লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে এডিবির সহায়তা প্রতিশ্রুতি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার জাতীয় আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে পূর্ণ সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়িংমিং ইয়াং জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উৎপাদনশীল, বিনিয়োগনির্ভর এবং সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় এডিবি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

গত ৯ থেকে ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ সফরকালে ইয়িংমিং ইয়াং সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এডিবির পরবর্তী কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি (সিপিএস), গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগ অগ্রাধিকার এবং সমন্বিত প্রবৃদ্ধি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগের বাস্তবায়ন। ইয়িংমিং ইয়াং বলেন, শক্তিশালী প্রবাসী আয়, সেবাখাতের ধারাবাহিকতা এবং গতিশীল বেসরকারি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির সহনশীলতা প্রমাণ করেছে, যা এখন গভীরতর অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে প্রবৃদ্ধির ধারা আগামী দিনগুলোতে আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। তবে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার মতো কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখা জরুরি বলে তিনি মত দেন।

এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও জানান, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিতকরণ, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এডিবি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের উন্নয়নই এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি। আইজিএনডি উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় কমিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যকে বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের ভৌগোলিক কৌশলগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক বাণিজ্যে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ২০ বিলিয়ন ডলারের এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল হাইওয়ে উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিজিটাল সংযোগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনে নতুন সুযোগ পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও যোগ করেন, আঞ্চলিক সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ কখনোই অভ্যন্তরীণ সংস্কারের বিকল্প নয়, বরং এটি সংস্কারকে আরও কার্যকর করে তোলে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ বাজারের মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকায় বাংলাদেশ কৌশলগত সুবিধা ভোগ করছে, যা আঞ্চলিক মূল্যশৃঙ্খলে যুক্ত হওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করেছে। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি নীতিগত সমন্বয় এবং শুল্কব্যবস্থার উন্নয়ন এই সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীর ওপর ছিনতাইকারীর হাম/লা, রগ কে/টে দেওয়ার অভিযোগ

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে এডিবির সহায়তা প্রতিশ্রুতি

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার জাতীয় আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে পূর্ণ সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়িংমিং ইয়াং জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উৎপাদনশীল, বিনিয়োগনির্ভর এবং সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় এডিবি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

গত ৯ থেকে ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ সফরকালে ইয়িংমিং ইয়াং সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এডিবির পরবর্তী কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি (সিপিএস), গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগ অগ্রাধিকার এবং সমন্বিত প্রবৃদ্ধি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগের বাস্তবায়ন। ইয়িংমিং ইয়াং বলেন, শক্তিশালী প্রবাসী আয়, সেবাখাতের ধারাবাহিকতা এবং গতিশীল বেসরকারি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির সহনশীলতা প্রমাণ করেছে, যা এখন গভীরতর অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে প্রবৃদ্ধির ধারা আগামী দিনগুলোতে আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৭ অর্থবছরে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। তবে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার মতো কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখা জরুরি বলে তিনি মত দেন।

এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও জানান, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিতকরণ, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এডিবি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের উন্নয়নই এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি। আইজিএনডি উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় কমিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যকে বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের ভৌগোলিক কৌশলগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক বাণিজ্যে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ২০ বিলিয়ন ডলারের এশিয়া-প্যাসিফিক ডিজিটাল হাইওয়ে উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ডিজিটাল সংযোগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনে নতুন সুযোগ পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও যোগ করেন, আঞ্চলিক সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ কখনোই অভ্যন্তরীণ সংস্কারের বিকল্প নয়, বরং এটি সংস্কারকে আরও কার্যকর করে তোলে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ বাজারের মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকায় বাংলাদেশ কৌশলগত সুবিধা ভোগ করছে, যা আঞ্চলিক মূল্যশৃঙ্খলে যুক্ত হওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করেছে। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি নীতিগত সমন্বয় এবং শুল্কব্যবস্থার উন্নয়ন এই সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।