লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরকে শান্তির অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা

একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বব্যবস্থায় এশিয়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলটি দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের মিলনস্থল হিসেবে উঠে আসছে। চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মতো বড় শক্তিগুলোর এখানে নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক স্বাভাবিক বাস্তবতা। এখন প্রশ্ন হলো, এই স্বার্থের প্রতিযোগিতা কি বিভাজন তৈরি করবে, নাকি পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অঞ্চলটিকে বিশ্বের সমৃদ্ধতম অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তুলবে।

বন্দর, রেলপথ, জ্বালানি সংযোগ, শিল্পাঞ্চল এবং ডিজিটাল অবকাঠামোকে যদি কেবল কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়, তবে তা নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। কিন্তু এগুলোকে যদি বাণিজ্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে তা শান্তির শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে। এই ভৌগোলিক অবস্থানে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সেতু হিসেবে কাজ করার অনন্য সুযোগ রাখে। তবে বাংলাদেশের লক্ষ্য প্রতিবেশীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার নয়, বরং একটি বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতাকারী ও সহযোগিতার সেতুবন্ধনকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতি—’সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—আজকের বিভক্ত বিশ্বে এক বাস্তব কূটনৈতিক পথ। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বর্ধিত সহযোগিতা, আসিয়ানের আঞ্চলিক সংযোগ উদ্যোগ এবং বিমসটেকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো প্রমাণ করে যে শান্তি ও উন্নয়নের জন্য যৌথ প্রচেষ্টার গুরুত্ব বাড়ছে। বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাসহ অংশীদার দেশগুলোর জন্য এই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সুফল নিশ্চিত করা গেলেই দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আসবে।

গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য এই সম্মিলিত উন্নয়ন চিন্তার তাৎপর্য বিশাল। তাদের তরুণ কর্মশক্তি, বিশাল বাজার এবং উন্নয়নের সম্ভাবনা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ভূমিকা রাখতে পারে। একবিংশ শতাব্দীর সাফল্য কেবল সামরিক শক্তির মাপকাঠিতে নির্ধারিত হবে না, বরং কে কত বেশি মানুষের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছে এবং কে শান্তিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক বাস্তবতায় পরিণত করতে পারছে—তা-ই হবে প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি। সঠিক নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর কেবল একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং শান্তি ও মানবিক অগ্রগতির এক অনন্য করিডোর হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

বঙ্গোপসাগরকে শান্তির অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:১৬:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বব্যবস্থায় এশিয়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলটি দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের মিলনস্থল হিসেবে উঠে আসছে। চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মতো বড় শক্তিগুলোর এখানে নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক স্বাভাবিক বাস্তবতা। এখন প্রশ্ন হলো, এই স্বার্থের প্রতিযোগিতা কি বিভাজন তৈরি করবে, নাকি পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অঞ্চলটিকে বিশ্বের সমৃদ্ধতম অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তুলবে।

বন্দর, রেলপথ, জ্বালানি সংযোগ, শিল্পাঞ্চল এবং ডিজিটাল অবকাঠামোকে যদি কেবল কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে দেখা হয়, তবে তা নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। কিন্তু এগুলোকে যদি বাণিজ্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে তা শান্তির শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে। এই ভৌগোলিক অবস্থানে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সেতু হিসেবে কাজ করার অনন্য সুযোগ রাখে। তবে বাংলাদেশের লক্ষ্য প্রতিবেশীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার নয়, বরং একটি বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতাকারী ও সহযোগিতার সেতুবন্ধনকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতি—’সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—আজকের বিভক্ত বিশ্বে এক বাস্তব কূটনৈতিক পথ। ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বর্ধিত সহযোগিতা, আসিয়ানের আঞ্চলিক সংযোগ উদ্যোগ এবং বিমসটেকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো প্রমাণ করে যে শান্তি ও উন্নয়নের জন্য যৌথ প্রচেষ্টার গুরুত্ব বাড়ছে। বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাসহ অংশীদার দেশগুলোর জন্য এই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সুফল নিশ্চিত করা গেলেই দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা আসবে।

গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর জন্য এই সম্মিলিত উন্নয়ন চিন্তার তাৎপর্য বিশাল। তাদের তরুণ কর্মশক্তি, বিশাল বাজার এবং উন্নয়নের সম্ভাবনা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ভূমিকা রাখতে পারে। একবিংশ শতাব্দীর সাফল্য কেবল সামরিক শক্তির মাপকাঠিতে নির্ধারিত হবে না, বরং কে কত বেশি মানুষের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছে এবং কে শান্তিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক বাস্তবতায় পরিণত করতে পারছে—তা-ই হবে প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি। সঠিক নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর কেবল একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং শান্তি ও মানবিক অগ্রগতির এক অনন্য করিডোর হয়ে উঠতে পারে।