লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রেপ্তার এড়াতে রিকশা ও রাইড শেয়ারিংয়ে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার এড়াতে এবং আত্মগোপনের কৌশল হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে রিকশাচালকের ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। উবার-পাঠাওয়ের পাশাপাশি এবার রাজধানীর অলিগলিতে অটোরিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে দিন কাটানোর প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে পলাতক এসব নেতাকর্মীর মধ্যে। বিশেষ করে ধানমন্ডি ৩২ ও এর আশপাশের এলাকায় কিংবা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রিকশাচালকের ছদ্মবেশে সন্দেহভাজন অনেককে আটক বা ধাওয়া খেতে দেখা গেছে।

ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার দত্তের বাজার ইউনিয়নের ময়রা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ বাবুল মিয়া। সবশেষ ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এলাকায় দাপটের সাথে চলাফেরা করা বাবুল মিয়া ৫ আগস্টের পর পালিয়ে আসেন ঢাকায়। জীবিকার তাগিদে বেছে নেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানো। যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে দৈনিক ৩০০ টাকা জমার ভিত্তিতে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে ঢাকার রাস্তায় বের হন তিনি। সম্প্রতি রাজধানীর সেগুন বাগিচা থেকে মোহাম্মদপুর যাওয়ার পথে এক প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করেন। বাবুল মিয়া জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা খুব কষ্টে দিনযাপন করছেন। অনেকেই ব্যবসা-চাকরি হারিয়ে পলাতক অবস্থায় বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। ঢাকার রাস্তায় রিকশা চালিয়ে তিনি দৈনিক ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা আয় করছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবশ্য এই ছদ্মবেশের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য দেখছে। তাদের ভাষ্য, পুলিশি নজরদারি ও মামলার হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের পরিচিত চেহারা লুকাতে অনেকে অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিংকে নিরাপদ বাহন ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। একই সঙ্গে অনেকে নাশকতার ছকও আঁকছেন। পলাতক আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং রাইড শেয়ারিংয়ের আড়ালে অপরাধী চক্র যাতে পালিয়ে থাকতে বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সাইবার ও মাঠপর্যায়ের টিমগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

অতীতে বিএনপি কিংবা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ধরণের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। ২০১৮ সালের ২১ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ আয়োজনে এক আলোচনা সভায় বিএনপি নেতাকর্মীদের পরিস্থিতি তুলে ধরে দলটির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৬ জুনের পর সাংবাদিক ভাইয়েরা যেমন ফল বিক্রি করেছেন, আজ তেমনি আমাদের রাজনৈতিক কর্মীরা ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেছিলেন যে তারা হকার হয়েছেন, নাইটগার্ডের কাজ করছেন এবং এলাকা ছেড়ে অন্য পাড়ায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

সময়ের ব্যবধানে এখন সেই দৃশ্যপট বদলে গেছে। দলীয় তহবিল বন্ধ থাকা এবং আকস্মিক এই দুর্দিনে পরিবারের আর্থিক চাহিদা মেটাতে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা এখন জড়িয়েছেন এই পেশায়। হেলমেট ও মাস্ক পরে রাইড শেয়ার করার কারণে চেনা মুখগুলোকেও এখন আর সহজে চেনার উপায় থাকে না। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, আত্মগোপনে থাকা নেতাদের একটি অংশ দেশের বাইরে পালাতে সক্ষম হলেও, দেশের ভেতরে থাকা অনেকেই চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, সম্পদ ক্রোক এবং দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাঁরা এই শ্রমভিত্তিক জীবনযাত্রা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

রাজধানীর মালিবাগ এলাকার এক রাইড শেয়ারিং চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত মাসে তিনি একজন পরিচিত যুবলীগ নেতাকে রাইডার হিসেবে পান। হেলমেট ও মুখে মাস্ক থাকলেও কথা বলার একপর্যায়ে ওই নেতাকে চিনে ফেলেন তিনি। পরবর্তীতে ওই নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ ও সম্পদ ক্রোকের কারণে তাঁর বর্তমান আয়ের একমাত্র উৎস এই রাইড শেয়ারিং।

রাজধানীর কাকলীর মোড়ে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা পাঠাও বাইক চালক আব্দুর রহমান জানান, আগে তিনি পরিবার নিয়ে গ্রামে বসবাস করতেন এবং সেখানে মুদি দোকান পরিচালনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। ৫ আগস্টের পর ব্যবসার অবস্থা খারাপ হতে থাকায় তিনি ঢাকায় আসেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পেয়ে নিজের বাইক দিয়ে রাইড শেয়ারিং শুরু করেন। সকাল থেকে দৈনিক ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা রাইড শেয়ারিং করেও তাঁর সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।

আরেক চালক সজীব আহমেদ জানান, আগে গ্রামে তাঁর পুকুরে মাছ চাষের ভালো ব্যবসা ছিল এবং ইজারা নিয়ে গ্রামে হাট পরিচালনা করতেন। ৫ আগস্টের পর হাটের ইজারা বিএনপি নেতাদের দখলে চলে যায়। গ্রামে আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন এবং বাড়ি থেকে লোন করে টাকা নিয়ে বাইক কিনে চালানো শুরু করেন।

মহাখালীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শরীফ খান জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়ায় তিনি মিরপুর থেকে অফিসে আসা ও যাওয়ার পথে বাইকে যাত্রী বহন করেন। এতে প্রতিদিন তাঁর শ পাঁচেক টাকা অতিরিক্ত আয় হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে নেতাদের কাছ থেকে কিছু বাড়তি কাজ পেতেন, যা এখন আর নেই।

রাজধানীর গুলশান, বনানী, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মহাখালী, গাবতলী, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, পল্টন, মগবাজার, উত্তরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঘুরে আগের তুলনায় বাইক রাইডারের উপস্থিতি অনেক বেশি লক্ষ্য করা গেছে। একসময় এলাকার রাজনৈতিক মাঠে যাদের দাপট ছিল, তাদের অনেকেরই নতুন জীবিকার ঠিকানা এখন রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের বাইক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাইড শেয়ারিং সেবা কেবল যাতায়াত সহজ করেনি, বরং দেশের তরুণ সমাজ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের এই সময়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিং এখন অনেক পলাতক কর্মীর কাছে আত্মগোপন ও বেঁচে থাকার প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঠালিয়ায় অভিযান চালিয়ে ৬৩ কেজি পলিথিন জব্দ

গ্রেপ্তার এড়াতে রিকশা ও রাইড শেয়ারিংয়ে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার এড়াতে এবং আত্মগোপনের কৌশল হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে রিকশাচালকের ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। উবার-পাঠাওয়ের পাশাপাশি এবার রাজধানীর অলিগলিতে অটোরিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে দিন কাটানোর প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে পলাতক এসব নেতাকর্মীর মধ্যে। বিশেষ করে ধানমন্ডি ৩২ ও এর আশপাশের এলাকায় কিংবা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে রিকশাচালকের ছদ্মবেশে সন্দেহভাজন অনেককে আটক বা ধাওয়া খেতে দেখা গেছে।

ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার দত্তের বাজার ইউনিয়নের ময়রা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ বাবুল মিয়া। সবশেষ ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এলাকায় দাপটের সাথে চলাফেরা করা বাবুল মিয়া ৫ আগস্টের পর পালিয়ে আসেন ঢাকায়। জীবিকার তাগিদে বেছে নেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানো। যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে দৈনিক ৩০০ টাকা জমার ভিত্তিতে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে ঢাকার রাস্তায় বের হন তিনি। সম্প্রতি রাজধানীর সেগুন বাগিচা থেকে মোহাম্মদপুর যাওয়ার পথে এক প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করেন। বাবুল মিয়া জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার এলাকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা খুব কষ্টে দিনযাপন করছেন। অনেকেই ব্যবসা-চাকরি হারিয়ে পলাতক অবস্থায় বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। ঢাকার রাস্তায় রিকশা চালিয়ে তিনি দৈনিক ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা আয় করছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবশ্য এই ছদ্মবেশের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য দেখছে। তাদের ভাষ্য, পুলিশি নজরদারি ও মামলার হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের পরিচিত চেহারা লুকাতে অনেকে অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিংকে নিরাপদ বাহন ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। একই সঙ্গে অনেকে নাশকতার ছকও আঁকছেন। পলাতক আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং রাইড শেয়ারিংয়ের আড়ালে অপরাধী চক্র যাতে পালিয়ে থাকতে বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে বিষয়ে সাইবার ও মাঠপর্যায়ের টিমগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

অতীতে বিএনপি কিংবা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ধরণের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। ২০১৮ সালের ২১ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ আয়োজনে এক আলোচনা সভায় বিএনপি নেতাকর্মীদের পরিস্থিতি তুলে ধরে দলটির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৬ জুনের পর সাংবাদিক ভাইয়েরা যেমন ফল বিক্রি করেছেন, আজ তেমনি আমাদের রাজনৈতিক কর্মীরা ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেছিলেন যে তারা হকার হয়েছেন, নাইটগার্ডের কাজ করছেন এবং এলাকা ছেড়ে অন্য পাড়ায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

সময়ের ব্যবধানে এখন সেই দৃশ্যপট বদলে গেছে। দলীয় তহবিল বন্ধ থাকা এবং আকস্মিক এই দুর্দিনে পরিবারের আর্থিক চাহিদা মেটাতে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা এখন জড়িয়েছেন এই পেশায়। হেলমেট ও মাস্ক পরে রাইড শেয়ার করার কারণে চেনা মুখগুলোকেও এখন আর সহজে চেনার উপায় থাকে না। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, আত্মগোপনে থাকা নেতাদের একটি অংশ দেশের বাইরে পালাতে সক্ষম হলেও, দেশের ভেতরে থাকা অনেকেই চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ, সম্পদ ক্রোক এবং দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাঁরা এই শ্রমভিত্তিক জীবনযাত্রা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

রাজধানীর মালিবাগ এলাকার এক রাইড শেয়ারিং চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত মাসে তিনি একজন পরিচিত যুবলীগ নেতাকে রাইডার হিসেবে পান। হেলমেট ও মুখে মাস্ক থাকলেও কথা বলার একপর্যায়ে ওই নেতাকে চিনে ফেলেন তিনি। পরবর্তীতে ওই নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ ও সম্পদ ক্রোকের কারণে তাঁর বর্তমান আয়ের একমাত্র উৎস এই রাইড শেয়ারিং।

রাজধানীর কাকলীর মোড়ে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা পাঠাও বাইক চালক আব্দুর রহমান জানান, আগে তিনি পরিবার নিয়ে গ্রামে বসবাস করতেন এবং সেখানে মুদি দোকান পরিচালনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। ৫ আগস্টের পর ব্যবসার অবস্থা খারাপ হতে থাকায় তিনি ঢাকায় আসেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পেয়ে নিজের বাইক দিয়ে রাইড শেয়ারিং শুরু করেন। সকাল থেকে দৈনিক ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা রাইড শেয়ারিং করেও তাঁর সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।

আরেক চালক সজীব আহমেদ জানান, আগে গ্রামে তাঁর পুকুরে মাছ চাষের ভালো ব্যবসা ছিল এবং ইজারা নিয়ে গ্রামে হাট পরিচালনা করতেন। ৫ আগস্টের পর হাটের ইজারা বিএনপি নেতাদের দখলে চলে যায়। গ্রামে আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন এবং বাড়ি থেকে লোন করে টাকা নিয়ে বাইক কিনে চালানো শুরু করেন।

মহাখালীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শরীফ খান জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়ায় তিনি মিরপুর থেকে অফিসে আসা ও যাওয়ার পথে বাইকে যাত্রী বহন করেন। এতে প্রতিদিন তাঁর শ পাঁচেক টাকা অতিরিক্ত আয় হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে নেতাদের কাছ থেকে কিছু বাড়তি কাজ পেতেন, যা এখন আর নেই।

রাজধানীর গুলশান, বনানী, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মহাখালী, গাবতলী, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, পল্টন, মগবাজার, উত্তরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঘুরে আগের তুলনায় বাইক রাইডারের উপস্থিতি অনেক বেশি লক্ষ্য করা গেছে। একসময় এলাকার রাজনৈতিক মাঠে যাদের দাপট ছিল, তাদের অনেকেরই নতুন জীবিকার ঠিকানা এখন রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের বাইক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাইড শেয়ারিং সেবা কেবল যাতায়াত সহজ করেনি, বরং দেশের তরুণ সমাজ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের এই সময়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিং এখন অনেক পলাতক কর্মীর কাছে আত্মগোপন ও বেঁচে থাকার প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।