লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ‘ছোট মাছ-বড় মাছ’ বিতর্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ না দেওয়ার প্রেক্ষাপটে নিজেকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ইঙ্গিত দিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বুধবার ৫ আগস্ট বিকেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এই পোস্টে তিনি ‘ছোট মাছ-বড় মাছ’ প্রসঙ্গটি সামনে এনেছেন। মাহফুজ আলম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং এনসিপি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি দলটিতে যোগ দেননি। বর্তমানে তিনি ‘অল্টারনেটিভস’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে রয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ লিখেছেন, ইতিহাস যেন এক মাছের বাজার বা পুকুর, যেখানে ‘বড় মাছ মেজো বা ছোট মাছকে গিলে খাবে’—এটিই বাস্তব। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত দুই বছরে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না। তার মতে, কোনো আদর্শিক গ্রুপের বিরোধিতা করলে ইতিহাস থেকে নাম মুছে ফেলা হয়, যেন ওই ব্যক্তি কখনোই ছিলেন না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি কেউ দলের নীতিনির্ধারণে যুক্ত থেকেও ওই আদর্শিক গ্রুপের সাথে তাল মিলিয়ে না চলে, তবে দলের তৈরি করা ইভেন্টের ইতিহাসেও তার নাম রাখা হয় না। যার হাতে ক্ষমতা থাকে, সে-ই ইতিহাস লেখে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মাহফুজের এই পোস্টের পর এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী তার বিরুদ্ধে ‘ন্যায়বিচার’ না করার অভিযোগ তুলেছেন। তাহমিদ লিখেছেন, মাহফুজের আশেপাশে থাকা অনেক ছোট মাছের অবদানের কথা তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। একইসাথে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত মাহফুজের পোস্ট শেয়ার করে তাকে ক্ষমতার কুসুম কুসুম বিরোধিতার মাধ্যমে ইতিহাস গড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এনসিপি সংশ্লিষ্ট এবং বাইরের বিভিন্ন মহলে এই ‘ছোট মাছ-বড় মাছ’ বিতর্কটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কৃতিত্বের প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাহফুজ মনে করেন, এনসিপিতে যোগ না দেওয়ায় তার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের এবং রিফাত রশিদও মাহফুজের পোস্টে মন্তব্য করেছেন। আবদুল কাদের লিখেছেন, সিনিয়ররা জুনিয়রদের গিলে খায়। এর জবাবে মাহফুজ লিখেছেন, সিনিয়ররা একা থাকতে পছন্দ করেন এবং সবাইকে নিয়ে বড় হওয়ার অনীহা তাদের। রিফাত রশিদের মন্তব্যের জবাবে মাহফুজ বলেন, সবাইকে এর প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।

মাহফুজের এই প্রশ্নের পর এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় ‘ছোট মাছ-বড় মাছ’ প্রসঙ্গ৷ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ ৫ আগস্ট বুধবার বিকেলে ফেসবুকে ওই পোস্ট দেন মাহফুজ আলম।

যদিচ, কোনোভাবে ঐ আদর্শিক গ্রুপের সাথে তাল মিলিয়ে চললে প্রধান ২/৪ পুতচরিত্রদের একজন হয়ে ওঠা কোন ইস্যুই ছিল না।’মাহফুজ লিখেছেন, ‘একটি দলে যোগ না দিলে ঐ দলের লোকজন আপনার নামই নিবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো সুরের খেয়ায় হাজার বছর

মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ‘ছোট মাছ-বড় মাছ’ বিতর্ক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ না দেওয়ার প্রেক্ষাপটে নিজেকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ইঙ্গিত দিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বুধবার ৫ আগস্ট বিকেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এই পোস্টে তিনি ‘ছোট মাছ-বড় মাছ’ প্রসঙ্গটি সামনে এনেছেন। মাহফুজ আলম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং এনসিপি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি দলটিতে যোগ দেননি। বর্তমানে তিনি ‘অল্টারনেটিভস’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে রয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ লিখেছেন, ইতিহাস যেন এক মাছের বাজার বা পুকুর, যেখানে ‘বড় মাছ মেজো বা ছোট মাছকে গিলে খাবে’—এটিই বাস্তব। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত দুই বছরে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না। তার মতে, কোনো আদর্শিক গ্রুপের বিরোধিতা করলে ইতিহাস থেকে নাম মুছে ফেলা হয়, যেন ওই ব্যক্তি কখনোই ছিলেন না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি কেউ দলের নীতিনির্ধারণে যুক্ত থেকেও ওই আদর্শিক গ্রুপের সাথে তাল মিলিয়ে না চলে, তবে দলের তৈরি করা ইভেন্টের ইতিহাসেও তার নাম রাখা হয় না। যার হাতে ক্ষমতা থাকে, সে-ই ইতিহাস লেখে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মাহফুজের এই পোস্টের পর এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী তার বিরুদ্ধে ‘ন্যায়বিচার’ না করার অভিযোগ তুলেছেন। তাহমিদ লিখেছেন, মাহফুজের আশেপাশে থাকা অনেক ছোট মাছের অবদানের কথা তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। একইসাথে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত মাহফুজের পোস্ট শেয়ার করে তাকে ক্ষমতার কুসুম কুসুম বিরোধিতার মাধ্যমে ইতিহাস গড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এনসিপি সংশ্লিষ্ট এবং বাইরের বিভিন্ন মহলে এই ‘ছোট মাছ-বড় মাছ’ বিতর্কটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কৃতিত্বের প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাহফুজ মনে করেন, এনসিপিতে যোগ না দেওয়ায় তার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের এবং রিফাত রশিদও মাহফুজের পোস্টে মন্তব্য করেছেন। আবদুল কাদের লিখেছেন, সিনিয়ররা জুনিয়রদের গিলে খায়। এর জবাবে মাহফুজ লিখেছেন, সিনিয়ররা একা থাকতে পছন্দ করেন এবং সবাইকে নিয়ে বড় হওয়ার অনীহা তাদের। রিফাত রশিদের মন্তব্যের জবাবে মাহফুজ বলেন, সবাইকে এর প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।

মাহফুজের এই প্রশ্নের পর এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় ‘ছোট মাছ-বড় মাছ’ প্রসঙ্গ৷ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ ৫ আগস্ট বুধবার বিকেলে ফেসবুকে ওই পোস্ট দেন মাহফুজ আলম।

যদিচ, কোনোভাবে ঐ আদর্শিক গ্রুপের সাথে তাল মিলিয়ে চললে প্রধান ২/৪ পুতচরিত্রদের একজন হয়ে ওঠা কোন ইস্যুই ছিল না।’মাহফুজ লিখেছেন, ‘একটি দলে যোগ না দিলে ঐ দলের লোকজন আপনার নামই নিবে না।