লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই কাউন্সিলর একরাম হত্যা: চিফ প্রসিকিউটর

টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল রোববার এই অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকা তিন আসামিকে এই মামলায় হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিও রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম অভিযোগ দাখিলের পর সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের পুরো ছকটি এঁকেছিলেন আবদুর রহমান বদি। তিনি বলেন, একরামুল হক বদির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন কৌশলে তার সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছিলেন এই সাবেক এমপি। প্রসিকিউটরের ভাষায়, বদির ‘মেটিকুলাস ডিজাইনেই’ এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছিল।

তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে মতের বিরুদ্ধে কাজ করলে আয়নাঘরে বন্দি কিংবা ক্রসফায়ারের নামে হত্যার শিকার হওয়ার যে ধারাবাহিকতা ছিল, একরাম হত্যা সেই ঘটনারই একটি অংশ বলে উল্লেখ করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার সময় একরামের মোবাইল ফোন চালু থাকায় তার স্ত্রী ও মেয়েরা গুলির আওয়াজ ও একরামের কথোপকথন শুনতে পেয়েছিলেন। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আসামি রুহুল আমিন ও আশেকুর রহমান সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন এবং তৎকালীন র‍্যাব কর্মকর্তারা সেই স্পটে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেছিলেন।

মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল, ওবায়দুল কাদের ও আবদুর রহমান বদি ছাড়াও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন, সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। প্রসিকিউশন জানায়, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শেখ হাসিনা একরামের স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে এ বিষয়ে কোনো উচ্চবাচ্য না করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন এবং ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন কাউন্সিলর একরামুল হক। ঘটনার সময় তার পরিবারের কাছে একটি অডিও রেকর্ড পৌঁছালে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সেখানে বেশ কয়েকজন আসামি ইতোমধ্যে গ্রেফতার আছে, তাদেরকে শোন অ্যারেস্ট করা হয়েছে এবং যারা পলাতক আছে, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেওয়া হয়েছে। সেই মামলাটিও আগামী ২৫/৮/২৬ তারিখে আপনার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে র‌্যাবের কথিত বন্দুক যুদ্ধে মারা যান টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হক। পরে র‌্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী’ এবং ‘ইয়াবার শীর্ষ গডফাদার’ আখ্যায়িত করে বলা হয়েছিল, একরামের বিরু

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই কাউন্সিলর একরাম হত্যা: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল রোববার এই অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়া অন্য মামলায় গ্রেফতার থাকা তিন আসামিকে এই মামলায় হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিও রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম অভিযোগ দাখিলের পর সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের পুরো ছকটি এঁকেছিলেন আবদুর রহমান বদি। তিনি বলেন, একরামুল হক বদির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন কৌশলে তার সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছিলেন এই সাবেক এমপি। প্রসিকিউটরের ভাষায়, বদির ‘মেটিকুলাস ডিজাইনেই’ এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছিল।

তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে মতের বিরুদ্ধে কাজ করলে আয়নাঘরে বন্দি কিংবা ক্রসফায়ারের নামে হত্যার শিকার হওয়ার যে ধারাবাহিকতা ছিল, একরাম হত্যা সেই ঘটনারই একটি অংশ বলে উল্লেখ করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, ঘটনার সময় একরামের মোবাইল ফোন চালু থাকায় তার স্ত্রী ও মেয়েরা গুলির আওয়াজ ও একরামের কথোপকথন শুনতে পেয়েছিলেন। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আসামি রুহুল আমিন ও আশেকুর রহমান সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন এবং তৎকালীন র‍্যাব কর্মকর্তারা সেই স্পটে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেছিলেন।

মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল, ওবায়দুল কাদের ও আবদুর রহমান বদি ছাড়াও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন, সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। প্রসিকিউশন জানায়, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শেখ হাসিনা একরামের স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে এ বিষয়ে কোনো উচ্চবাচ্য না করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন এবং ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন কাউন্সিলর একরামুল হক। ঘটনার সময় তার পরিবারের কাছে একটি অডিও রেকর্ড পৌঁছালে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

সেখানে বেশ কয়েকজন আসামি ইতোমধ্যে গ্রেফতার আছে, তাদেরকে শোন অ্যারেস্ট করা হয়েছে এবং যারা পলাতক আছে, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেওয়া হয়েছে। সেই মামলাটিও আগামী ২৫/৮/২৬ তারিখে আপনার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে র‌্যাবের কথিত বন্দুক যুদ্ধে মারা যান টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হক। পরে র‌্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী’ এবং ‘ইয়াবার শীর্ষ গডফাদার’ আখ্যায়িত করে বলা হয়েছিল, একরামের বিরু