লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশি হাফেজ হিরা

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরুষদের হিফজ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা। ঢাকার মিরপুরের মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী মাদরাসার এই শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে এই সাফল্য অর্জন করেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করেছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত বর্ণাঢ্য সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরার হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এর আগে ৬ অক্টোবর প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বাছাই পর্ব শেষে ৩৮টি দেশের মোট ৫০ জন প্রতিযোগী এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়েছিলেন।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে ৪০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১ লাখ টাকা), একটি সম্মাননা ট্রফি, পাঁচ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের ওমরাহ বা পর্যটন প্যাকেজ এবং তিন হাজার রিঙ্গিত মূল্যের একটি স্বর্ণের বার প্রদান করা হয়েছে।

বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হাফেজ হিরা তার শিক্ষক, পিতা-মাতা এবং দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তার ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। তার এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজী মাসুম। তিনি বলেন, হিরার এই জয় কেবল মাদরাসার নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে যোগ্য আলেম ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারাও এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

এবারের আয়োজনে পুরুষদের তিলাওয়াত বিভাগে ইন্দোনেশিয়ার মুহাম্মদ ফাউজি রিদওয়ান, নারীদের তিলাওয়াত বিভাগে মালয়েশিয়ার নুর শাকুরা এবং নারীদের হিফজ বিভাগে নাইজারের চাফাতু ইসুফু প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। ১৯৬১ সালে মালয়েশিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী টুংকু আবদুল রহমানের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজচর্চার অন্যতম প্রধান আসর হিসেবে স্বীকৃত। এর আগে বাংলাদেশের হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরীম, মুয়াজ মাহমুদ, আনাস মাহফুজ ও সা'দ নুরের মতো শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পেয়েছেন, যার ধারাবাহিকতায় হাফেজ হিরার এই অর্জন বাংলাদেশের কোরআন শিক্ষার ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লি বিক্ষোভের আগেই আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশি হাফেজ হিরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরুষদের হিফজ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা। ঢাকার মিরপুরের মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামী মাদরাসার এই শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে এই সাফল্য অর্জন করেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করেছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত বর্ণাঢ্য সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরার হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এর আগে ৬ অক্টোবর প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বাছাই পর্ব শেষে ৩৮টি দেশের মোট ৫০ জন প্রতিযোগী এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়েছিলেন।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে ৪০ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১ লাখ টাকা), একটি সম্মাননা ট্রফি, পাঁচ হাজার রিঙ্গিত মূল্যের ওমরাহ বা পর্যটন প্যাকেজ এবং তিন হাজার রিঙ্গিত মূল্যের একটি স্বর্ণের বার প্রদান করা হয়েছে।

বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হাফেজ হিরা তার শিক্ষক, পিতা-মাতা এবং দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তার ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। তার এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মারকাযু ফয়জিল কুরআন আল ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজী মাসুম। তিনি বলেন, হিরার এই জয় কেবল মাদরাসার নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে যোগ্য আলেম ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারাও এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

এবারের আয়োজনে পুরুষদের তিলাওয়াত বিভাগে ইন্দোনেশিয়ার মুহাম্মদ ফাউজি রিদওয়ান, নারীদের তিলাওয়াত বিভাগে মালয়েশিয়ার নুর শাকুরা এবং নারীদের হিফজ বিভাগে নাইজারের চাফাতু ইসুফু প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। ১৯৬১ সালে মালয়েশিয়ার প্রথম প্রধানমন্ত্রী টুংকু আবদুল রহমানের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজচর্চার অন্যতম প্রধান আসর হিসেবে স্বীকৃত। এর আগে বাংলাদেশের হাফেজ সালেহ আহমদ তাকরীম, মুয়াজ মাহমুদ, আনাস মাহফুজ ও সা'দ নুরের মতো শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পেয়েছেন, যার ধারাবাহিকতায় হাফেজ হিরার এই অর্জন বাংলাদেশের কোরআন শিক্ষার ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।