লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নিয়ন্ত্রণ ও শেয়ার জালিয়াতির ঘটনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হাইকোর্টে দাখিল করা ৪২ পৃষ্ঠার এক তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ব্যাংকটির শেয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং এস আলম গ্রুপের স্বার্থ রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে ব্যাংক কোম্পানি আইনের একাধিক বিধান লঙ্ঘন করে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। সেই সময় জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফআইইউ) ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে দীর্ঘ তদন্ত চালায়। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্স ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ বের করে সেই টাকা দিয়েই পুনরায় ব্যাংকের শেয়ার কিনেছে। এছাড়া পরিচালনা পর্ষদে থেকে এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা পরবর্তীতে লন্ডনভিত্তিক ফরেনসিক প্রতিষ্ঠান দ্য লয়েড (The Lloyd) যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিয়েছে।

এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আব্দুল কাইয়ুম জানান, ইসলামী ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৫ সালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাবেক প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। আদালত ইতিমধ্যে এই মামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে হাইকোর্টে ব্যাংকটির শেয়ার সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলমান রয়েছে। ব্যারিস্টার কাইয়ুম নৈতিকতার প্রশ্নে এমন ব্যক্তির প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নিয়ন্ত্রণ ও শেয়ার জালিয়াতির ঘটনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হাইকোর্টে দাখিল করা ৪২ পৃষ্ঠার এক তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ব্যাংকটির শেয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং এস আলম গ্রুপের স্বার্থ রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে ব্যাংক কোম্পানি আইনের একাধিক বিধান লঙ্ঘন করে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। সেই সময় জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফআইইউ) ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে দীর্ঘ তদন্ত চালায়। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, জেএমসি বিল্ডার্স ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ বের করে সেই টাকা দিয়েই পুনরায় ব্যাংকের শেয়ার কিনেছে। এছাড়া পরিচালনা পর্ষদে থেকে এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, চারটি স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা পরবর্তীতে লন্ডনভিত্তিক ফরেনসিক প্রতিষ্ঠান দ্য লয়েড (The Lloyd) যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিয়েছে।

এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আব্দুল কাইয়ুম জানান, ইসলামী ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ, বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির অভিযোগে ২০২৫ সালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাবেক প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। আদালত ইতিমধ্যে এই মামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে হাইকোর্টে ব্যাংকটির শেয়ার সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলমান রয়েছে। ব্যারিস্টার কাইয়ুম নৈতিকতার প্রশ্নে এমন ব্যক্তির প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।