লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেছেন, দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন বলে মনে হচ্ছে। তিনি দেশবাসীকে এই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার ৫ আগস্ট রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে এক গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিপ্লবের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনেও তরুণ প্রজন্মের মতো সবাই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়নি, বরং এটি ছিল ছাত্র ও তরুণ সমাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন।

জামায়াত আমির আরও বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে অনেক রাজনৈতিক দল আন্দোলন করলেও ফ্যাসিবাদকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারেনি। জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কারণেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছিল। তিনি এই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে কোনো প্রকার বিভাজন সৃষ্টি বা একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাউকে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, ‘এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড ১৮ কোটি নির্যাতিত মানুষ।’

শহীদদের নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন না করার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদরা কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পদ নন, তারা জাতির সম্পদ। তিনি জুলাইযোদ্ধা আহত ও পঙ্গু ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের সম্মানজনক পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়া নির্বাচনের আগে করা প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, জনগণের রায় উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক পরিণতি কখনো ভালো হয় না।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে পুরোনো অস্থির সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেখানেই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা মাথাচাড়া দেবে, সেখানেই কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা এবং ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি হলে সরকারের পরিণতি শুভ হবে না। সবশেষে তিনি বলেন, একটি কলঙ্কমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে না ওঠা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হুথি হামলার জেরে বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেছেন, দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন বলে মনে হচ্ছে। তিনি দেশবাসীকে এই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার ৫ আগস্ট রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে এক গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিপ্লবের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনেও তরুণ প্রজন্মের মতো সবাই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়নি, বরং এটি ছিল ছাত্র ও তরুণ সমাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন।

জামায়াত আমির আরও বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে অনেক রাজনৈতিক দল আন্দোলন করলেও ফ্যাসিবাদকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারেনি। জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কারণেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছিল। তিনি এই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে কোনো প্রকার বিভাজন সৃষ্টি বা একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাউকে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, ‘এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড ১৮ কোটি নির্যাতিত মানুষ।’

শহীদদের নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন না করার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদরা কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পদ নন, তারা জাতির সম্পদ। তিনি জুলাইযোদ্ধা আহত ও পঙ্গু ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের সম্মানজনক পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান। এছাড়া নির্বাচনের আগে করা প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, জনগণের রায় উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক পরিণতি কখনো ভালো হয় না।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে পুরোনো অস্থির সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেখানেই ফ্যাসিবাদী প্রবণতা মাথাচাড়া দেবে, সেখানেই কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা এবং ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি হলে সরকারের পরিণতি শুভ হবে না। সবশেষে তিনি বলেন, একটি কলঙ্কমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে না ওঠা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।