লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসের সেরা অবস্থানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সেরা অবস্থানে রয়েছে। রাজধানীর কাওরান বাজারের প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত জানান, দুই দেশের নেতাদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং আগামী ৫০ বছরের সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে।

ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এই সফরের মাধ্যমে রাজনৈতিক আস্থা, কৌশলগত যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। চীন বাংলাদেশের স্বাধীন উন্নয়নের পথকে সম্মান করে এবং সব সময় জনগণের পাশে থাকতে চায়। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তিনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তাজা কাঁঠাল রপ্তানির প্রটোকল সই হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কৃষিপণ্য চীনের বাজারে প্রবেশ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশ একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে এবং চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে ইয়াও ওয়েন জানান, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কারিগরি কাজ ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এগিয়ে চলছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালুর সুযোগ এবং বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান তিনি। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে চীন কাজ করতে প্রস্তুত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর থেকে অর্জিত সমঝোতাগুলো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি নজমুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এবং শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন প্রায় ৬ কোটি মানুষ

ইতিহাসের সেরা অবস্থানে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সেরা অবস্থানে রয়েছে। রাজধানীর কাওরান বাজারের প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত জানান, দুই দেশের নেতাদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং আগামী ৫০ বছরের সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে।

ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এই সফরের মাধ্যমে রাজনৈতিক আস্থা, কৌশলগত যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। চীন বাংলাদেশের স্বাধীন উন্নয়নের পথকে সম্মান করে এবং সব সময় জনগণের পাশে থাকতে চায়। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তিনি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তাজা কাঁঠাল রপ্তানির প্রটোকল সই হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কৃষিপণ্য চীনের বাজারে প্রবেশ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশ একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে এবং চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ অফিস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে ইয়াও ওয়েন জানান, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কারিগরি কাজ ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এগিয়ে চলছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন চালুর সুযোগ এবং বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান তিনি। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে চীন কাজ করতে প্রস্তুত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর থেকে অর্জিত সমঝোতাগুলো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি নজমুল হক নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি এবং শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।