লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণ আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং বিশ্ব ইজতেমা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনের বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি তাবলীগ জামাতের উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সমঝোতার মাধ্যমে ইজতেমা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলীগ জামাতের সাদপন্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। সভার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়। এর আগে জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও একই বিষয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।

সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে ২০২৫ সালের বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। ইজতেমার স্থান নিয়ে মন্ত্রী জানান, উভয় পক্ষই টঙ্গীর মাঠ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের সময় সাদপন্থী ও জুবায়েরপন্থীদের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত স্বাক্ষরিত হয়েছিল যে সাদপন্থী অনুসারীরা টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা করবেন না। তবে আজকের আলোচনায় সাদপন্থী প্রতিনিধিরা সেই সিদ্ধান্তের প্রতি দ্বিমত পোষণ করে সেখানে অংশগ্রহণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সাদপন্থীরা দুই পর্বের ইজতেমা শেষে রমজানের আগে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে একটি যৌক্তিক বিরতি দিয়ে টঙ্গী ময়দানে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আরও আলোচনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া মাওলানা সাদ সাহেবের আগমনের বিষয়টি ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত সময়ের তুলনায় অপরাধ চিত্র নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী হত্যা, অপহরণ ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধের হার হ্রাস পেয়েছে। তিনি জানান, রাজধানীতে এক শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি সক্রিয় রয়েছে এবং কোনো পুলিশ সদস্যের গাফিলতির তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। এছাড়া স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তাবলীগ জামাতের (সাদপন্থী) প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। এর আগে গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও একই বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রমিকদের জন্য জরুরি মহার্ঘ ভাতা চালুর দাবি সাইফুল হকের

বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণ আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০০:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং বিশ্ব ইজতেমা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনের বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি তাবলীগ জামাতের উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সমঝোতার মাধ্যমে ইজতেমা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তাবলীগ জামাতের সাদপন্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। সভার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়। এর আগে জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও একই বিষয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।

সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে ২০২৫ সালের বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। ইজতেমার স্থান নিয়ে মন্ত্রী জানান, উভয় পক্ষই টঙ্গীর মাঠ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের সময় সাদপন্থী ও জুবায়েরপন্থীদের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত স্বাক্ষরিত হয়েছিল যে সাদপন্থী অনুসারীরা টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা করবেন না। তবে আজকের আলোচনায় সাদপন্থী প্রতিনিধিরা সেই সিদ্ধান্তের প্রতি দ্বিমত পোষণ করে সেখানে অংশগ্রহণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সাদপন্থীরা দুই পর্বের ইজতেমা শেষে রমজানের আগে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে একটি যৌক্তিক বিরতি দিয়ে টঙ্গী ময়দানে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আরও আলোচনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া মাওলানা সাদ সাহেবের আগমনের বিষয়টি ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিগত সময়ের তুলনায় অপরাধ চিত্র নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী হত্যা, অপহরণ ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধের হার হ্রাস পেয়েছে। তিনি জানান, রাজধানীতে এক শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার ঘটনায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি সক্রিয় রয়েছে এবং কোনো পুলিশ সদস্যের গাফিলতির তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। এছাড়া স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তাবলীগ জামাতের (সাদপন্থী) প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। এর আগে গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও একই বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।