লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমন ধানের আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকেরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশায় মাঠ পরিচর্যা ও আগাছা দমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সম্প্রতি বৃষ্টির পর জমিতে ধানের পাশাপাশি আগাছাও দ্রুত বেড়ে ওঠায় ভোর থেকেই নিড়ানি ও সার নিয়ে মাঠে নেমে পড়ছেন তারা। জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলার মাঠগুলোতে এখন চলছে নিড়ানি ও সার প্রয়োগের উৎসবমুখর কর্মযজ্ঞ।

কৃষকদের মতে, সময়মতো আগাছা পরিষ্কার না করলে তা ধানগাছের পুষ্টি ও সার শুষে নেয়, যার ফলে ধানগাছ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে দিন দিন উৎপাদন খরচ বাড়ায় কিছুটা চিন্তিত তারা। শ্রমিকের বাড়তি মজুরি, সার ও কীটনাশকের চড়া দামের মধ্যেও লোকসান এড়াতে আমনের জমিতে বাড়তি শ্রম ও অর্থ ব্যয় করছেন চাষিরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষক আবদুর রহমান বলেন, "আমন ধানের পরিচর্যার ক্ষেত্রে আগাছা পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টির পর জমিতে আগাছা দ্রুত বেড়ে যায়। তাই সময়মতো আগাছা পরিষ্কার না করলে ধানের গাছ ঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। ভালো ফলনের আশায় বাড়তি শ্রম দিয়ে হলেও জমি পরিষ্কার রাখতে হচ্ছে।"

শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, আমন মৌসুমে ধানের জমিতে কয়েক দফায় আগাছা পরিষ্কার করতে হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির পরপরই আগাছা দ্রুত বেড়ে ওঠে। জমিতে আগাছা বেশি হলে ধানের গাছের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। তাই নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ করে তারা আগাছা পরিষ্কার করছেন। একই চিত্র দেখা গেছে গোমস্তাপুর ও নাচোলের মাঠগুলোতেও। অন্যদিকে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে আশানুরূপ ফলন পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন ভোলাহাটের চাষি মো. শালেক।

ফসলের নিবিড় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাকলাইন হোসেন বলেন, "আমন ধানের ভালো ফলনের জন্য কৃষকদের নিয়মিত জমি পরিদর্শন, সময়মতো আগাছা দমন, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ধানের জমিতে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে কৃষকদের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সময়মতো আগাছা দমন ও সঠিক পরিচর্যা করা হলে ধানের গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব।"

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, "ধানের জমিতে নিয়মিত পরিচর্যা ও সময়মতো আগাছা দমন করা হলে ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে বৃষ্টির পর জমিতে আগাছার বিস্তার বেড়ে যায়, যা ধানগাছের প্রয়োজনীয় পানি ও পুষ্টি গ্রহণে প্রতিযোগিতা তৈরি করে। তাই সঠিক সময়ে আগাছা পরিষ্কার, সুষম সার প্রয়োগ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আমনের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।"

জনপ্রিয় সংবাদ

তাহসিফ সৌরিকে হত্যা করা হয়েছে, দাবি বাবার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমন ধানের আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকেরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশায় মাঠ পরিচর্যা ও আগাছা দমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সম্প্রতি বৃষ্টির পর জমিতে ধানের পাশাপাশি আগাছাও দ্রুত বেড়ে ওঠায় ভোর থেকেই নিড়ানি ও সার নিয়ে মাঠে নেমে পড়ছেন তারা। জেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলার মাঠগুলোতে এখন চলছে নিড়ানি ও সার প্রয়োগের উৎসবমুখর কর্মযজ্ঞ।

কৃষকদের মতে, সময়মতো আগাছা পরিষ্কার না করলে তা ধানগাছের পুষ্টি ও সার শুষে নেয়, যার ফলে ধানগাছ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে দিন দিন উৎপাদন খরচ বাড়ায় কিছুটা চিন্তিত তারা। শ্রমিকের বাড়তি মজুরি, সার ও কীটনাশকের চড়া দামের মধ্যেও লোকসান এড়াতে আমনের জমিতে বাড়তি শ্রম ও অর্থ ব্যয় করছেন চাষিরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষক আবদুর রহমান বলেন, "আমন ধানের পরিচর্যার ক্ষেত্রে আগাছা পরিষ্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টির পর জমিতে আগাছা দ্রুত বেড়ে যায়। তাই সময়মতো আগাছা পরিষ্কার না করলে ধানের গাছ ঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। ভালো ফলনের আশায় বাড়তি শ্রম দিয়ে হলেও জমি পরিষ্কার রাখতে হচ্ছে।"

শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, আমন মৌসুমে ধানের জমিতে কয়েক দফায় আগাছা পরিষ্কার করতে হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির পরপরই আগাছা দ্রুত বেড়ে ওঠে। জমিতে আগাছা বেশি হলে ধানের গাছের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। তাই নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ করে তারা আগাছা পরিষ্কার করছেন। একই চিত্র দেখা গেছে গোমস্তাপুর ও নাচোলের মাঠগুলোতেও। অন্যদিকে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে আশানুরূপ ফলন পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন ভোলাহাটের চাষি মো. শালেক।

ফসলের নিবিড় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাকলাইন হোসেন বলেন, "আমন ধানের ভালো ফলনের জন্য কৃষকদের নিয়মিত জমি পরিদর্শন, সময়মতো আগাছা দমন, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ধানের জমিতে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে কৃষকদের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সময়মতো আগাছা দমন ও সঠিক পরিচর্যা করা হলে ধানের গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব।"

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, "ধানের জমিতে নিয়মিত পরিচর্যা ও সময়মতো আগাছা দমন করা হলে ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে বৃষ্টির পর জমিতে আগাছার বিস্তার বেড়ে যায়, যা ধানগাছের প্রয়োজনীয় পানি ও পুষ্টি গ্রহণে প্রতিযোগিতা তৈরি করে। তাই সঠিক সময়ে আগাছা পরিষ্কার, সুষম সার প্রয়োগ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আমনের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।"