লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য, বদলি ও পদোন্নতি সিন্ডিকেট এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডার থেকে কমিশন নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্কটি হলো বিদেশে অর্থ পাচারের। তিনি দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার করে ভিলা ক্রয় ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন পদে পদায়ন, উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার এবং ঘুস লেনদেনকে কেন্দ্র করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এছাড়া সারা দেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে জনপ্রতি ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুস নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। ৩৬ জন ডিসি পদায়নের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ হিসাব অনুযায়ী সম্ভাব্য লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭২ কোটি থেকে ৩৬০ কোটি টাকা। দুদক এই লেনদেনের সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান চালাবে।

একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গেও আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রথম দফায় দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই অনুসন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি এবং কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। দুদক জানিয়েছে, আগের সেই অভিযোগের সঙ্গে নতুন এই ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগটি সংযুক্ত করে সমন্বিতভাবে সত্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের বিষয়টি মাথা থেকে বের করতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদক

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৩:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য, বদলি ও পদোন্নতি সিন্ডিকেট এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডার থেকে কমিশন নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্কটি হলো বিদেশে অর্থ পাচারের। তিনি দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার করে ভিলা ক্রয় ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন পদে পদায়ন, উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার এবং ঘুস লেনদেনকে কেন্দ্র করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এছাড়া সারা দেশে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে জনপ্রতি ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুস নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। ৩৬ জন ডিসি পদায়নের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ হিসাব অনুযায়ী সম্ভাব্য লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭২ কোটি থেকে ৩৬০ কোটি টাকা। দুদক এই লেনদেনের সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধান চালাবে।

একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গেও আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রথম দফায় দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই অনুসন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি এবং কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। দুদক জানিয়েছে, আগের সেই অভিযোগের সঙ্গে নতুন এই ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগটি সংযুক্ত করে সমন্বিতভাবে সত্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।