লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম না বাড়ায় ৬০ শতাংশ জরুরি ওষুধের উৎপাদন বন্ধ: বাপি

দেশে মূল্যস্ফীতি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বাড়লেও দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের দাম সমন্বয় করা হয়নি। ফলে লোকসানের মুখে পড়ে তালিকাভুক্ত ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল行业 ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপির নিজস্ব কার্যালয়ে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় বাপির নেতারা জানান, ১৯৯৪ সালের মূল্য নির্ধারণ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এখনো এসব ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। অথচ গত ৩২ বছরে মাত্র দুইবার ওষুধের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে লোকসান এড়াতে উৎপাদন বন্ধ রাখায় রোগীরা বেশি দামে বিকল্প ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বাপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ১৯৯৪ সালে ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৯টি ওষুধ কখনোই উৎপাদনের জন্য নিবন্ধিত হয়নি। বাকি ৯৮টি ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলেও বর্তমানে উৎপাদন খরচ তুলতে না পারায় প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

ওষুধশিল্পকে কেবল মূল্য নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সমিতির সাবেক মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, এতে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করার পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ ও টেকসই মূল্য নির্ধারণ নীতি প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, জনগণকে সুলভ মূল্যে ওষুধ দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। সরকার চাইলে ভর্তুকি বা সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে কম দামে এগুলো সরবরাহ করতে পারে, তবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কোনো সহায়তা ছাড়া লোকসান দিয়ে ওষুধ উৎপাদনে বাধ্য করা বাস্তবসম্মত নয়।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ওষুধের উৎপাদন ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন বাপির মহাসচিব মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান। তিনি বলেন, ওষুধ তৈরির প্রক্রিয়া মাঝপথে বন্ধ করা যায় না বলে বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর, বড় ইউপিএস এবং বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হয়। আবার গ্যাস সংকটের কারণে জেনারেটর চালাতে গিয়েও ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা ওষুধশিল্পের প্রতিনিধিদের সাথে বসে নিয়মিত তালিকা হালনাগাদ করা এবং উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা করে নির্দিষ্ট সময় পরপর ওষুধের দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন

দাম না বাড়ায় ৬০ শতাংশ জরুরি ওষুধের উৎপাদন বন্ধ: বাপি

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৩:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

দেশে মূল্যস্ফীতি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বাড়লেও দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের দাম সমন্বয় করা হয়নি। ফলে লোকসানের মুখে পড়ে তালিকাভুক্ত ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল行业 ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপির নিজস্ব কার্যালয়ে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় বাপির নেতারা জানান, ১৯৯৪ সালের মূল্য নির্ধারণ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এখনো এসব ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। অথচ গত ৩২ বছরে মাত্র দুইবার ওষুধের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে লোকসান এড়াতে উৎপাদন বন্ধ রাখায় রোগীরা বেশি দামে বিকল্প ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বাপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ১৯৯৪ সালে ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৯টি ওষুধ কখনোই উৎপাদনের জন্য নিবন্ধিত হয়নি। বাকি ৯৮টি ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলেও বর্তমানে উৎপাদন খরচ তুলতে না পারায় প্রায় ৬০ শতাংশ ওষুধের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

ওষুধশিল্পকে কেবল মূল্য নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সমিতির সাবেক মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, এতে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করার পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ ও টেকসই মূল্য নির্ধারণ নীতি প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, জনগণকে সুলভ মূল্যে ওষুধ দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। সরকার চাইলে ভর্তুকি বা সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে কম দামে এগুলো সরবরাহ করতে পারে, তবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কোনো সহায়তা ছাড়া লোকসান দিয়ে ওষুধ উৎপাদনে বাধ্য করা বাস্তবসম্মত নয়।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ওষুধের উৎপাদন ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন বাপির মহাসচিব মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান। তিনি বলেন, ওষুধ তৈরির প্রক্রিয়া মাঝপথে বন্ধ করা যায় না বলে বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর, বড় ইউপিএস এবং বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হয়। আবার গ্যাস সংকটের কারণে জেনারেটর চালাতে গিয়েও ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা ওষুধশিল্পের প্রতিনিধিদের সাথে বসে নিয়মিত তালিকা হালনাগাদ করা এবং উৎপাদন ব্যয় বিবেচনা করে নির্দিষ্ট সময় পরপর ওষুধের দাম সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন।