লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজারে ১৬ সবজির ১২টিরই কেজি ৮০ টাকা, স্বস্তি নেই ডিম-মুরগিতেও

রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দামে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজার পরিস্থিতি এখনো স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠেনি। সম্প্রতি সরবরাহের ঘাটতি কেটে যাওয়ায় কিছু সবজির দাম কমলেও অধিকাংশের দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার হাতিরপুল ও মোহাম্মদপুরের টাউন হল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে সাধারণত পাওয়া যায় এমন ১৬ ধরনের সবজির মধ্যে ১২টির দামই প্রতি কেজি ৮০ টাকা বা তার বেশি। ৮০ টাকার নিচে মিলছে কেবল চার ধরনের সবজি।

বাজারে এখন সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে, যা প্রতি কেজি ৪০ টাকা। অথচ সাধারণত পেঁপের কেজি থাকে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গোল বেগুন, প্রতি কেজি ১৫০ টাকা। এছাড়া লম্বা বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম ছুঁয়েছে ১০০ টাকা কেজি। বর্ষা মৌসুমে সাধারণত কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, পটোল, ধুন্দুল, কচুমুখি ও কচুর লতির সরবরাহ বাড়ে এবং দামও কম থাকে। তবে বাজারে এগুলোর বেশির ভাগই ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শসার কেজি ঠেকেছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

সারা বছর কমবেশি পাওয়া যায় এমন সবজিগুলোর দামও বেশ চড়া। বাজারে মাঝারি আকারের একটি লাউ ৭০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হাতিরপুল কাঁচাবাজারে আসা বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সিফাত শারমিন তাঁর ক্ষোভ ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, বেশি দামের কারণে এখন কম কম সবজি কিনতে হচ্ছে। আগে যেখানে এক কেজি কিনতেন, এখন কিনছেন আধা কেজি। তরকারি রান্না করছেন বেশি ঝোল দিয়ে। সবকিছুর দাম বেশি হওয়ায় এভাবে চলা ছাড়া আর উপায় নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে কাঁচা মরিচের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দুই সপ্তাহ আগে ৪০০ টাকা ছাড়ানো কাঁচা মরিচ গতকাল খুচরা বাজারে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজারে এর পাইকারি দর ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া জানান, ভারত থেকে কাঁচা মরিচের চালান বাজারে আসার পর দাম অনেকটাই কমেছে। পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে। তবে একসঙ্গে পাঁচ কেজি কিনলে ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে আলুর দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়ে ৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যদিও কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে ৫ কেজি আলু ১৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

মুরগি ও ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের ডজন ১৫০ টাকা এবং হালি ৫০ টাকা। গত সপ্তাহে এক ডজন ডিম কিনলে বিক্রেতারা কিছুটা ছাড় দিলেও এখন আর তা দিচ্ছেন না। টাউন হলের ডিম বিক্রেতা আজমল মিয়া জানান, খামার থেকে ১০০টি ডিম ১ হাজার ২২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে বলে তাঁরা দাম কমাতে পারছেন না। চালের বাজার অবশ্য স্থিতিশীল রয়েছে; মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, বিআর-২৮ ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৮ টাকা এবং কাটারি নাজির ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বেঙ্গালুরুতে সিজেপির বিক্ষোভে যোগ দিলেন ধ্রুব রাঠী ও প্রকাশ রাজ

বাজারে ১৬ সবজির ১২টিরই কেজি ৮০ টাকা, স্বস্তি নেই ডিম-মুরগিতেও

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:২৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দামে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজার পরিস্থিতি এখনো স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠেনি। সম্প্রতি সরবরাহের ঘাটতি কেটে যাওয়ায় কিছু সবজির দাম কমলেও অধিকাংশের দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার হাতিরপুল ও মোহাম্মদপুরের টাউন হল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে সাধারণত পাওয়া যায় এমন ১৬ ধরনের সবজির মধ্যে ১২টির দামই প্রতি কেজি ৮০ টাকা বা তার বেশি। ৮০ টাকার নিচে মিলছে কেবল চার ধরনের সবজি।

বাজারে এখন সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে, যা প্রতি কেজি ৪০ টাকা। অথচ সাধারণত পেঁপের কেজি থাকে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গোল বেগুন, প্রতি কেজি ১৫০ টাকা। এছাড়া লম্বা বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম ছুঁয়েছে ১০০ টাকা কেজি। বর্ষা মৌসুমে সাধারণত কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, পটোল, ধুন্দুল, কচুমুখি ও কচুর লতির সরবরাহ বাড়ে এবং দামও কম থাকে। তবে বাজারে এগুলোর বেশির ভাগই ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শসার কেজি ঠেকেছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

সারা বছর কমবেশি পাওয়া যায় এমন সবজিগুলোর দামও বেশ চড়া। বাজারে মাঝারি আকারের একটি লাউ ৭০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হাতিরপুল কাঁচাবাজারে আসা বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সিফাত শারমিন তাঁর ক্ষোভ ও অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, বেশি দামের কারণে এখন কম কম সবজি কিনতে হচ্ছে। আগে যেখানে এক কেজি কিনতেন, এখন কিনছেন আধা কেজি। তরকারি রান্না করছেন বেশি ঝোল দিয়ে। সবকিছুর দাম বেশি হওয়ায় এভাবে চলা ছাড়া আর উপায় নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে কাঁচা মরিচের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দুই সপ্তাহ আগে ৪০০ টাকা ছাড়ানো কাঁচা মরিচ গতকাল খুচরা বাজারে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজারে এর পাইকারি দর ছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া জানান, ভারত থেকে কাঁচা মরিচের চালান বাজারে আসার পর দাম অনেকটাই কমেছে। পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে। তবে একসঙ্গে পাঁচ কেজি কিনলে ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে আলুর দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ৪-৫ টাকা বেড়ে ৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যদিও কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে ৫ কেজি আলু ১৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

মুরগি ও ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের ডজন ১৫০ টাকা এবং হালি ৫০ টাকা। গত সপ্তাহে এক ডজন ডিম কিনলে বিক্রেতারা কিছুটা ছাড় দিলেও এখন আর তা দিচ্ছেন না। টাউন হলের ডিম বিক্রেতা আজমল মিয়া জানান, খামার থেকে ১০০টি ডিম ১ হাজার ২২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে বলে তাঁরা দাম কমাতে পারছেন না। চালের বাজার অবশ্য স্থিতিশীল রয়েছে; মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, বিআর-২৮ ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৮ টাকা এবং কাটারি নাজির ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।