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধিত হতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক্সটারনাল পাবলিসিটি (ইপি) উইংয়ের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে এই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এমনকি বিদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানি সাংবাদিকদেরও সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সারতে হবে। সফলভাবে নিবন্ধিতদের একটি কিউআর কোডযুক্ত পিভিসি স্বীকৃতি কার্ড দেওয়া হবে, যা দিয়ে তারা সরকারি অনুষ্ঠান ও স্থাপনায় প্রবেশের সুযোগ পাবেন।

নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, যেকোনো আবেদন অনুমোদন বা বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে ইপি উইংয়ের হাতে। তবে কোনো আবেদন বাতিল হলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের স্থানীয় নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা প্রচারের ওপর কড়াকড়ি করতেই এই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং committee to Protect Journalists (সিপিজে)-এর মতো বৈশ্বিক মানবাধিকার ও গণমাধ্যম অধিকার সংস্থাগুলো এই বিধিনিষেধের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় দেশ গড়ার আহ্বান মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর

পাকিস্তানে বিদেশি সাংবাদিকদের ওপর নতুন ও কঠোর বিধিনিষেধ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তানে কর্মরত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাজের পরিধি ও চলাচলের ওপর নতুন ও অত্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির সরকার। এখন থেকে রাজধানী ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির বাইরে যেকোনো ধরনের সংবাদ সংগ্রহ বা কনটেন্ট তৈরির জন্য সাংবাদিকদের বাধ্যতামূলকভাবে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে হবে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন নির্দেশিকায় এই নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল—সব ধরনের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে। শুধু সাধারণ সংবাদ প্রতিবেদনই নয়, সরকারি কাজ, প্রামাণ্যচিত্র, চলচ্চিত্র বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রেও এই এনওসি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে কেবল ছুটি কাটানোর উদ্দেশ্যে যদি কোনো সাংবাদিক অ্যাবোটাবাদ ও মুরিতে যেতে চান, তবে আবেদনের পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে এনওসি দেওয়া হতে পারে।

নতুন এই নীতিমালার আওতায় কেবল বিদেশি সাংবাদিকদেরই আনা হয়নি, বরং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সহায়তা দেওয়া স্থানীয় প্রডাকশন হাউজ, ফ্রিল্যান্সার, ফিক্সার এবং অন্যান্য সেবাদাতাদেরও বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধিত হতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক্সটারনাল পাবলিসিটি (ইপি) উইংয়ের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে এই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এমনকি বিদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানি সাংবাদিকদেরও সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সারতে হবে। সফলভাবে নিবন্ধিতদের একটি কিউআর কোডযুক্ত পিভিসি স্বীকৃতি কার্ড দেওয়া হবে, যা দিয়ে তারা সরকারি অনুষ্ঠান ও স্থাপনায় প্রবেশের সুযোগ পাবেন।

নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, যেকোনো আবেদন অনুমোদন বা বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে ইপি উইংয়ের হাতে। তবে কোনো আবেদন বাতিল হলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের স্থানীয় নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা প্রচারের ওপর কড়াকড়ি করতেই এই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং committee to Protect Journalists (সিপিজে)-এর মতো বৈশ্বিক মানবাধিকার ও গণমাধ্যম অধিকার সংস্থাগুলো এই বিধিনিষেধের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।